পুবের কলম, পাটনা: বারবার নিট সহ অন্যান্য প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ফাঁস এবং অনিয়মের অভিযোগে কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগের দাবিতে উত্তাল হয়েছে বিহার। তবে শনিবার (২৫ জুলাই) অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া ‘বিহার বন্ধ’ কর্মসূচি ঘিরে রাজ্যজুড়ে ছাত্রনেতা, যুবকর্মী ও আন্দোলনকারীদের গণগ্রেফতারের ঘটনায় নজিরবিহীন বিতর্ক তৈরি হয়েছে। শনিবার এক কড়া বিবৃতি জারি করে এই ব্যাপক গ্রেফতারির ঘটনার তীব্র নিন্দা জানিয়েছে ভারতের কমিউনিস্ট পার্টি (মার্ক্সবাদী-লেলিনবাদী) লিবারেশন। দলটির অভিযোগ, শিক্ষার্থীদের এই ন্যায়সঙ্গত আন্দোলন ও গণতান্ত্রিক প্রতিবাদকে স্তব্ধ করতেই বিহারের বিজেপি-জেডিইউ জোট সরকার ও কেন্দ্রীয় প্রশাসন একজোট হয়ে এই দমনপীড়ন চালাচ্ছে।
আরও পড়ুন:
সিপিআই(এমএল) লিবারেশনের বিবৃতি অনুযায়ী, ‘বিহার বন্ধ’-এর সমর্থনে রাজপথে নামার আগেই বেশ কয়েকজন প্রথম সারির রাজনৈতিক ও ছাত্রনেতাকে গ্রেফতার বা আটক করা হয়েছে। গ্রেফতার হওয়া বিশিষ্ট ব্যক্তিদের মধ্যে রয়েছেন- সিপিআই(এমএল) লিবারেশনের প্রবীণ বিধায়ক সন্দীপ সৌরভ, দলের কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য কুমার পারভেজ, প্রবীণ পার্টি নেতা তথা জেএনইউ-এর প্রাক্তন ছাত্র সংসদ সভাপতি ধনঞ্জয়, অল ইন্ডিয়া স্টুডেন্টস অ্যাসোসিয়েশনের প্রভাবশালী নেতা দীপঙ্কর মিশ্র, সাবা আফরিন, নওশাদ এবং দিব্যম। অভিযোগ, গত ২৩ জুলাই পাটনায় হওয়া বিক্ষোভের পর থেকেই অল ইন্ডিয়া স্টুডেন্টস অ্যাসোসিয়েশন (আইসা)-এর বহু কর্মী ও সাধারণ শিক্ষার্থী পুলিশি হেফাজতে রয়েছেন। আন্দোলনকে স্থায়ীভাবে দমিয়ে দিতে তাঁদের বিরুদ্ধে ‘ভিত্তিহীন ও মিথ্যা মামলা’ সাজানো হয়েছে।
আরও পড়ুন:
গত ২০ জুলাই দিল্লিতে এবং ২৩ জুলাই পাটনায় আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের ওপর পুলিশি লাঠিচার্জের প্রসঙ্গ তুলে ধরে সিপিআই(এমএল) লিবারেশন জানায়, কেন্দ্র ও রাজ্যের বিজেপি নেতৃত্বাধীন সরকারগুলি চরম স্বৈরাচারী মনোভাব দেখাচ্ছে। বিবৃতিতে হুঁশিয়ারি দিয়ে বলা হয়, “বিজেপির উচিত স্পষ্ট দেয়ালের লিখন পড়া। গ্রেপ্তার, সাজানো মামলা আর ভয় দেখিয়ে বিচার ও স্বচ্ছতার দাবিতে সোচ্চার হওয়া ছাত্র-যুবদের মুখ বন্ধ রাখা যাবে না।” অবিলম্বে গ্রেফতারকৃত বিধায়ক, ছাত্রনেতা ও শিক্ষার্থীদের নিঃশর্ত মুক্তি দেওয়ার দাবি জানানো হয়েছে। একই সাথে আন্দোলনকারীদের বিরুদ্ধে রুজু করা সমস্ত মিথ্যা মামলা অবিলম্বে প্রত্যাহার করার আহ্বান জানিয়েছে বাম দলটি।