পুবের কলম ওয়েব ডেস্ক: শিশুদের প্রোডাক্ট তৈরির জন্য বিশ্বজুড়ে খ্যাত 'জনসন অ্যান্ড জনসন'। তাদের তৈরি বহুল ব্যবহৃত বেবি পাউডারের সঙ্গে ডিম্বাশয়ের ক্যান্সারের সরাসরি যোগসূত্র রয়েছে। এমন অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ার পরেই বিশাল অঙ্কের আর্থিক জরিমানার মুখে পড়েছে মার্কিন এই বহুজাতিক জায়ান্ট।
দীর্ঘ আইনি লড়াই এবং হাজার হাজার ভুক্তভোগীর করা মামলার রায়ে কোম্পানিটিকে প্রায় ৫২,৭০০ কোটি টাকা (প্রায় ৬.৫ বিলিয়ন ডলার) ক্ষতিপূরণ হিসেবে পরিশোধ করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এই যুগান্তকারী রায় শুধু কর্পোরেট জগতের ইতিহাসে এক নজিরবিহীন ঘটনা নয়, বরং সাধারণ মানুষের স্বাস্থ্য সুরক্ষা ও মুনাফালোভী বহুজাতিক সংস্থাগুলোর দ্বিমুখী নীতির বিরুদ্ধে এক বিরাট বার্তা।
আরও পড়ুন:
গত কয়েক বছর ধরে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রসহ বিশ্বের বিভিন্ন আদালতে জনসন অ্যান্ড জনসনের বিরুদ্ধে হাজার হাজার মামলা দায়ের করেছিলেন মহিলা ও তাঁদের পরিবারবর্গ। অভিযোগ ছিল, কোম্পানির অত্যন্ত জনপ্রিয় ট্যালকম পাউডার বা বেবি পাউডার নিয়মিত ব্যবহারের ফলে অসংখ্য নারী প্রাণঘাতী ডিম্বাশয়ের ক্যান্সারে আক্রান্ত হয়েছেন। মামলার নথিপত্র এবং বিজ্ঞানসম্মত গবেষণায় প্রমাণিত হয়েছে যে, এই পাউডার তৈরিতে ব্যবহৃত ট্যাল্কে ক্ষতিকারক অ্যাসবেস্টসের উপস্থিতি থাকতে পারে, যা মানবদেহের জন্য অত্যন্ত বিপজ্জনক এবং ক্যানসার সৃষ্টির অন্যতম প্রধান অনুঘটক। অথচ এই মারাত্মক ঝুঁকির বিষয়টি জেনেও কোম্পানিটি দীর্ঘদিন ধরে তা ক্রেতাদের কাছ থেকে সুকৌশলে গোপন করে গেছে। বাজার থেকে নিজেদের মুনাফা অক্ষুণ্ণ রাখতে এবং পণ্যের বাণিজ্যিক প্রসার বজায় রাখতে তারা সাধারণ মানুষের জীবন ও স্বাস্থ্য নিয়ে ছিনিমিনি খেলেছে বলে অভিযোগ করেছেন ভুক্তভোগীদের আইনজীবী ও বিচারকরা।
আরও পড়ুন:
বিশেষজ্ঞদের মতে, এই রায় কর্পোরেট জবাবদিহিতার ক্ষেত্রে একটি মাইলফলক হয়ে থাকবে। এত দিন ধরে প্রভাবশালী বহুজাতিক কোম্পানিগুলো নিজেদের বিপুল অর্থবল এবং আইনি প্যাঁচের মাধ্যমে সাধারণ মানুষের ন্যায়বিচার পাওয়ার পথ রুদ্ধ করে আসছিল। কিন্তু বর্তমান সময়ে এসে সাধারণ ভোক্তাদের সচেতনতা এবং আইনগত লড়াইয়ের ফলে সেই সুরক্ষার প্রাচীর ভাঙতে শুরু করেছে। জনসন অ্যান্ড জনসনের মতো একটি বিশ্বখ্যাত ব্র্যান্ডের বিরুদ্ধে এই শাস্তিমূলক ক্ষতিপূরণ আদায়ের নির্দেশ ভবিষ্যতে অন্য যেকোনো সংস্থাকে তাদের পণ্যের মান ও নিরাপত্তার বিষয়ে আরও বেশি দায়িত্বশীল হতে বাধ্য করবে।
আরও পড়ুন:
যদিও কোম্পানিটির পক্ষ থেকে বরাবরই তাদের পণ্যের নিরাপত্তা দাবি করা হয়েছে এবং এই রায়ের বিরুদ্ধে উচ্চ আদালতে আপিল করার কথা বলা হয়েছে, তবুও এই ঘটনা জনসন অ্যান্ড জনসনের সুনাম ও বিশ্বস্ততায় এক অপূরণীয় ধাক্কা দিয়েছে।