পুবের কলম ওয়েব ডেস্ক: যন্তর মন্তরের সামনে ককরোচ জনতা পার্টির (সিজেপি) ডাকে ছাত্রবিক্ষোভ চলাকালীন পুলিশকর্মীদের ওপর হামলার প্রতিবাদে এবার সরব হল আক্রান্ত আধিকারিকদের পরিবার। শুক্রবার দিল্লিতে একজোট হয়ে সাংবাদিক বৈঠক করেন একাধিক পুলিশ আধিকারিকের পরিবারের সদস্যরা। সংসদ ভবন অভিযান এবং তার পরবর্তী পর্যায়ে পুলিশকর্মীদের ওপর কী ধরনের শারীরিক ও মানসিক চাপ তৈরি হয়েছিল, তার ভয়াবহ বর্ণনা দেন তাঁরা। অভিযোগ, সিজেপি-র কর্মসূচিতে শান্তি বজায় রাখতে গিয়ে পুলিশকর্মীরাই বেধড়ক মার খেয়েছেন এবং তাঁদের অনেককে হাসপাতালেও ভর্তি করতে হয়েছে। এই ঘটনার সুষ্ঠু বিচার চেয়ে ইতিমধ্যেই সুপ্রিম কোর্টের দ্বারস্থ হয়েছেন আক্রান্তদের পরিবার।
আরও পড়ুন:
দিল্লি পুলিশের এক সাব-ইনস্পেক্টরের কন্যা সাংবাদিক সম্মেলনে চাঞ্চল্যকর অভিযোগ তুলে বলেন, যন্তর মন্তরের মূল মঞ্চের সামনে তাঁর বাবাকে প্রায় পিটিয়ে মেরেই ফেলা হচ্ছিল। তাঁর বাবা ২৫ জুলাই ভিড়ের মধ্যে পড়ে মারাত্মকভাবে আক্রান্ত হন। দুপুর ২টো নাগাদ এই হামলার পর চার ঘণ্টা তিনি সংজ্ঞাহীন অবস্থায় হাসপাতালে ভর্তি ছিলেন। রাত ১০টা নাগাদ রক্তে লাল হয়ে যাওয়া উর্দি গায়ে তাঁকে সহকর্মীরা বাড়িতে ফিরিয়ে আনেন বলে ওই তরুণী জানান। তিনি আরও বলেন, তাঁর বাবা রোজই বাড়ি ফিরে বলতেন যে বিক্ষোভের নামে সেখানে সমাজবিরোধী কার্যকলাপ চলছে, যা তাঁদের পরিবারকে আরও চিন্তায় ফেলেছিল।
এরপর সমাজমাধ্যমে আক্রান্ত পুলিশকর্মীদেরই 'অপরাধী' বলে দাগিয়ে দেওয়া এবং তাঁদের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের হওয়ার খবর পেয়ে তাঁরা বিচার চাওয়ার সিদ্ধান্ত নেন।আরও পড়ুন:
দিল্লিতে নিযুক্ত এসিপি পদমর্যাদার এক আধিকারিকের স্ত্রী তাঁর অভিজ্ঞতার কথা বলতে গিয়ে জানান, ২০ জুলাই রাতে তাঁর স্বামী গুরুতর আহত অবস্থায় বাড়ি ফিরলে তিনি এবং তাঁর দু'বছরের কন্যা আতঙ্কে শিউরে ওঠেন। অন্য এক এএসআই-এর স্ত্রী অভিযোগ করেন, ইট, পাথর, ফুলের টব—যাঁর হাতের কাছে যা ছিল তা দিয়েই পুলিশকে আক্রমণ করা হয়েছে। অনেকের হেলমেট ভেঙে গিয়েছে। হেলমেট না থাকলে ওই হামলায় প্রাণহানি পর্যন্ত হতে পারত বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন তিনি। এই সমগ্র বিষয়টি সংসদে আলোচনা করার আবেদনও জানিয়েছেন পরিবারের সদস্যরা।