পুবের কলম ওয়েবডেস্কঃ বামেদের পর এবার নির্বাচনী ইস্তেহার প্রকাশ করল কংগ্রেস। মঙ্গলবার মধ্য কলকাতার একটি পাঁচতারা হোটেলে সর্বভারতীয় কংগ্রেস সভাপতি মল্লিকার্জুন খাড়গে ইস্তেহার প্রকাশ করেন। সঙ্গে ছিলেন কংগ্রেস সাংসদ জয়রাম রমেশ, গুলাম আহমেদ মীর, প্রদেশ কংগ্রেস সভাপতি শুভঙ্কর সরকার প্রমুখ।
আরও পড়ুন:
কংগ্রেসের ইস্তেহারের মূল পাঁচটি প্রতিশ্রুতি তুলে ধরে খাড়গে জানান, মহিলাদের জন্য মাসে ২০০০, কৃষকদের জন্য বছরে ১৫,০০০ ‘কৃষক সম্মান’, ‘বিধান স্বাস্থ্য সুরক্ষা’, ‘যুব সম্মান’ এবং ‘শিক্ষার সম্মান’ কর্মসূচি চালু করা হবে। খাড়গে স্পষ্ট করেন, “এটা অর্থ বিলি নয়, এটা স্বস্তি, সংস্কার এবং ভবিষ্যৎ নির্মাণের পরিকল্পনা।” ইস্তেহার প্রকাশের মঞ্চে বিজেপির বিরুদ্ধে তীব্র আক্রমণ শানালেও মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ও তৃণমূল কংগ্রেসের প্রতি তুলনামূলক নরম সুরেই কথা বলেন খাড়গে।
তাঁর বক্তব্য, “বাংলার মানুষ তৃণমূলের সীমাবদ্ধতা এবং বিজেপির বিভাজনের রাজনীতি—দুটোই দেখেছে। কংগ্রেসই প্রকৃত তৃতীয় বিকল্প।”আরও পড়ুন:
তৃণমূলকে আক্রমণ করে খাড়গে বলেন, “১৫ বছর ক্ষমতায় থেকেও রাজ্যে প্রকৃত উন্নয়ন হয়নি।” একই সঙ্গে বিজেপির বিরুদ্ধে তাঁর অভিযোগ, তারা কেবল মেরুকরণের রাজনীতি করে, শিল্পোন্নয়ন বা কর্মসংস্থানের কোনও রূপরেখা নেই। কেন্দ্রীয় সংস্থার ভয় দেখিয়ে কংগ্রেস নেতাদের দলে টানার অভিযোগও তোলেন তিনি। রাজ্যের প্রধান সমস্যা হিসেবে বেকারত্বের কথা তুলে ধরে কংগ্রেস ‘বেঙ্গল এমপ্লয়মেন্ট গ্যারান্টি মিশন’-এর ঘোষণা করেছে।
পাশাপাশি এআই-ভিত্তিক শিক্ষা ও দক্ষতা উন্নয়ন, মহিলাদের জন্য বিনামূল্যে শিক্ষা, ১০ লক্ষ পর্যন্ত স্বাস্থ্যবিমা, ফাস্ট ট্র্যাক আদালত গঠনসহ একাধিক প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছে। কৃষকদের জন্য বিনামূল্যে বিদ্যুৎ, ন্যূনতম সহায়ক মূল্যে ফসল ক্রয়ও ইস্তেহারে রয়েছে।আরও পড়ুন:
আইনশৃঙ্খলা নিয়ে কংগ্রেসের দাবি, পুলিশকে স্বাধীনভাবে কাজ করার সুযোগ দিতে হবে। খাড়গে বলেন, “বাংলার সামনে তিনটি পথ—তৃণমূলের দুর্নীতি, বিজেপির সাম্প্রদায়িক বিভাজন, আর কংগ্রেসের কল্যাণমূলক মডেল। মানুষকে ঠিক করতে হবে তারা স্বল্পমেয়াদি না দীর্ঘমেয়াদি রাজনীতি চায়।” অন্যদিকে, জয়রাম রমেশ বলেন, “২০০৬ সালের পর আবার আমরা সব আসনে লড়ছি, এটা দলের জন্য বড় বুস্টার ডোজ।
” তিনি বিজেপির বিরুদ্ধে ভোটার তালিকা থেকে নাম বাদ দেওয়ার চেষ্টার অভিযোগও তোলেন। একই সঙ্গে বাংলার সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য নিয়ে রাজনীতির অভিযোগ তুলে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর ও বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের প্রসঙ্গ টানেন তিনি। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সাম্প্রতিক কংগ্রেস-বিরোধী মন্তব্য প্রসঙ্গে খাড়গে বলেন, “এটা জোটের প্রশ্ন নয়। যেখানে প্রয়োজন, আমরা আলাদা লড়ি। কিন্তু জাতীয় স্বার্থে বিজেপির বিরুদ্ধে আমরা একসঙ্গে আসি।” সব মিলিয়ে, ২০২৬-এর আগে বাংলার রাজনীতিতে ত্রিমুখী লড়াইয়ের ইঙ্গিত আরও স্পষ্ট করল কংগ্রেসের এই ঘোষণা।