পঞ্চায়েতে কর আদায়ে দালালচক্রের দৌরাত্ম্য বন্ধ করে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করার বার্তা দিলেন রাজ্যের পঞ্চায়েতমন্ত্রী দিলীপ ঘোষ। তাঁর অভিযোগ, অতীতে অনেক ক্ষেত্রে সাধারণ মানুষ কর দিতে আগ্রহী থাকলেও সেই অর্থ পঞ্চায়েতের কোষাগারে পৌঁছানোর আগেই দালালদের হাতে চলে যেত। সেই সংস্কৃতির অবসান ঘটিয়ে পঞ্চায়েতের আর্থিক ভিত আরও শক্তিশালী করার ওপর জোর দেন তিনি।
আরও পড়ুন:
বৃহস্পতিবার উত্তর ২৪ পরগনা জেলা গ্রামীণ সম্পদ কর্মী সংগঠনের উদ্যোগে বারাসতে আয়োজিত সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে প্রায় এক হাজার গ্রামীণ সম্পদ কর্মীর উপস্থিতিতে মন্ত্রী বলেন, এবার থেকে কর আদায়ে সম্পূর্ণ স্বচ্ছতা বজায় রাখা হবে এবং পঞ্চায়েতগুলির কাজের নিয়মিত মূল্যায়ন করা হবে। তিনি জানান, আগামী ১ আগস্ট উত্তর ২৪ পরগনার সব পঞ্চায়েতকে নিয়ে একটি পর্যালোচনা বৈঠক হবে।
সেখানে কর আদায়, সরকারি প্রকল্পের অগ্রগতি, প্রশাসনিক কার্যক্রম এবং আর্থিক ব্যবস্থাপনা খতিয়ে দেখা হবে।আরও পড়ুন:
স্বনির্ভর গোষ্ঠী নিয়েও বড় ঘোষণা করেন দিলীপ ঘোষ। তাঁর বক্তব্য, চলতি বছরে রাজ্যে এক লক্ষ নতুন স্বনির্ভর গোষ্ঠী গঠন করা হবে এবং প্রতিটি গোষ্ঠীকে সাড়ে তিন লক্ষ টাকা পর্যন্ত ঋণ দেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে। এই প্রকল্পে সরকারের প্রায় ৪০ হাজার কোটি টাকা ব্যয় হবে। পাশাপাশি বছরে এক লক্ষ টাকার বেশি আয় করা সফল গোষ্ঠীগুলিকে ‘লাখপতি দিদি’ হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়া হবে।
এ বছর তিন লক্ষ ‘লাখপতি দিদি’ তৈরির লক্ষ্য নেওয়া হয়েছে বলেও জানান তিনি। সরকারি ঋণপ্রাপ্ত প্রতিটি স্বনির্ভর গোষ্ঠীর অডিট বাধ্যতামূলক করা হবে বলেও স্পষ্ট করেন মন্ত্রী।আরও পড়ুন:
অনুষ্ঠানের পর বসিরহাট মহকুমার স্বরূপনগর ব্লকের গোবিন্দপুর গ্রাম পঞ্চায়েত এলাকায় জনসংযোগ কর্মসূচিতে যোগ দেন দিলীপ ঘোষ। সেখানে স্থানীয় বাসিন্দাদের সঙ্গে মাটির থালায় পান্তাভাত, আলু সেদ্ধ, কলমি শাক, কাঁচা লঙ্কা ও কাতলা মাছ ভাজা খেয়ে সময় কাটান তিনি। মঞ্চে বসে ঝালমুড়িও খেতে দেখা যায় তাঁকে। এ প্রসঙ্গে মন্ত্রীর মন্তব্য, “আমি গ্রামের মানুষ, গ্রাম্যভাবেই থাকতে ভালোবাসি।”