পুবের কলম ওয়েবডেস্কঃ তিনি রাজ্যের মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিক, যার কাঁধে রয়েছে রাজ্যের নির্বাচনের দায়িত্ব। সংবিধান অনুযায়ী, নিরপেক্ষভাবে কাজই করা হল নির্বাচন কমিশনের নৈতিক কর্তব্য। কিন্তু, বিরোধী দলগুলো প্রথম থেকেই অভিযোগ করে আসছে, কমিশন বিজেপির নির্দেশে কাজ করছে। রাজ্যে নির্বাচনী বিধি শুরু হতেই সম্প্রতি কেন্দ্রীয় বাহিনীর জওয়ানদের বিজেপির কাটআউট নিয়ে ঘুরে বেড়ানোর অভিযোগ উঠেছিল। আর এবার গুরুতর অভিযোগ উঠল রাজ্যের মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিকের বিরুদ্ধে। রাজ্যের এক বিজেপি নেতাকে নাকি মনোজ আগরওয়ালের সঙ্গে ঘুরতে দেখা গিয়েছে। এমনই অভিযোগ তুলে সরব হয়েছে তৃণমূল কংগ্রেস। 

জানা যাচ্ছে, শনিবার নন্দীগ্রামে গিয়েছিলেন মনোজ আগরওয়াল । সেখানে তিনি একাধিক জায়গায় ঘুরে বেড়িয়ে সাধারণ ভোটারদের সঙ্গে কথা বলে খোঁজ খবর নেন তিনি।

অভিযোগ উঠেছে, নন্দীগ্রামে তাঁর সঙ্গে ওই বিজেপি নেতাকে ঘুরে বেড়াতে দেখা গিয়েছে। সোমবার সাংবাদিক বৈঠক করে সেই ছবি সামনে আনেন তৃণমূলের রাজ্য সম্পাদক কুণাল ঘোষ এবং রাজ্যের মন্ত্রী তথা তৃণমূল নেত্রী চন্দ্রিমা ভট্টাচার্য। তৃণমূলের দাবি, ওই বিজেপি নেতার নাম তপন কুমার মহাপাত্র। তিনি নন্দীগ্রামের কালীচরণপুর অঞ্চলের বিজেপির আহ্বায়ক। উল্লেখ্য, রাজ্যে বিধানসভা নির্বাচনের আর মাত্র কয়েক সপ্তাহ বাকি। তারওপর নন্দীগ্রামে বিজেপির প্রার্থী হয়েছেন বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী। ফলে স্বাভাবিকভাবেই এটি হেভিওয়েট কেন্দ্র। সেই পরিস্থিতিতে মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিকের সঙ্গে বিজেপি নেতার ছবি অন্য বার্তা দিচ্ছে বলেই মনে করছে তৃণমূল কংগ্রেস। 

তৃণমূলের দাবি, ওই বিজেপি নেতা শুভেন্দু অধিকারীর ঘনিষ্ঠ হিসেবসি পরিচিত।

তৃণমূলের প্রশ্ন, কীভাবে রাজ্যের মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিক বিজেপি নেতাকে নিয়ে ঘুরলেন? তাঁর নিরপেক্ষতা কোথায়? কুণাল ঘোষ দাবি করেছেন, একজন সিইও বিজেপির ক্যাডারকে নিয়ে ঘুরে বেড়িয়ে নজিরবিহীন দলদাসত্ব চালিয়ে যাচ্ছেন।” চন্দ্রিমা ভট্টাচার্যও কমিশনের ভূমিকা ও মনোজ আগরওয়ালের নিরপেক্ষতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন। তাঁর অভিযোগ, রাজ্যে নির্বাচনের কাজে নিযুক্ত হওয়া একাধিক পর্যবেক্ষকের সঙ্গে বিজেপির যোগ রয়েছে। সাংবাদিক বৈঠকে কুণাল ঘোষ আরও তীব্র ভাষায় আক্রমণ শানিয়ে বলেন, “নির্বাচন কমিশন এখন পুরোপুরি বিজেপির সম্প্রসারিত শাখা হিসেবে কাজ করছে। রাজ্যে সাংগঠনিক শক্তির অভাবে বিজেপি কমিশনের যন্ত্রপাতির উপর নির্ভর করছে।”

নন্দীগ্রাম সফরের প্রসঙ্গ তুলে তিনি বলেন, একজন নিরপেক্ষ আধিকারিকের সঙ্গে কোনও রাজনৈতিক দলের প্রতিনিধির উপস্থিতি অত্যন্ত উদ্বেগজনক। পাশাপাশি তিনি অভিযোগ করেন, “বৈধ ভোটারদের নাম ভোটার তালিকা থেকে বাদ দেওয়া হচ্ছে এবং অন্য রাজ্যের ভোটারদের তথ্য যুক্ত করার চেষ্টা চলছে।

দলের নেত্রী চন্দ্রিমা ভট্টাচার্য, রাজ্য সাধারণ সম্পাদক কুণাল ঘোষকে সঙ্গে নিয়ে বলেন, “আমরা বারবার বলে আসছি যে নির্বাচন কমিশন নিরপেক্ষ নয়। তারা কেন্দ্রের সরকারের নির্দেশে কাজ করছে এবং কার্যত বিজেপির এজেন্ট হিসেবে ভূমিকা নিচ্ছে। সাম্প্রতিক ঘটনাগুলি আবারও সেই অভিযোগের সত্যতা প্রমাণ করছে।” তিনি আরও বলেন,  “আমরা বারবার বলে আসছি যে নির্বাচন কমিশন নিরপেক্ষ নয়। তারা কেন্দ্রের সরকারের নির্দেশে কাজ করছে এবং কার্যত বিজেপির এজেন্ট হিসেবে ভূমিকা নিচ্ছে। সাম্প্রতিক ঘটনাগুলি আবারও সেই অভিযোগের সত্যতা প্রমাণ করছে।” তৃণমূল নেতৃত্ব জানায়, তারা একাধিকবার নির্বাচন কমিশনের কাছে অভিযোগ জানিয়েছে এবং বিষয়গুলি জনসমক্ষে ও সামাজিক মাধ্যমে তুলে ধরেছে। কিছু ক্ষেত্রে পদক্ষেপ নেওয়া হলেও, একই ধরনের ঘটনা এখনও ঘটছে বলে দাবি তাদের। এছাড়া, কমিশন ইচ্ছাকৃতভাবে অন্যান্য রাজ্য থেকে এমন কিছু আধিকারিক নিয়োগ করছে, যাদের বিজেপির সঙ্গে ঘনিষ্ঠতার অভিযোগ রয়েছে—এমন দাবিও তোলে শাসকদল। যদিও পাল্টা বিজেপি দাবি করেছে, সিইও নিরপেক্ষভাবে কাজ করছেন। তিনি সাধারণ মানুষের কাছে যাচ্ছেন এবং মানুষের সঙ্গে কথা বলছেন।