লুপ্তপ্রায় ন্যাদোস মাছ ফিরিয়ে আনতে উদ্যোগ সুন্দরবনের

- আপডেট : ২৮ অগাস্ট ২০২৫, বৃহস্পতিবার
- / 38
কুতুব উদ্দিন মোল্লা, ক্যানিং : সুন্দরবনের বাসন্তী ব্লকের জয়গোপালপুর গ্রাম।অধিকাংশ তপশিলী জাতি ও উপজাতি পরিবারের বসবাস।সুন্দরবনের এক ফসলি জমিতে কোন রকমে চাষ-আবাদ করে জীবন জীবিকা নির্বাহ করেন। বিকল্প আয়ের কোন পথ নেই বললেই চলে।
এমন অবস্থায় এলাকার মানুষজন অনেকেই ভীনরাজ্যে পরিযায়ী শ্রমিকের কাজ করেন। এমন পরিস্থিতির আমূল পরিবর্তন আনতে বিভিন্ন পদ্ধতি অবলম্বন করে এলাকার মানুষজনদের কে স্বনির্ভর করে গড়ে তোলার অনন্য প্রয়াশ সৃষ্টি করেছে স্থানীয় জয়গোপালপুর গ্রাম বিকাশ কেন্দ্র। প্রতিনিয়ত এলাকার পুরুষ মহিলাদের বিশেষ ভাবে প্রশিক্ষণ দিয়ে স্বনির্ভর করে গড়ে তোলার কাজ চালিয়ে যাচ্ছে প্রায় আড়াই দশক ধরে।
হাজার হাজার পরিবার স্বনির্ভরতা অবলম্বন করে জীবন জীবিকা নির্বাহ করেছেন।এমন কর্মযঞ্জের পাশাপাশি সুন্দরবনের ঐতিহ্যবাহী বিখ্যাত সুস্বাদু হারিয়ে যাওয়া ন্যাদোস মাছ,।সরল পঁটি,কই,ট্যাংরা,মাগুর মাছকে ফিরিয়ে আনতে উদ্যোগ গ্রহণ করলো। রীতিমতো হার্টিকালচার তৈরী করার কাজ চলছে। সেখানে মৎস্য বিশেষঞ্জ বিজ্ঞানীদের তত্বাবোধানে এলাকার মাছ চাষীদের হাতে কলমে প্রশিক্ষণ দেওয়া হবে।
প্রশিক্ষণ শেষে চাষীরা যাতে ন্যাদোস মাছ চাষে উদ্যোগী হয় সেই পরিকল্পনা গ্রহণ করা হবে জয়গোপালপুর গ্রাম বিকাশ কেন্দ্রে পক্ষ থেকে। উল্লেখ্য এছাড়াও এলাকার চাষীরা বিকল্প আয়ের জন্য যাতে দেশীয় রুই কাৎলা চাষে উদ্যোগ গ্রহণ করে অর্থনৈতিক ভাবে বিকশিত হয় তার জন্য সংস্থার তরফে এক দিনের প্রশিক্ষণ দেওয়া হয় এলাকার ৫৫০ মাছ চাষীকে। যাঁদের মধ্যে ৩৫০ জন তপশিলী উপজাতি এবং ২০০ জন তপশিলি জাতি সম্প্রদায়ের। প্রশিক্ষণ শেষে বৃহষ্পতিবার বিকালে ৫৫০ চাষীর হাতে ৬ কেজি মাছের চারা ও দুবস্তা করে খাবার তুলে দেওয়া হয়।
এদিন মাছের চারা বিতরণ উপলক্ষ্যে উপস্থিত ছিলেন সিআইএফআরআই এর সিনিয়র বিজ্ঞানী ডঃ প্রণয় পড়িয়া।বিঞ্জানী ডঃ দিবাকর ভক্ত,ন্যাদোস মাছ বিশেষঞ্জ বিঞ্জানী ডঃ সুমন কুমারী, বিঞ্জানী ডঃ লিয়ন থম লুইয়ার,জয়গোপালপুর গ্রাম বিকাশ কেন্দ্রের মূখ্য অধিকর্তা বিশ্বজিত মহাকুড় সহ অন্যান্য বিশিষ্টরা।
মাছের চারা বিতরণ শেষে বিশ্বজিত মহাকুড় জানিয়েছেন, আমাদের মূল উদ্দেশ্য তপশিলী জাতি উপজাতি সহ দরিদ্র মানুষজনদের কে আর্থিক ভাবে স্বাবলম্বী করে তোলা। পাশাপাশি অভয় পুকুরের মধ্য দিয়ে বাস্ততন্ত্র কে রক্ষা করে বিলুপ্ত প্রায় প্রজাতির মাছের বংশবিস্তার বিস্তার ঘটিয়ে পুণরায় ফিরিয়ে আনাই একমাত্র লক্ষ্য।’