নাজির হোসেন লস্কর: দক্ষিণ ২৪ পরগনার জেলাশাসক অভিষেক কুমার তিওয়ারি জেলার জনসাধারণকে স্বউদ্যোগে জনগণনা প্রক্রিয়ায় সামিল হওয়ার জন্য বিশেষ আহ্বান জানিয়েছেন। আজ ১ আগস্ট থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে জনগণনা ২০২৭-এর প্রথম পর্যায়ের কাজ শুরু হচ্ছে। আগামী ১৫ আগস্ট পর্যন্ত এই স্ব-গণনা কর্মসূচি অব্যাহত থাকবে। এই প্রক্রিয়ার পরবর্তী ধাপে ১৬ আগস্ট থেকে ২০২৬ সালের ১৪ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত গৃহতালিকা তৈরির কাজ চলবে। এর মাধ্যমেই জনগণনার প্রথম পর্যায় সম্পন্ন হবে বলে জানানো হয়েছে।

শুক্রবার জেলা সদর আলিপুরে এই মহৎ উদ্যোগ নিয়ে একটি সাংবাদিক সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়। সম্মেলনে জেলাশাসকের পাশাপাশি উপস্থিত ছিলেন অতিরিক্ত জেলাশাসক অবনীত পুনিয়া এবং জনগণনার দায়িত্বপ্রাপ্ত জেলা আধিকারিক অভিজিৎ হালদার। জেলাশাসক এদিন স্পষ্ট করেন যে, নাগরিকরা অনলাইনের মাধ্যমে নিজেদের তথ্য খুব সহজেই নথিভুক্ত করতে পারবেন। এই অনলাইন প্রক্রিয়াটি ১৫ দিন ধরে চলবে। তবে গৃহতালিকা তৈরির সময় অনলাইনের পাশাপাশি সরকারি প্রতিনিধিরা সরাসরি বাড়ি বাড়ি গিয়েও তথ্য সংগ্রহ করবেন।

পুরো জেলায় এই কাজে প্রায় ১৭,২২২ জন গণনাকারী এবং ২,৯৩৯ জন সুপারভাইজারকে নিযুক্ত করা হয়েছে।

জেলাশাসক বলেন, জনগণনা সফল করতে সাধারণ মানুষের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণ এবং সহযোগিতা অত্যন্ত জরুরি। এটি একটি নির্ভুল, অন্তর্ভুক্তিমূলক এবং সফল জনগণনা নিশ্চিত করার মূল চাবিকাঠি। স্ব-গণনা পর্বে মানুষের অংশগ্রহণ বাড়াতে জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে বিস্তৃত জনসচেতনতামূলক ও সহায়তা কর্মসূচি গ্রহণ করা হয়েছে। জেলার বিভিন্ন প্রান্তজুড়ে স্ব-গণনা প্রদর্শনী কেন্দ্র, হেল্প ডেস্ক, সচেতনতামূলক ট্যাবলো, আইইসি প্রচার এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রচারণা চালানো হচ্ছে।

নাগরিকদের সহায়তার জন্য জেলার বিভিন্ন কমন সার্ভিস সেন্টার, সাইবার ক্যাফে, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, স্বাস্থ্যকেন্দ্র ও স্থানীয় স্বশাসিত সংস্থাগুলিতে প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করা হয়েছে। এই বিশাল কর্মযজ্ঞ সফলভাবে পরিচালনার জন্য জেলায় ২৯টি ব্লক, ৭টি পৌরসভা এবং ১টি শিল্পনগরী মিলিয়ে মোট ৩৭টি কার্যক্রম অফিস নির্ধারণ করা হয়েছে, যাতে জনগণনা প্রক্রিয়ায় কোনো প্রকার অসুবিধা না হয়।