পুবের কলম ওয়েব ডেস্ক: প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী বৃহস্পতিবার সংসদে মন্ত্রিসভার শীর্ষ সদস্য এবং উচ্চপদস্থ আধিকারিকদের নিয়ে একটি বিশেষ উচ্চপর্যায়ের বৈঠকে মিলিত হয়েছেন। সর্বভারতীয় এক সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুযায়ী, এই গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন প্রতিরক্ষামন্ত্রী রাজনাথ সিংহ, বিদেশমন্ত্রী এস জয়শঙ্কর, অর্থমন্ত্রী নির্মলা সীতারমণ এবং জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা অজিত ডোভাল। এছাড়াও স্বাস্থ্যমন্ত্রী জে পি নড্ডা, পেট্রোলিয়ামমন্ত্রী হরদীপ সিংহ পুরী এবং বাণিজ্যমন্ত্রী পীযূষ গোয়লের মতো কেন্দ্রীয় মন্ত্রীরাও এই বৈঠকে অংশ নেন।

বৈঠকের সুনির্দিষ্ট আলোচ্য বিষয় সম্পর্কে সরকারিভাবে এখনও কিছু জানানো হয়নি। তবে রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের ধারণা, দেশের বর্তমান অভ্যন্তরীণ অস্থিরতা এবং আন্তর্জাতিক স্তরের জোড়া সঙ্কটের কারণেই এই জরুরি বৈঠকের ডাক দেওয়া হয়েছে।

দেশের অভ্যন্তরে নিট পরীক্ষার প্রশ্নফাঁস কাণ্ডকে কেন্দ্র করে দেশজুড়ে চলা ছাত্রবিক্ষোভ এবং প্রবল জনরোষের জেরে ইতিমধ্যেই কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানকে পদত্যাগ করতে হয়েছে। অন্যদিকে, আন্দোলনকারী পড়ুয়াদের উপর পুলিশি দমনপীড়নের অভিযোগ তুলে সংসদের ভিতরে ও বাইরে লাগাতার বিক্ষোভ দেখাচ্ছেন বিরোধী সাংসদেরা। এমনকি, এই ইস্যুতে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহের নিঃশর্ত ক্ষমা প্রার্থনার দাবিতেও সরব হয়েছে বিরোধী শিবির। বিরোধীদের এই প্রবল চাপ কীভাবে মোকাবিলা করা হবে, তা এই বৈঠকের অন্যতম আলোচ্য বিষয় হতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে।

অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক টানাপড়েনের পাশাপাশি পশ্চিম এশিয়ার যুদ্ধ পরিস্থিতিও নয়াদিল্লির কাছে বড়সড় উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

দু’দিনের সাময়িক বিরতির পর আমেরিকা ও ইরানের মধ্যে পুনরায় সংঘাত শুরু হয়েছে। জর্ডনে অবস্থিত মার্কিন সামরিক ঘাঁটিতে ইরানের হামলার জবাবে বৃহস্পতিবার ভোরে পাল্টা সেনা অভিযান চালিয়েছে আমেরিকা। এই অস্থির ভূ-রাজনৈতিক পরিস্থিতির সরাসরি প্রভাব পড়ছে ভারতের অর্থনীতির উপর। মূলত হরমুজ প্রণালী দিয়ে খনিজ তেল আসার পরিমাণ উল্লেখযোগ্যভাবে কমে যাওয়ায় দেশীয় বাজারে জ্বালানি নিয়ে আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। সব মিলিয়ে, ঘরে ও বাইরের এই নানাবিধ জটিল এবং অস্বস্তিকর পরিস্থিতির মুখে দাঁড়িয়ে প্রধানমন্ত্রীর এই উচ্চপর্যায়ের বৈঠক অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করছে ওয়াকিবহাল মহল।