পুবের কলম ওয়েবডেস্কঃ আগামীকাল বুধবার ৮ এপ্রিল মনোনয়ন জমা দেবেন মুখ্যমন্ত্রী তথা তৃণমূল সুপ্রিমো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। পূর্ব ঘোষণা অনুযায়ী, কালীঘাট থেকে পায়ে হেঁটে যাবেন আলিপুরের সার্ভে বিল্ডিংয়ে। সেখানে গিয়ে তিনি মনোনয়ন জমা দেবেন। উল্লেখ্য, বরাবরই সব সম্প্রদায়কে নিয়ে চলার কথাই বলেছেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তাঁর বিধানসভা কেন্দ্র ভবানীপুর বিভিন্ন সম্প্রদায়ের মিলনক্ষেত্র। তৃণমূলের দাবি, মমতার মনোনয়ন ঘিরে দেখা যাবে সমস্ত সম্প্রদায়ের মানুষের অংশগ্রহণ।

রাজনৈতিক মহলের একাংশ এই ঘটনাকে বলছে, আগামীকাল আক্ষরিক অর্থে প্রতিফলিত হতে চলেছে ভবানীপুরের কসমোপলিটান বা বহুত্ববাদী রূপ। 

এবারের বিধানসভা নির্বাচনে রাজ্যের সবচেয়ে হেভিওয়েট কেন্দ্র হল ভবানীপুর। এই কেন্দ্র থেকে মুখ্যমন্ত্রীর প্রতিদ্বন্দ্বী হিসেবে ভোটে লড়ছেন বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী। তিনি কয়েক দিন আগেই মনোনয়ন জমা দিয়েছেন। তাঁর মনোনয়ন পেশের দিন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহের উপস্থিতিতে যে 'মেরুকরণে'র আবহ তৈরি হয়েছিল। এবার তার মোক্ষম জবাব দিতে চাইছেন তৃণমূল নেত্রী।

তিনি মনোনয়ন পর্বেই দেখিয়ে দিতে চান 'আমি সকলের লোক।'আর সেই জায়গা থেকেই 'মিনি ইন্ডিয়া' খ্যাত ভবানীপুরের সমস্ত ধর্ম, ভাষা ও সম্প্রদায়ের মানুষের অংশীদারিত্বকে পাথেয় করেই নিজের নির্বাচনী লড়াইয়ের আনুষ্ঠানিক শঙ্খনাদ করতে চলেছেন তিনি, এমনটাই দাবি তৃণমূল কংগ্রেসের। 

উল্লেখ্য, ভবানীপুর বিধানসভা কেন্দ্র কলকাতা পুরসভার মোট আটটি ওয়ার্ড নিয়ে গঠিত। বিভিন্ন সম্প্রদায় বিভিন্ন ভাষাভাষীর মানুষ বসবাস করার কারণেই অনেকেই একে 'মিনি ইন্ডিয়া' বলে আখ্যা দিয়ে থাকেন। পরিসংখ্যান বলছে, এই কেন্দ্রের ৭২ এবং ৮২ নম্বর ওয়ার্ড পুরোপুরি বাঙালি অধ্যুষিত। অন্যদিকে, ৬৩, ৭০, ৭১, ৭৩ এবং ৭৪ নম্বর ওয়ার্ডে বসবাস করেন বিপুল সংখ্যক অবাঙালি।

তাঁদের মধ্যে রয়েছেন গুজরাতি, পঞ্জাবি, মাড়োয়ারি এবং জৈন ধর্মাবলম্বী মানুষ। আবার ৭৭ নম্বর ওয়ার্ডে মুসলিম সম্প্রদায়ের মানুষের সংখ্যাধিক্য রয়েছে। এর পাশাপাশি কর্মসূত্রে বিহার, ওড়িশা এবং ঝাড়খণ্ড থেকে আসা বহু মানুষ এই এলাকায় দীর্ঘদিন ধরে বসবাস করছেন। এই বৈচিত্র্যময় জনবিন্যাসকে মাথায় রেখেই ভোটের রণকৌশল সাজিয়েছে রাজ্যের শাসক দল।

তৃণমূলের সূত্র থেকে জানা যাচ্ছে,  মনোনয়ন পর্বে মুখ্যমন্ত্রীর প্রস্তাবক হিসেবে যাঁদের নাম থাকছে, তাঁদের মধ্যে দিয়ে সমাজের সব স্তরের প্রতিনিধিত্ব নিশ্চিত করার একটি সুনির্দিষ্ট চেষ্টা করা হয়েছে। প্রস্তাবকদের তালিকায় থাকার কথা রয়েছে রাজ্যের মন্ত্রী তথা কলকাতার মেয়র ফিরহাদ হাকিমের স্ত্রী ইসমাত হাকিমের। এছাড়া ৭১ নম্বর ওয়ার্ডের তৃণমূল ব্লক সভাপতি বাবলু সিংহ এবং ভবানীপুর এডুকেশন সোসাইটির মীরজ শাহকেও মুখ্যমন্ত্রীর প্রস্তাবক হিসেবে দেখা যেতে পারে।