পুবের কলম ওয়েব ডেস্ক: কলকাতা হাই কোর্টে নিট পরীক্ষার নম্বর সংক্রান্ত মামলায় বড়সড় নিট জালিয়াতি প্রকাশ্যে এসেছে। ন্যাশনাল টেস্টিং এজেন্সি (এনটিএ) নম্বর কম দিয়েছে, এই অভিযোগ তুলে যে পরীক্ষার্থীরা আদালতের দ্বারস্থ হয়েছিলেন, তাঁদেরই জমা দেওয়া নথিপত্র জাল বলে প্রমাণিত হয়েছে। শুক্রবার বিচারপতি অমৃতা সিংহ এই মর্মে নির্দেশ দিয়েছেন যে, জালিয়াতিতে অভিযুক্ত এই পরীক্ষার্থীদের বিরুদ্ধে এনটিএ চাইলে আইন অনুযায়ী শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করতে পারবে।
আরও পড়ুন:
আদালতের নির্দেশে এনটিএ রিপোর্ট জমা দেওয়ার পর দেখা যায়, মামলাকারীরা নকল ওএমআর শিট এবং জাল স্কোরকার্ড জমা দিয়ে আদালতের কাছে প্রকৃত নম্বর গোপন করার চেষ্টা করেছেন। এনটিএ-র আইনজীবী জানান, এক মামলাকারী তিনটি ভিন্ন ফলাফল জমা দিয়েছেন, যার মধ্যে ২০২৫ সালের একটি জাল স্কোরকার্ডও অন্তর্ভুক্ত রয়েছে!
এনটিএ জানিয়েছে, ওই পরীক্ষার্থীর বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার পাশাপাশি তাঁকে আগামী তিন বছরের জন্য পরীক্ষায় বসতে দেওয়া হবে না। অন্য এক পরীক্ষার্থী ৩৭০ নম্বরের গরমিলের অভিযোগ তুললেও পরীক্ষক সংস্থা তা সম্পূর্ণ জাল প্রমাণ করে। আদালতের শাস্তির ভয়ে ওই পরীক্ষার্থী মামলা প্রত্যাহারের আবেদন জানান। নিট জালিয়াতি সংক্রান্ত এই ঘটনাটি বিচার ব্যবস্থাকে বিস্মিত করেছে।আরও পড়ুন:
গোটা বিষয়টি খতিয়ে দেখে বিচারপতি অমৃতা সিংহ মন্তব্য করেন, জাল নথি দিয়ে আদালতকেও প্রতারণা করার চেষ্টা করা হয়েছে।
তিনি এই মামলাগুলি খারিজ করে দেন এবং অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনি পদক্ষেপের নির্দেশ দেন। মক্কেলদের এই নিট জালিয়াতির জেরে চরম অস্বস্তিতে পড়েছেন মামলাকারী পরীক্ষার্থীদের আইনজীবীরা। তাঁরা অনেকেই এই বিষয়ে সওয়াল করতে চাইছেন না। পরিস্থিতি এমন পর্যায়ে পৌঁছেছে যে, সিনিয়র আইনজীবীরা তাঁদের জুনিয়রদের পাঠিয়ে মামলা প্রত্যাহার করে নিচ্ছেন। আইনজীবীদের একাংশের মতে, এই জাল নথি পেশ করার পিছনে প্রধানত দু'টি উদ্দেশ্য থাকতে পারে। প্রথমত, প্রশ্নফাঁস বিতর্কের আবহে কেন্দ্রীয় সরকারের ভাবমূর্তি নষ্ট করা। দ্বিতীয়ত, অনিচ্ছা সত্ত্বেও পরিবারের চাপে মেডিক্যালের প্রবেশিকা পরীক্ষা দেওয়া পড়ুয়ারা দুর্নীতির অজুহাত দিয়ে নিজেদের ব্যর্থতা আড়াল করতে চাইছেন।