পুবের কলম ওয়েব ডেস্ক: শুক্রবার সকালে দমদম বিমানবন্দরে পা রাখলেন নির্বাসিত বাংলাদেশি লেখিকা তসলিমা নাসরিন। দীর্ঘ ১৯ বছরের অপেক্ষার অবসান ঘটিয়ে কলকাতায় প্রত্যাবর্তন করলেন তিনি। পরনে ছিল ঐতিহ্যবাহী লাল পাড়ের সাদা শাড়ি, আর চোখে চশমা। শহরে আসার আগে সমাজমাধ্যমে নিজের একটি ছবি পোস্ট করে তিনি লিখেছিলেন, “আজি এ প্রভাতে কলিকাতা অভিমুখে যাত্রা করিলাম।
”আরও পড়ুন:
বিমানবন্দরে নেমে সাংবাদিকদের প্রশ্নের উত্তরে উচ্ছ্বসিত লেখিকা জানান, কলকাতায় ফিরে তাঁর অত্যন্ত ভালো লাগছে এবং সকলকে ধন্যবাদও জ্ঞাপন করেন তিনি।
শনিবার রবীন্দ্র সদনে তসলিমা নাসরিনকে নিয়ে একটি বিশেষ অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়েছে। একাধিক সংগঠনের যৌথ উদ্যোগে আয়োজিত এই অনুষ্ঠানে রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী-সহ সমাজের বিশিষ্ট জনদের আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে।
আরও পড়ুন:
শুক্রবার বিমানবন্দরে লেখিকাকে স্বাগত জানাতে উপস্থিত ছিলেন দমদম উত্তরের বিজেপি বিধায়ক সৌরভ শিকদার এবং রবীন্দ্র সদনের অনুষ্ঠানের অন্যতম আয়োজক মোহিত রায়।
‘সেক্যুলার মিশন’ নামের অপর একটি আয়োজক সংগঠনের পক্ষ থেকে কলকাতা হাই কোর্টের আইনজীবী ওসমান মল্লিক সমাজমাধ্যমে পোস্ট করে লেখেন যে, দীর্ঘ প্রতীক্ষার পর লেখিকার লড়াইয়ের পাশে তাঁরা সব সময় আছেন।আরও পড়ুন:
প্রসঙ্গত, ২০০৭ সালে তসলিমার লেখা ‘দ্বিখণ্ডিত’ উপন্যাসটি ঘিরে শহর কলকাতায় তুমুল বিতর্ক ও অশান্তির সৃষ্টি হয়েছিল। শহরের বেশ কিছু সংখ্যালঘু এলাকায় পরিস্থিতি এতটাই অগ্নিগর্ভ হয়ে ওঠে যে বাধ্য হয়ে প্রশাসনকে সেনা নামাতে হয়। তৎকালীন মুখ্যমন্ত্রী বুদ্ধদেব ভট্টাচার্যের নেতৃত্বাধীন বামফ্রন্ট সরকার বইটি নিষিদ্ধ ঘোষণা করে এবং লেখিকাকে কলকাতা ছাড়ার নির্দেশ দেওয়া হয়।
পরবর্তীকালে তৃণমূল কংগ্রেস সরকারের আমলেও তাঁর রাজ্যে প্রবেশের উপর অলিখিত নিষেধাজ্ঞা বজায় ছিল। রাজ্যে নতুন বিজেপি সরকার ক্ষমতায় আসার মাত্র দু'মাসের মাথাতেই তাঁর এই প্রত্যাবর্তন যথেষ্ট তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করছে ওয়াকিবহাল মহল।আরও পড়ুন:
রবীন্দ্র সদনের আসন্ন অনুষ্ঠান সম্পর্কে আয়োজক মোহিত রায় জানিয়েছেন, তসলিমার বাংলায় আসার ক্ষেত্রে কোনও আইনি বাধা নেই। নতুন রাজনৈতিক আবহে লেখিকার অনুরাগীরা তাঁকে পুনরায় শহরে ফিরিয়ে আনার সিদ্ধান্ত নেন। তিনি স্পষ্ট করে দিয়েছেন যে, এই অনুষ্ঠানের সঙ্গে কোনও রাজনীতির যোগ নেই; মূলত তসলিমার কবিতা ও গান নিয়েই এই অনুষ্ঠানটি সাজানো হয়েছে। তবে লেখিকার নিরাপত্তার বিষয়টি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হওয়ায়, রাজ্য সরকারের তরফ থেকে তাঁর সম্পূর্ণ নিরাপত্তা সুনিশ্চিত করা হয়েছে বলে আয়োজকদের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে।