পুবের কলম ওয়েব ডেস্কঃ বিধানসভা ভোটের প্রাক্কালে আবারও উত্তপ্ত হয়ে উঠল বরানগরের রাজনৈতিক পরিবেশ। বিজেপির অন্দরেই গোষ্ঠী সংঘাতকে কেন্দ্র করে তৈরি হয়েছে নতুন বিতর্ক। একদিকে তৃণমূলের বিরুদ্ধে হামলার অভিযোগ তুলে থানার সামনে বিক্ষোভে সামিল হন বিজেপি প্রার্থী সজল ঘোষ, অন্যদিকে তাঁরই ঘনিষ্ঠদের বিরুদ্ধে দলের এক পুরনো কর্মীকে মারধরের অভিযোগ সামনে এসেছে। ঘটনাকে ঘিরে তীব্র শোরগোল পড়েছে এলাকায়। তৃণমূলও বিজেপির এই অন্তর্দ্বন্দ্ব নিয়ে কটাক্ষ করতে ছাড়েনি।

স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, সোমবার রাতে বিজেপি কর্মীদের উপর হামলার অভিযোগ তুলে বরানগর থানার সামনে অবস্থান বিক্ষোভে সামিল হন সজল ঘোষ। তাঁর দাবি, তৃণমূলের কর্মীরাই বিজেপি সমর্থকদের উপর আক্রমণ চালিয়েছে।

থানার সামনে দাঁড়িয়ে সেই অভিযোগেই সরব হন তিনি। তবে একই সময়ে অন্য একটি ঘটনায় পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। অভিযোগ, বরানগরের গোপাল লাল ঠাকুর রোডে সজল ঘোষের দলীয় কার্যালয়ের সামনে বিজেপির পুরনো কর্মী রাজীব মিশ্রকে প্রকাশ্য রাস্তায় তাড়া করে মারধর করা হয়। মারধরে তাঁর মাথা ফেটে রক্তাক্ত হওয়ার অভিযোগ উঠেছে। আশ্চর্যের বিষয়, অভিযুক্তরা নাকি বিজেপিরই নতুন যোগ দেওয়া কর্মী।

রাজীব মিশ্র বরানগরের দশ নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দা এবং দীর্ঘদিনের বিজেপি কর্মী হিসেবে পরিচিত। সংবাদমাধ্যমে তিনি অভিযোগ করেন, সজল ঘোষ নাকি বারবার বলে থাকেন যে জিতলে তিনি তৃণমূলে যোগ দিয়ে মন্ত্রী হবেন।

সেই কারণে তিনি সজল ঘোষের নির্বাচনী প্রচারে যাননি। এদিন গোপাল লাল ঠাকুর রোডের কার্যালয়ে গেলে সেখানে ঝামেলা চলছিল। তিনি নাকি বলেন, রাস্তায় নয়, যা আলোচনা হবে তা ভেতরে বসেই করা হোক। রাজীবের অভিযোগ, তাঁকে দেখেই কয়েকজন বলে ওঠে, আজ তাকে মেরে ফেলা হবে। এরপর তাঁকে তাড়া করে রাস্তায় মারধর করা হয়। তাঁর দাবি, হেমন্ত সাউ, কিরণ দাস সহ আরও কয়েকজন মিলে এই হামলা চালিয়েছে। স্থানীয় সূত্রের মতে, অভিযুক্তরা সকলেই বিজেপির কর্মী হিসেবেই পরিচিত।

উল্লেখ্য, ভোটের আবহ তৈরি হওয়ার অনেক আগেই বরানগর কেন্দ্র বারবার উত্তপ্ত হয়েছে। দুই প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী দল তৃণমূল ও বিজেপির মধ্যে এই কেন্দ্রকে ঘিরে রাজনৈতিক লড়াই বরাবরই তীব্র। ২০২৪ সালের উপনির্বাচনের পর এবারও একই দুই প্রার্থী মুখোমুখি হয়েছেন—তৃণমূলের সায়ন্তিকা বন্দ্যোপাধ্যায় এবং বিজেপির সজল ঘোষ। অন্যদিকে বামফ্রন্ট এই কেন্দ্রে প্রার্থী পরিবর্তন করে এবার সিপিএমের তরফে সায়নদীপ মিত্রকে লড়াইয়ে নামিয়েছে। এই কেন্দ্রে তৃণমূল ও বিজেপির মধ্যে দীর্ঘদিন ধরেই রাজনৈতিক টানাপোড়েন চলছে। নানা ইস্যুতে দুই পক্ষের মধ্যে পাল্টাপাল্টি অভিযোগ, ব্যক্তিগত আক্রমণ এবং কুৎসার রাজনীতি নিয়েও উত্তেজনা বাড়ছে। সায়ন্তিকা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ঘনিষ্ঠরাও বিজেপির বিরুদ্ধে সরব হচ্ছেন। সেই আবহেই সোমবার রাতে তৃণমূলের বিরুদ্ধে অভিযোগ তুলে থানার সামনে বিক্ষোভ দেখান সজল ঘোষ। কিন্তু তার মধ্যেই নিজের দলের কর্মীর উপর হামলার অভিযোগ সামনে আসায় বিজেপির অভ্যন্তরীণ দ্বন্দ্ব নিয়েই নতুন করে প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে।