পুবের কলম ওয়েব ডেস্ক: টেলিভিশনের পর্দায় হোক বা সমাজমাধ্যমে, দীর্ঘদিন ধরে বিরোধীদের আক্রমণের মুখে দলের হয়ে ঢাল ধরতে দেখা গিয়েছে তাঁকে। কিন্তু এবার কি তবে ভারতীয় জনতা পার্টির সঙ্গে সম্পর্ক ছিন্ন করতে চলেছেন দলের জাতীয় মুখপাত্র শেহজাদ পুনাওয়ালা? সম্প্রতি সমাজমাধ্যমে তাঁর একটি পদক্ষেপ ঘিরে এমনই জল্পনা তৈরি হয়েছে রাজনৈতিক মহলে। নিজের এক্স হ্যান্ডেলের বায়ো থেকে আচমকাই ‘বিজেপি মুখপাত্র’ পরিচয়টি সরিয়ে দিয়েছেন তিনি। যদিও এখনও পর্যন্ত দলত্যাগ বা রাজনীতি ছাড়ার বিষয়ে সরকারিভাবে কোনও ঘোষণা করেননি শেহজাদ।
আরও পড়ুন:
শেহজাদের বর্তমান এক্স হ্যান্ডেলের বায়োতে লেখা রয়েছে যে, তাঁর ধর্ম ইসলাম, সংস্কৃতি হিন্দু এবং আদর্শ ভারতীয়। পাশাপাশি নিজেকে তিনি আজীবন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির অনুগামী বলেও উল্লেখ করেছেন। তবে সেখানে দলের বা দলের পদের কোনও উল্লেখ নেই। বেশ কিছুদিন আগেই তিনি সক্রিয় রাজনীতি থেকে সরে দাঁড়ানোর ইঙ্গিত দিয়েছিলেন। সম্প্রতি তাঁর পুরনো একটি ভিডিও রিটুইট করা ঘিরে এই জল্পনা আরও তীব্র হয়।
সেই ভিডিওতে তিনি জানিয়েছিলেন, ২০২৪ সালের লোকসভা নির্বাচনে নরেন্দ্র মোদি তৃতীয়বারের জন্য প্রধানমন্ত্রী নির্বাচিত হলে তিনি রাজনীতি ছেড়ে দেবেন। সেই ভিডিওর সঙ্গে শেহজাদ এও লেখেন যে, তিনি ইতিমধ্যেই সিদ্ধান্ত নিতে দুই বছর দেরি করে ফেলেছেন। এর পরেই তাঁর বায়ো বদলের ঘটনা সামনে আসায় তাঁর রাজনীতি ছাড়ার জল্পনা জোরালো হয়েছে।আরও পড়ুন:
প্রায় ১৮ বছর ধরে সক্রিয় রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত শেহজাদ পুনাওয়ালার রাজনৈতিক জীবনের শুরু হয়েছিল জাতীয় কংগ্রেসের হাত ধরে। ২০১৭ সালে কংগ্রেসের সভাপতি নির্বাচন নিয়ে দলের অন্দরে ক্ষোভ প্রকাশ করে তিনি দলত্যাগ করেন এবং পরবর্তীতে বিজেপিতে যোগদান করেন।
২০২১ সালে তাঁকে দিল্লি বিজেপির সোশাল মিডিয়া ইনচার্জের দায়িত্বও দেওয়া হয়েছিল। বিরোধী পক্ষের আক্রমণের জবাব দেওয়া থেকে শুরু করে বিভিন্ন টেলিভিশন শোতে দলের অবস্থান স্পষ্ট করার কাজটি তিনি দীর্ঘদিন ধরে দক্ষতার সঙ্গেই সামলেছেন।রাজনৈতিক মহলে গুঞ্জন, সম্পূর্ণ ব্যক্তিগত কারণেই তিনি রাজনীতি থেকে দূরে সরে যেতে চাইছেন।
আরও পড়ুন:
অন্যদিকে, কারও কারও মতে তাঁর ফের কংগ্রেসে ফেরার সম্ভাবনাও একেবারে উড়িয়ে দেওয়া যায় না। তবে উল্লেখযোগ্য বিষয় হল, এক্স হ্যান্ডেলে বায়ো বদল করলেও তাঁর ইনস্টাগ্রাম অ্যাকাউন্টে এখনও বিজেপি মুখপাত্রের পরিচয়টিই বর্তমান রয়েছে। তাই তাঁর আগামী পদক্ষেপ ঠিক কী হতে চলেছে বা তিনি সত্যিই গেরুয়া শিবিরকে বিদায় জানাচ্ছেন কি না, তা নিয়ে ধোঁয়াশা থেকেই যাচ্ছে।