ক্যাস্পিয়ান সাগরে একটি ইরানি বাণিজ্যিক জাহাজকে লক্ষ্য করে হামলা ইচ্ছাকৃত ছিল না এবং এ ঘটনায় উত্তেজনা বাড়াতে চায় না ইউক্রেন— এমন আশ্বাস দেওয়ার পর মঙ্গলবার দুই দেশ পরিস্থিতি শান্ত করার উদ্যোগ নিয়েছে। তবে ওই হামলায় এক ইরানি নাবিক নিহত হওয়ায় ক্ষয়ক্ষতির জন্য ক্ষতিপূরণ দাবি করেছে তেহরান।
ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি কয়েক দিন আগে বলেছিলেন, ইরানের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট সামরিক মালামাল বহনকারী জাহাজগুলোর বিরুদ্ধে ক্যাস্পিয়ান সাগরে দূরপাল্লার হামলা চালিয়েছে কিয়েভ। এর পরই কূটনৈতিক তৎপরতা শুরু হয়।
ইউক্রেনের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আন্দ্রি সিবিহার সঙ্গে টেলিফোনে কথা বলার পর ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি জানান, তাঁকে আশ্বস্ত করা হয়েছে যে ইরানি জাহাজে হামলাটি অনিচ্ছাকৃত ছিল।
আরও পড়ুন:
এক্সে (সাবেক টুইটার) দেওয়া পোস্টে আরাঘচি লেখেন, "ইউক্রেনের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আন্দ্রি সিবিহা আমাকে আশ্বস্ত করেছেন যে ইরানি জাহাজে হামলাটি অনিচ্ছাকৃত ছিল এবং ইউক্রেন কোনো ধরনের উত্তেজনা বাড়াতে চায় না।
"আরও পড়ুন:
তিনি বলেন, ইরানও উত্তেজনা বাড়াতে চায় না। তবে ইরানি নাগরিক বা জাতীয় স্বার্থের ওপর হামলা "কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়"।
আরাঘচি আরও বলেন, "এই হামলায় হওয়া ক্ষয়ক্ষতির যথাযথ ক্ষতিপূরণ দিতে হবে।"
আরও পড়ুন:
এর আগে তেহরান অভিযোগ করেছিল, ইউক্রেন ক্যাস্পিয়ান সাগরে একটি ইরানি বাণিজ্যিক জাহাজে হামলা চালিয়েছে। এতে এক নাবিক নিহত ও আরেকজন আহত হন। ইরান ঘটনাটিকে আগ্রাসন হিসেবে আখ্যা দিয়ে তেহরানে ইউক্রেনের চার্জ দ্য অ্যাফেয়ার্সকে তলব করে এবং কিয়েভের কাছে জবাবদিহি দাবি জানায়।
আরও পড়ুন:
অন্যদিকে সিবিহা জানান, আরাঘচির সঙ্গে তাঁর আলোচনা ছিল "খোলামেলা" এবং বর্তমান পরিস্থিতিতেও কূটনীতির গুরুত্ব অপরিসীম।
তিনি এক্সে লেখেন, "কূটনীতি মানে কঠিন পরিস্থিতিতেও সরাসরি আলোচনা। আমি স্পষ্ট করেছি, আমাদের লক্ষ্য অপ্রয়োজনীয় উত্তেজনা এড়ানো।"
আরও পড়ুন:
সিবিহা পুনর্ব্যক্ত করেন, ইউক্রেনের সব সামরিক অভিযান কেবল রাশিয়ার আগ্রাসনের বিরুদ্ধে আত্মরক্ষার উদ্দেশ্যে পরিচালিত হচ্ছে।
আরও পড়ুন:
তিনি বলেন, "ইউক্রেনের সব পদক্ষেপই আমাদের দেশকে রাশিয়ার আগ্রাসন থেকে রক্ষা করার জন্য। কোনো বেসামরিক জাহাজ বা সাধারণ মানুষকে লক্ষ্যবস্তু করা কখনোই আমাদের উদ্দেশ্য নয়।
"আরও পড়ুন:
ইরানি নাবিকের মৃত্যুর প্রসঙ্গে সিবিহা দায় চাপান রাশিয়ার ওপর।
তাঁর ভাষায়, "সব ঘটনার মূল কারণ রাশিয়া। সব ধরনের উসকানি ও প্রাণহানির পূর্ণ দায়ও রাশিয়ার।"
আরও পড়ুন:
এছাড়া তিনি ইরানকে পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত না করার আহ্বান জানান এবং ইউক্রেনের বিরুদ্ধে রাশিয়ার যুদ্ধে মস্কোকে সব ধরনের সহায়তা বন্ধ করার আহ্বান জানান।
ইউক্রেনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র হিওর্হি তিখিই জানান, ২০২৪ সালের সেপ্টেম্বরে দায়িত্ব নেওয়ার পর সিবিহা ও আরাঘচির মধ্যে এটিই ছিল প্রথম আনুষ্ঠানিক যোগাযোগ।
আরও পড়ুন:
২০২২ সালে রাশিয়ার পূর্ণমাত্রার ইউক্রেন আগ্রাসন শুরুর পর থেকেই কিয়েভ ও তেহরানের সম্পর্ক টানাপোড়েনের মধ্যে রয়েছে। ইউক্রেনের অভিযোগ, যুদ্ধের শুরুতে ইরান রাশিয়াকে শাহেদ ড্রোন প্রযুক্তি সরবরাহ করেছিল।
আরও পড়ুন:
এছাড়া চলতি বছরের শুরুতে ইরানের ওপর ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের হামলার পর ইরানের পাল্টা আক্রমণে উপসাগরীয় দেশগুলোকে ড্রোন প্রতিরোধে সহায়তা দিয়েছিল বলেও দাবি করেছে ইউক্রেন।