মুখ্য নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) ও নির্বাচন কমিশনার নিয়োগে গঠিত নির্বাচন কমিটি থেকে দেশের প্রধান বিচারপতিকে বাদ দেওয়ার কারণ জানতে চেয়ে কেন্দ্রীয় সরকারের কাছে প্রশ্ন তুলেছে সুপ্রিম কোর্ট। নতুন আইনের নিরপেক্ষতা নিয়ে দায়ের হওয়া এক মামলার শুনানিতে সর্বোচ্চ আদালত জানতে চায়, এমন গুরুত্বপূর্ণ সাংবিধানিক নিয়োগের ক্ষেত্রে প্রধান বিচারপতিকে বাদ দেওয়ার যুক্তি কী।

বর্তমান আইনে নির্বাচন কমিশনার নিয়োগের তিন সদস্যের কমিটিতে রয়েছেন প্রধানমন্ত্রী, লোকসভার বিরোধী দলনেতা এবং প্রধানমন্ত্রীর মনোনীত একজন কেন্দ্রীয় মন্ত্রী। এর আগে এই কমিটিতে কেন্দ্রীয় মন্ত্রীর পরিবর্তে দেশের প্রধান বিচারপতি সদস্য ছিলেন।

বিরোধী দলগুলির অভিযোগ, নতুন ব্যবস্থায় কমিটিতে সরকারের সংখ্যাগরিষ্ঠতা থাকায় নিয়োগ প্রক্রিয়ার নিরপেক্ষতা প্রশ্নের মুখে পড়তে পারে।

শুনানিতে সুপ্রিম কোর্ট পর্যবেক্ষণ করে, সিবিআই প্রধান বা লোকপাল নিয়োগের মতো গুরুত্বপূর্ণ ক্ষেত্রেও যখন প্রধান বিচারপতির ভূমিকা রয়েছে, তখন নির্বাচন কমিশনার নিয়োগের ক্ষেত্রে তাঁকে বাদ দেওয়া হল কেন, তার স্পষ্ট ব্যাখ্যা প্রয়োজন।

কেন্দ্রের পক্ষে সওয়াল করে সলিসিটর জেনারেল তুষার মেহতা বলেন, কমিটিতে সংখ্যাগরিষ্ঠতা থাকলেই প্রধানমন্ত্রী বা সরকারের প্রতিনিধিরা অসৎ উদ্দেশ্যে কাজ করবেন— এমন ধারণা ঠিক নয়। তাঁর দাবি, প্রধানমন্ত্রীর পদ একটি সাংবিধানিক মর্যাদার প্রতীক এবং সেই পদের সিদ্ধান্ত নিয়ে অযথা সন্দেহ প্রকাশ গণতান্ত্রিক ব্যবস্থার প্রতি আস্থা নষ্ট করতে পারে।

তিনি আরও বলেন, বিষয়টি বৃহত্তর সাংবিধানিক বেঞ্চে পাঠানো উচিত।
এর জবাবে বিচারপতি দীপঙ্কর দত্ত বলেন, বিষয়টি প্রধানমন্ত্রীর প্রতি আস্থার নয়, বরং নিয়োগ প্রক্রিয়ার নিরপেক্ষতা নিশ্চিত করার প্রশ্ন। তাঁর মন্তব্য, “এখন কমিটির হিসাব ২:১— দু’জন সরকারের প্রতিনিধি এবং একজন বিরোধী দলের প্রতিনিধি। নির্বাচন কমিশনার অবশ্যই নিরপেক্ষ হওয়া উচিত। শুধু নিরপেক্ষ হলেই হবে না, সেই নিরপেক্ষতা দৃশ্যমানও হতে হবে।”