বাড়তে চলেছে অত্যাবশ্যকীয় ও জীবনদায়ী ওষুধের দাম, যা সরাসরি প্রভাব ফেলবে সাধারণ মানুষের দৈনন্দিন জীবনে। পাইকারি মূল্য সূচক বৃদ্ধির জেরে কেন্দ্রীয় নিয়ন্ত্রক সংস্থা সর্বোচ্চ খুচরো মূল্য বাড়ানোর অনুমতি দেওয়ায়, আজ থেকেই প্রায় ৯০০ ধরনের ওষুধের দাম বাড়া কার্যত নিশ্চিত। এতে চিকিৎসার খরচ আরও বেড়ে মধ্যবিত্ত ও নিম্নবিত্তের উপর চাপ বাড়বে বলেই আশঙ্কা।
কেন্দ্রীয় ওষুধ মূল্য নিয়ন্ত্রক সংস্থা ন্যাশনাল  ফার্মাসিউটিকাল  প্রাইসিং  অথরিটি  (এনপিপিএ) জানিয়েছে, ২০২৫ সালের পাইকারি মূল্য সূচক (WPI) ০.৬৪৯৫৬% বৃদ্ধি পেয়েছে। সেই অনুযায়ী, ন্যাশনাল লিস্ট অফ এসেনশিয়াল মেডিসিনস (NLEM)-এ অন্তর্ভুক্ত প্রায় ৯০০টি ওষুধের সর্বোচ্চ খুচরো মূল্য (MRP) ০.৬৫% পর্যন্ত বাড়ানো যাবে।


সংস্থার বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী, এই মূল্যবৃদ্ধির জন্য ওষুধ প্রস্তুতকারক সংস্থাগুলিকে আলাদা করে সরকারি অনুমতি নিতে হবে না। ড্রাগ  প্রাইস  কন্ট্রোল  অর্ডার  ২০১৩  অনুযায়ী, WPI-র ভিত্তিতে প্রতি বছর স্বয়ংক্রিয়ভাবে এমআরপি সংশোধন করা যায়।
স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের মতে, শতাংশের হিসেবে এই বৃদ্ধি কম মনে হলেও এর প্রভাব হবে বিস্তৃত। কারণ, এই তালিকায় রয়েছে ব্যথানাশক, অ্যান্টিবায়োটিক, অ্যান্টাসিড, উচ্চ রক্তচাপ ও ডায়াবিটিসের মতো বহুল ব্যবহৃত ওষুধ। ফলে প্রায় প্রতিটি পরিবারের চিকিৎসা ব্যয়ে তার প্রভাব পড়বে।
গত কয়েক বছরের পরিসংখ্যান বলছে, ২০২৪ সালে মূল্যবৃদ্ধির হার ছিল ১.৭৪%, আর ২০২৩ সালে তা ১২% ছুঁয়েছিল। সেই তুলনায় চলতি বছরের বৃদ্ধি কম হলেও, সামগ্রিক ব্যয়ের উপর এর চাপ অস্বীকার করা যাচ্ছে না।
এই সিদ্ধান্ত নিয়ে ইতিমধ্যেই অসন্তোষ ছড়িয়েছে বিভিন্ন মহলে। এক  চিকিৎসক  এস  সাহা বলেন, অত্যাবশ্যকীয় ও জীবনদায়ী ওষুধে আরও ছাড় থাকা উচিত ছিল। বরং মূল্যবৃদ্ধির অনুমতি দিয়ে সরকার ওষুধ প্রস্তুতকারক সংস্থার পক্ষেই বেশি ঝুঁকছে বলে তাঁর মত।
একই সুর শোনা গিয়েছে Bengal Chemists and Druggists Association-এর তরফেও। সংগঠনের মতে, এই সিদ্ধান্তে ক্ষতিগ্রস্ত হবে সাধারণ মানুষ। বহুদিন ধরেই ওষুধে কর ছাড়ের দাবি উঠলেও তা এখনও কার্যকর হয়নি।
অন্যদিকে আল  ইন্ডিয়া  কেমিস্টস  এন্ড  ডিস্ট্রিবিউটর্স  ফেডারেশন -এর দাবি, ১%-এর কম বৃদ্ধি হলেও এর বাস্তব প্রভাব বড়। তাঁদের মতে, NLEM তালিকাভুক্ত ওষুধে উৎপাদক সংস্থাগুলির মুনাফা অনেক বেশি, অথচ ক্ষতিগ্রস্ত হন বিক্রেতা ও রোগীরাই।