পুবের কলম, ওয়েবডেস্ক: টানা বর্ষণ ও পাহাড়ি ঢলে রাজ্যের বিস্তীর্ণ এলাকা প্লাবিত হয়ে চরম বিপর্যয় দেখা দিয়েছে ওড়িশায়। গত কয়েকদিনের বন্যায় এখনও পর্যন্ত এক ফায়ার সার্ভিস কর্মী ও এক শিশুসহ অন্তত তিনজনের মৃত্যু হয়েছে। ওড়িশার ৬টি জেলার ৭৪৮টি গ্রামের দুই লক্ষেরও বেশি মানুষ এই প্লাবনে মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে বন্যাকবলিত অঞ্চলগুলি থেকে ইতিমধ্যেই ৩০ হাজারের বেশি মানুষকে উদ্ধার করে নিরাপদ আশ্রয়ে সরিয়ে নিয়ে যাওয়া হয়েছে।
আরও পড়ুন:
রাজ্যের রাজস্ব ও বিপর্যয় মোকাবিলা মন্ত্রী সুরেশ পূজারী পর্যালোচনা বৈঠকের পর জানান, ওড়িশার উত্তরাঞ্চলের বালেশ্বর, ভদ্রক এবং যাজপুর জেলা সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
এছাড়া ধেনকানাল, ময়ূরভঞ্জ এবং সম্বলপুর জেলাতেও প্লাবনের জল জমে বিস্তীর্ণ এলাকা জলমগ্ন। মন্ত্রী জানান, যে তিনজনের মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে, তারা সকলেই মুখ্যমন্ত্রী মোহন চরণ মাঝির নিজ জেলা কেন্দুঝারের বাসিন্দা।আরও পড়ুন:
বন্যাকবলিত এলাকায় উদ্ধারকাজে কর্মরত এক ফায়ার সার্ভিস কর্মী বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে প্রাণ হারিয়েছেন। বৃষ্টির জলে মাটির বাড়ি ধসে এক প্রবীণ ব্যক্তির মর্মান্তিক মৃত্যু হয়েছে। প্লাবনের প্রবল স্রোতে ভেসে গিয়ে এক শিশুর সলিল সমাধি ঘটেছে।
পরিস্থিতি পর্যালোচনা করে মন্ত্রী বলেন, বৈতরণী, সালন্দি এবং জলাকা-র মতো ওড়িশার প্রধান নদীগুলির জল বিপদসীমার ওপর দিয়ে বইছে। ২২৬টি গ্রাম সম্পূর্ণ জলমগ্ন হয়ে বাইরের যোগাযোগ থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে। প্রায় ৭৬১টি ঘরবাড়ি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে এবং প্রায় ৮,০০০ হেক্টর কৃষিজমি জলের নিচে তলিয়ে গেছে।আরও পড়ুন:
জলসম্পদ বিভাগের প্রধান প্রকৌশলী দিলীপ রাউত জানিয়েছেন, হীরাকুদ জলাধারের উজান থেকে ক্রমাগত জল আসায় বুধবার বিকেলে জলাধারের জলস্তর দাঁড়িয়েছে ৬১৬ ফুটে। বৃহস্পতিবার সন্ধ্যার মধ্যে কটকের মুন্ডালি ব্যারেজ দিয়ে প্রায় ৯ লাখ কিউসেক জল ছাড়া হতে পারে। এর ফলে মহানদী অববাহিকার নিচু এলাকা—বিশেষ করে জগতসিংহপুর, পুরী, খুরদা এবং কটক জেলায় মাঝারি মাত্রার বন্যা পরিস্থিতির সৃষ্টি হতে পারে বলে সতর্কতা জারি করা হয়েছে।