পুবের কলম, ওয়েবডেস্ক: বিহারের পূর্ব চম্পারণ জেলায় বিষমদ পানে মৃত্যুর মিছিল অব্যাহত। মঙ্গলবার ভোরে জিতেন্দ্র শাহ নামে আরও এক ব্যক্তির মৃত্যুর পর এই ঘটনায় মোট মৃতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১১। এই ঘটনার ভয়াবহতা এবং আন্তঃসীমান্ত পাচারচক্রের হদিশ মেলায় পুলিশি তৎপরতা তুঙ্গে পৌঁছেছে।
 
মঙ্গলবারের সর্বশেষ শিকার জিতেন্দ্র শাহ ছিলেন রঘুনাথপুর থানা এলাকার বালগঙ্গার বাসিন্দা।

তাঁর মৃত্যুতে পাঁচটি কন্যাসন্তান নিয়ে অথৈ জলে পড়েছে তাঁর পরিবার। জিতেন্দ্রর ১৬ বছর বয়সী মেয়ে রানি কুমারীর অভিযোগ, কোনো সাধারণ দুর্ঘটনা নয়, বরং তাঁর বাবাকে শত্রুতার জেরে বিষমদ খাওয়ানো হয়েছিল। রানি বলেন, “১ এপ্রিল প্রতিবেশীরা আমার বাবাকে মদ দেয়। তারপর থেকেই তারা পলাতক।
বাবার জীবনের বিনিময়ে আমরা বিচার চাই।”
 
গত ২ এপ্রিল থেকে মতিহারির বিভিন্ন এলাকায় বিষমদ পানের পর মানুষ অসুস্থ হতে শুরু করেন। এরপর থেকে প্রতিদিন বাড়তে থাকে মৃত্যুর সংখ্যা। ৪ এপ্রিল- চান্দু কুমার, প্রমোদ কুমার, পরীক্ষাণ মাঝি, হীরালাল ভগত, লালকিশোর রাই, সম্পত শাহ এবং লাড্ডু শাহ—এই সাতজনের মৃত্যু হয়।
৫ এপ্রিল- মহম্মদ ইলিয়াস আনসারি, যোধা মাঝি এবং আরও এক লাড্ডু শাহ (বালগঙ্গার বাসিন্দা) প্রাণ হারান। ৭ এপ্রিল- ভোরে জিতেন্দ্র শাহের মৃত্যুর পর মোট মৃতের সংখ্যা ১১-তে পৌঁছায়।
 
বর্তমানে প্রায় ১৫ জন হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। বিষক্রিয়ার তীব্রতা এতটাই ছিল যে কমপক্ষে ৬ জন ব্যক্তি তাঁদের দৃষ্টিশক্তি হারিয়েছেন বলে খবর পাওয়া গেছে। পূর্ব চম্পারণের পুলিশ সুপার স্বর্ণ প্রভাত জানিয়েছেন, এই বিষমদ কাণ্ডের মূলে রয়েছে নেপাল সীমান্ত দিয়ে পরিচালিত একটি সুসংগঠিত চোরাচালান চক্র। তদন্তে নেমে পুলিশ ইতিমধ্যেই সাতজনকে গ্রেফতার করেছে।