পুবের কলম ওয়েব ডেস্ক: হাঙ্গেরির রাজনীতিতে এক বড় পরিবর্তনের অংশ হিসেবে অবশেষে পদত্যাগ করতে সম্মত হয়েছেন দেশের প্রেসিডেন্ট ও প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী ভিক্টর অরবানের ঘনিষ্ঠ সহযোগী টমাস সুলিয়ক। শনিবার তিনি হাঙ্গেরির সংবিধানের ১৭তম সংশোধনীতে স্বাক্ষর করেছেন, যার ফলে রবিবার মধ্যরাত থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে তাঁর রাষ্ট্রপতির মেয়াদের সমাপ্তি ঘটতে চলেছে। দীর্ঘ ১৬ বছর ক্ষমতায় থাকার পর গত এপ্রিল মাসে সাধারণ নির্বাচনে ভিক্টর অরবানের পতনের মধ্য দিয়ে নতুন প্রধানমন্ত্রী হিসেবে শপথ নেন পিটার মাজিয়ার। তাঁর দল তিসজা পার্টি পার্লামেন্টে নিজেদের নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতাকে কাজে লাগিয়ে একতরফাভাবে এই সাংবিধানিক সংশোধনীটি পাস করেছে।
আরও পড়ুন:
পিটার মাজিয়ার জানিয়েছেন, প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী অরবানের তৈরি করা ক্ষমতাকাঠামো ভেঙে দেওয়ার জন্য জনগণ তাঁকে সুস্পষ্ট রায় দিয়েছে।
পাশাপাশি তিনি অভিযোগ করেন যে, প্রেসিডেন্ট সুলিয়কের নেতৃত্বের প্রতি সমাজে চরম আস্থার সংকট দেখা দিয়েছিল।আরও পড়ুন:
প্রেসিডেন্টের পদত্যাগের পাশাপাশি এই সংশোধনীর মাধ্যমে দেশটিতে আরও বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ সংস্কার আনা হয়েছে। নতুন আইন অনুযায়ী, এখন থেকে আইনপ্রণেতারা সর্বোচ্চ ১২ বছরের বেশি দায়িত্ব পালন করতে পারবেন না। একই সঙ্গে সাংবিধানিক আদালতের বিচারকদের অবসরের বয়সসীমাও ৭০ বছর নির্ধারণ করে দেওয়া হয়েছে। এই নতুন নিয়মের কারণে ভিক্টর অরবানের আরেক প্রভাবশালী সহযোগী পিটার পোল্টকেও চাকরি থেকে বাধ্য হয়ে অবসর নিতে হচ্ছে।
আগামী সোমবার থেকে হাঙ্গেরির পার্লামেন্টের স্পিকার অ্যাগনেস ফরস্টহফার অন্তর্বর্তীকালীন প্রেসিডেন্ট হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করবেন এবং নিয়ম অনুযায়ী নতুন প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের জন্য পার্লামেন্ট এক মাস সময় পাবে।আরও পড়ুন:
এদিকে নিজের পদত্যাগের বিষয়ে ফেসবুকে একটি ভিডিও বার্তা প্রকাশ করেছেন টমাস সুলিয়ক। তিনি জানিয়েছেন, আইনিভাবে বৈধ হওয়ার কারণেই তিনি এই সংশোধনীতে বাধ্য হয়ে স্বাক্ষর করেছেন। এই আইনের কড়া সমালোচনা করে তিনি বলেন, তাঁর সামনে আইনি বা সাংবিধানিক লড়াইয়ের অন্য কোনো উপায় খোলা ছিল না। তিনি স্বাক্ষর করতে অস্বীকৃতি জানালে ক্ষমতাসীন দল দ্রুত তাঁর বিরুদ্ধে ইম্পিচমেন্ট প্রক্রিয়া শুরু করত এবং সাথে সাথেই তাঁর ক্ষমতা স্থগিত হয়ে যেত।
আরও পড়ুন:
অন্যদিকে, প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী ভিক্টর অরবানও সরকারের এই পদক্ষেপের তীব্র সমালোচনা করে সোশ্যাল মিডিয়ায় জানিয়েছেন যে, হাঙ্গেরিতে এখন আর গণতান্ত্রিক শাসনব্যবস্থা অবশিষ্ট নেই এবং স্বৈরতন্ত্র এখন এক নিষ্ঠুর বাস্তবে পরিণত হয়েছে। তবে প্রধানমন্ত্রী পিটার মাজিয়ার জোর দিয়ে বলেছেন, এই সংস্কারের ফলেই রাষ্ট্র পুনরায় সাধারণ নাগরিকদের সেবা করার উপযোগী হয়ে উঠবে।