পুবের কলম ওয়েব ডেস্ক: যন্তর মন্তরে ককরোচ জনতা পার্টির (সিজেপি) আহ্বানে আয়োজিত ধর্না এবং গত ২০ জুলাইয়ের সংসদ অভিযান কর্মসূচিতে অংশগ্রহণকারী সাধারণ আন্দোলনকারীদের বিরুদ্ধে নতুন করে আর কোনো আইনি পদক্ষেপ নেওয়া হবে না। বৃহস্পতিবার একটি বিশেষ নির্দেশিকা জারি করে এই গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্তের কথা ঘোষণা করেছে দিল্লির বিজেপি সরকার। তবে প্রশাসনিকভাবে এটি স্পষ্ট করে দেওয়া হয়েছে যে, যেসব ব্যক্তির আগে থেকেই অপরাধমূলক অতীত বা পুলিশি রেকর্ড রয়েছে, তারা এই আইনি সুরক্ষার আওতায় আসবেন না।

দিল্লির স্বরাষ্ট্র দফতরের জারি করা ওই বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে, এই আন্দোলনের প্রেক্ষাপটে ইতিমধ্যে যেসব আন্দোলনকারীকে গ্রেফতার বা আটক করা হয়েছে, তাদের মুক্তির বিষয়টি দ্রুত পর্যালোচনা করে দেখা হবে।

মূলত সুপ্রিম কোর্টের সাম্প্রতিক নির্দেশের ভিত্তিতেই সরকার এই সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেছে। গত মঙ্গলবার শীর্ষ আদালত তাদের অন্তর্বর্তীকালীন নির্দেশে জানিয়েছিল যে, নাবালক বিক্ষোভকারী এবং যাদের অপরাধের কোনো পূর্ব ইতিহাস নেই, তাদের অবিলম্বে মুক্তি দিতে হবে। তাদের বিরুদ্ধে কোনো ধরনের দমনমূলক নীতি প্রয়োগ করা আইনত নিষিদ্ধ। তবে শীর্ষ আদালতের নির্দেশ মেনেই অপরাধমূলক রেকর্ড থাকা ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার রাস্তা খোলা থাকছে বলে বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়েছে।

প্রশাসন সূত্রে প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, গত ২০ জুলাইয়ের ওই সংসদ অভিযান চলাকালীন সৃষ্ট অশান্তির প্রেক্ষিতে দিল্লি পুলিশ মোট ১৩টি এফআইআর দায়ের করেছে। সিসিটিভি ফুটেজ এবং উন্নত ফেসিয়াল রিকগনিশন প্রযুক্তির সহায়তায় পুলিশ ইতিমধ্যে এমন ২,৮৭৩ জনকে শনাক্ত করেছে, যাদের নাম আগে থেকেই পুলিশের খাতায় অপরাধী হিসেবে নথিভুক্ত রয়েছে।

উল্লেখ্য, দিল্লির স্বরাষ্ট্র দফতর জেল পরিচালনা বা আটক সংক্রান্ত বিষয়গুলি দেখভাল করলেও, দিল্লি পুলিশ সরাসরি কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহের মন্ত্রকের অধীনে কাজ করে। সরকারের এই নতুন বিজ্ঞপ্তির পরেও পুরোপুরি আশ্বস্ত হতে পারছে না আন্দোলনকারী সংগঠনটি। সিজেপি প্রধান অভিজিৎ দীপ বৃহস্পতিবার আশঙ্কা প্রকাশ করে জানিয়েছেন, সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশের এই অপরাধী সংক্রান্ত শর্তটিকে হাতিয়ার করে পুলিশ সাধারণ আন্দোলনকারীদের ওপর প্রতিশোধমূলক পদক্ষেপ নিতে পারে বলে তারা মনে করছেন।