পুবের কলম ওয়েবডেস্কঃ  বৃষ্টির সৌজন্যে চলতি আইপিএলে হারের হ্যাটট্রিক করা থেকে বেঁচে গিয়েছে কলকাতা নাইট রাইডার্স। রবিবার ইডেনে ম্যাচ শুরু হতেই নাইটদের চেপে ধরে পাঞ্জাব কিংস। তখনই ত্রাতার ভূমিকায় অবতীর্ন হয় বৃষ্টি। খেলা বন্ধ হয়ে যায়। তবে যেটুকু খেলা হয়েছে, তার মধ্যেই ফিরে যান নাইটদের ‘ফ্লপ মাস্টার’ ক্যামেরন গ্রিন। দুটি বল খেলে ৪ করেন অজি তারকা। যাঁকে এ বার ২৫ কোটি ২০ লক্ষ টাকায় দলে নিয়েছে শাহরুখ খানের দল। অস্ট্রেলিয়ান অলরাউন্ডার এমনিতেই ম্যাচে বল করছেন না। করছেন শুধুমাত্র ব্যাটিং।

যে ব্যাটিংয়ের কথা যত কম বলা যায় ততই ভালো। রয়েছেন অলরাউন্ডার হিসেবে। অথচ করছেন শুধুমাত্র ব্যাটিং। তাঁর বল না করায় দলে ভারসাম্যও নষ্ট হচ্ছে। গ্রিনের বল না করা নিয়ে ক্রিকেট অস্ট্রেলিয়ার সঙ্গে বাক-বিতন্ডায় জড়িয়েছেন নাইট অধিনায়ক অজিঙ্কা রাহানে। 

ক্রিকেট মহল বলছে, কেকেআরের ২৫ কোটি জলে গিয়েছে। আইপিএলের ইতিহাসে সবচেয়ে দামি বিদেশি ক্রিকেটার তিনি। কোষাগার থেকে এত অর্থ ঢালতে হয়েছে, ফলে গ্রিনের পারফরম্যান্সের ওপরে যে আলাদা করে নজর থাকবে তা আর বলার অপেক্ষা রাখে না। সোজা কথায়, গ্রিনের বদলি ভাবার সময় চলে এসেছে।

প্রতিযোগিতায় ঘুরে দাঁড়াতে হলে নাইটদের এখন জয় ছাড়া উপায় নেই। ক্রিকেট বিশেষজ্ঞদের একাংশ মনে করছে, গ্রিনকে ছাড়া প্রথম একাদশ তৈরি করতে হবে নাইটদের। আশা করা হচ্ছিল, আন্দ্রে রাসের অভাব পূরণ করতে পারবেন গ্রিন। সেটা যে হবে না, তা এখন পরিস্কার। 

প্রথম ম্যাচে মুম্বই ইন্ডিয়ান্সের বিরুদ্ধে অজি তারকা করেছিলেন ১৮। তারপরে সানরাইজার্স হায়দরবাদের বিরুদ্ধে করেন মাত্র ২। আর রবিবার ইডেনে ফের ব্যর্থ হন গ্রিন (৪)। গ্রিনকে নিয়ে কৌতুহলের মুল কারণ দুটি। প্রথমত তাঁর আকাশ ছোঁয়া দাম।

যা এখন জলে গিয়েছে বলে মনে করা হচ্ছে। এবং দ্বিতীয়ত অলরাউন্ডার হিসেবে তাঁকে খেলাতে না পারা। ব্যাটিংয়ের ব্যর্থতা যে বোলিং দিয়ে ঢেকে দেবেন, তারও কোনও উপায় আপাতত নেই। সুনীল গাভাসকর তো বলেই দিয়েছেন, ‘ বল করতে না পারলে গ্রিনকে শুধু ব্যাটার হিসেবেই দেখা উচিৎ। আর ব্যাটার হিসেবে দেখলে ওর প্রথম একাদশে জায়গা হয় না। টিম সেইফার্টের মত আগ্রাসী ব্যাটারকে ওর জন্য বাইরে বসে থাকতে হচ্ছে। রবিচন্দ্রন অশ্বিন বলছেন, ‘বল করতে না পারলে গ্রিনের টাকা কেটে নেওয়া উচিৎ। পরের ম্যাচে সুনীল নারিনকে দিয়ে ওপেন করানোর কথা ভাবতে পারে টিম ম্যানেজমেন্ট।’ এখন দেখার ২৫ কোটির গ্রিনকে প্রথম একাদশের বাইরে রাখার দুঃসাহস কেকেআর ম্যানেজমেন্ট দেখাতে পারে কি না।