পুবের কলম ওয়েব ডেস্ক: জোর করে হাসপাতালে ভর্তি করা হলেও অনশন প্রত্যাহার করতে নারাজ বিজ্ঞানী তথা সমাজকর্মী সোনম ওয়াংচুক। এমনকি হাসপাতালে কোনওরকম চিকিৎসাও তিনি নিতে অস্বীকার করেছেন। এই পরিস্থিতিতে শনিবার দিল্লির সফদরজং হাসপাতালের তরফ থেকে প্রকাশ করা হেলথ বুলেটিনে জানানো হয়েছে, তাঁর শারীরিক অবস্থার যথেষ্ট অবনতি হয়েছে এবং শরীর মারাত্মকভাবে ডিহাইড্রেটেড হয়ে পড়েছে।

সফদরজং হাসপাতালের ওই স্বাস্থ্য বুলেটিনে জানানো হয়েছে যে, টানা তিন সপ্তাহের বেশি সময় ধরে চলা অনশনের জেরে সোনম ওয়াংচুকের শরীর অত্যন্ত দুর্বল হয়ে পড়েছে। তাঁর শরীরে জল ও ইলেকট্রোলাইটের ভারসাম্য নষ্ট হয়েছে এবং পটাশিয়ামের ঘাটতি দেখা দিয়েছে।

রক্তচাপ, নাড়ির গতি-সহ অন্যান্য শারীরিক সূচক আপেক্ষিকভাবে স্থিতিশীল থাকলেও তা স্বাভাবিক নয়। চিকিৎসকদের মতে, শরীরে ডিহাইড্রেশন এবং পটাশিয়াম কমে যাওয়াটাই বর্তমানে সবচেয়ে বড় উদ্বেগের কারণ। পটাশিয়ামের মাত্রা আরও কমে গেলে হৃদযন্ত্র, স্নায়ুতন্ত্র এবং পেশির কার্যকারিতা স্তব্ধ হয়ে যেতে পারে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন তাঁরা।

এর পাশাপাশি, সোনম ওয়াংচুকের রক্তে কিটোনের মাত্রাও উদ্বেগজনক জায়গায় পৌঁছেছে। সকালে যা ১+ ছিল, দুপুর গড়াতে তা ৩+ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

চিকিৎসকেরা সতর্ক করেছেন যে, তিনি যদি অবিলম্বে অনশন না ভাঙেন, তবে বিপদ আরও ঘনীভূত হতে পারে।

তবে পরিস্থিতি যতই জটিল হোক, সোনম ওয়াংচুক নিজের সিদ্ধান্তে এখনও অটল। হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, ভর্তির পর তাঁকে স্যালাইন দেওয়ার চেষ্টা করা হয়েছিল, কিন্তু তিনি তা নিতে সরাসরি অস্বীকার করেছেন। এমনকী কোনও মুখে খাওয়ার ওষুধও তিনি নেননি। এর অর্থ, তিনি এখনও অনশন প্রত্যাহার করেননি। এই অবস্থায় তাঁর শারীরিক অবস্থার দিকে কড়া নজর রাখছেন চিকিৎসকেরা।