পুবের কলম, ওয়েবডেস্ক: পাকিস্তানের মধ্যস্থতায় যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে ১৫ দিনের যুদ্ধবিরতি কার্যকর হওয়াকে কেন্দ্র করে ভারতের রাজনীতিতে শুরু হয়েছে তীব্র তরজা। এই ঘটনাকে হাতিয়ার করে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির বিরুদ্ধে সরব হয়েছে কংগ্রেস।
 
কংগ্রেস নেতা জয়রাম রমেশ এই ঘটনাকে ভারতের বিদেশনীতির বড় ব্যর্থতা বলে দাবি করেছেন। তাঁর বক্তব্য, পাকিস্তানের মধ্যস্থতায় যুদ্ধবিরতি কার্যকর হওয়া প্রমাণ করে যে, আন্তর্জাতিক কূটনীতিতে ইসলামাবাদের গুরুত্ব বেড়েছে, যা ভারতের কৌশলগত অবস্থানকে প্রশ্নের মুখে ফেলেছে।


রমেশ আরও বলেন, ‘স্বঘোষিত বিশ্বগুরু’ হিসেবে যেভাবে নিজেকে তুলে ধরেছেন প্রধানমন্ত্রী, এই ঘটনার পর তা ভেঙে পড়েছে। তাঁর অভিযোগ, ভারতের কূটনীতি অতিরিক্ত ব্যক্তিনির্ভর হয়ে পড়েছে এবং তার ফলেই এই পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। পাশাপাশি বিদেশমন্ত্রী এস জয়শঙ্করকেও কটাক্ষ করতে ছাড়েননি তিনি। কংগ্রেসের দাবি, পাকিস্তানকে আন্তর্জাতিক মঞ্চে একঘরে করার যে কৌশল ভারত নিয়েছিল, তা ব্যর্থ হয়েছে।
মুম্বই হামলার পর প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী মনমোহন সিংয়ের আমলের কূটনৈতিক সাফল্যের উদাহরণ টেনে বর্তমান সরকারের সমালোচনা করেন রমেশ।
 
অন্যদিকে, এই বিতর্কের কেন্দ্রে রয়েছে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের ঘোষণা। তিনি জানিয়েছেন, পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ এবং সেনাপ্রধান আসিম মুনিরের প্রস্তাবে সাড়া দিয়ে ইরানের সঙ্গে দু’সপ্তাহের যুদ্ধবিরতিতে সম্মত হয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। শর্ত হিসেবে ইরানকে হরমুজ প্রণালি খুলে দেওয়ার কথাও বলা হয়েছে। এই পরিস্থিতিতে ভারতের বিরোধীরা প্রশ্ন তুলছে— আন্তর্জাতিক কূটনীতিতে ভারতের অবস্থান ঠিক কোথায় দাঁড়িয়ে? যদিও এই বিষয়ে কেন্দ্রীয় সরকারের তরফে এখনও কোনও বিস্তারিত প্রতিক্রিয়া সামনে আসেনি।