পুবের কলম ওয়েব ডেস্ক: রক্তের সম্পর্ক না থাকলেও চরম বিপদের দিনে দেবদূতের মতো পাশে দাঁড়াতে পারেন একজন অনাত্মীয় মানুষও। আর সেই মহৎ উদ্দেশ্য যদি হয় প্রাণ বাঁচানোর, তবে শুধুমাত্র নথির অভাবে তা আটকে থাকতে পারে না। এমনই এক মানবিক পর্যবেক্ষণ সামনে রেখে কিডনি প্রতিস্থাপন সংক্রান্ত একটি মামলায় ঐতিহাসিক নির্দেশ দিল কলকাতা হাই কোর্ট।
আরও পড়ুন:
আদালত সূত্রে জানা গিয়েছে, মামলাকারী সুনীতা খাঁড়ার স্বামী চিন্টু গুরুতর অসুস্থ। তাঁর দু’টি কিডনিই বিকল হয়ে গিয়েছে। এই পরিস্থিতিতে তাঁর প্রাণ বাঁচাতে কিডনি প্রতিস্থাপন ছাড়া আর কোনও বিকল্প ছিল না।
তাঁর এই সঙ্কটের কথা জানতে পেরে সম্পূর্ণ স্বেচ্ছায় নিজের একটি কিডনি দান করতে এগিয়ে আসেন রূপা সাহা নামে এক গৃহবধূ। একটা সময়ে রূপার স্বামী অসুস্থ চিন্টুর গাড়িচালক হিসেবে কাজ করতেন। রূপা ম্যাজিস্ট্রেটের কাছে গিয়ে নিজের কিডনি দানের ইচ্ছাপ্রকাশও করেন।কিন্তু এই পদক্ষেপে বাধা হয়ে দাঁড়ায় ‘অথরাইজেশন কমিটি’।
আরও পড়ুন:
দাতা ও গ্রহীতার মধ্যে কোনও আত্মীয়তার সম্পর্ক না থাকায় এবং তাঁদের পূর্বপরিচিতির কোনও সুস্পষ্ট নথিভিত্তিক প্রমাণ না থাকার যুক্তি দেখিয়ে কিডনি প্রতিস্থাপনে সবুজ সংকেত দিতে অস্বীকার করে তারা। স্বামীর জীবন বাঁচাতে শেষপর্যন্ত কলকাতা হাই কোর্টের দ্বারস্থ হন সুনীতা।
তাঁর পক্ষে মামলাটি লড়েন আইনজীবী অরিত্র বসু এবং মৈত্রেয়ী রায়।আরও পড়ুন:
বিচারপতি কৃষ্ণা রাওয়ের এজলাসে এই মামলার শুনানি হয়। শুনানিপর্বে রূপার স্বেচ্ছায় কিডনি দানের ইচ্ছাপ্রকাশের একটি ভিডিও রেকর্ডিং আদালতে পেশ করা হয়। রূপা জানান, তিনি প্রেমানন্দ মহারাজের আদর্শে অনুপ্রাণিত হয়ে সম্পূর্ণ মানবিক ও ধর্মীয় দায়িত্ববোধ থেকেই প্রাণ বাঁচানোর এই সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। সব দিক খতিয়ে দেখে আদালত জানায়, ২০১৪-১৫ সাল থেকে এই দুই পরিবারের মধ্যে পরিচিতি রয়েছে। এমনকি রূপাদের গৃহপ্রবেশ অনুষ্ঠানেও চিন্টু সস্ত্রীক উপস্থিত ছিলেন।
সুতরাং, চরম বিপদের দিনে একজন মানুষের পাশে অপরজন দাঁড়াতেই পারেন।আরও পড়ুন:
হাই কোর্ট স্পষ্ট ভাষায় জানিয়েছে যে, নিকটাত্মীয় না হলেও কিডনি দান করা আইনি দিক থেকে নিষিদ্ধ নয়। তাছাড়া সব ধরনের সম্পর্কের প্রমাণ সবসময় নথিপত্র দিয়ে দেওয়াও সম্ভব হয় না। আদালতের পর্যবেক্ষণ অনুযায়ী, অথরাইজেশন কমিটির মূল কাজ হল কিডনি প্রতিস্থাপনের আড়ালে কোনও বেআইনি আর্থিক লেনদেন হচ্ছে কি না তা খতিয়ে দেখা এবং দাতা সম্পূর্ণ স্বেচ্ছায় অঙ্গদান করছেন কি না তা সুনিশ্চিত করা। কিন্তু কেবলমাত্র সম্পর্কের নথির অভাবে একটি অমূল্য প্রাণ বাঁচানোর পথে তারা বাধা হয়ে দাঁড়াতে পারে না। এই পর্যবেক্ষণের ভিত্তিতেই আগামী এক সপ্তাহের মধ্যে কমিটিকে সম্পূর্ণ বিষয়টি নিয়ে নতুন করে সিদ্ধান্ত নেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন বিচারপতি রাও। আদালতের এই মানবিক রায়ে নতুন করে আশায় বুক বাঁধছে রোগীর পরিবার।