পুবের কলম, ওয়েবডেস্ক: একটি বিশ্লেষণে দেখা গেছে, ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধনের অংশ হিসেবে বিচার-বিবেচনার পর ভবানীপুর থেকে বাদ পড়া ৪০ শতাংশেরও বেশি ভোটার মুসলিম, যদিও দক্ষিণ কলকাতায় পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতাবন্দোপাধ্যায়ের বিধানসভা কেন্দ্রে মুসলিমদের জনসংখ্যা মাত্র ২০.১ শতাংশ।ভবানীপুরে, নির্বাচন কমিশনের ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধন (এসআইআর) প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবে যে বিচার-বিবেচনা করা হয়, তাতে মোট বাদ পড়া নামের ৫৯.৯ শতাংশই অমুসলিমদের মধ্যে হয়েছে।২৮শে ফেব্রুয়ারি নির্বাচন কমিশন কর্তৃক ভোটার তালিকা প্রকাশিত হলে, নির্বাচনী এলাকাটির ১,৫৯,২০১ জন ভোটারের মধ্যে মোট ৪২ শতাংশ ছিলেন বাঙালি হিন্দু, ৩৪ শতাংশ অবাঙালি হিন্দু এবং প্রায় ২৪ শতাংশ মুসলিম।
আরও পড়ুন:
বিচার প্রক্রিয়া সম্পন্ন হওয়ার পর কমিশন কর্তৃক প্রদত্ত নির্বাচনী এলাকার নতুন তথ্য থেকে জানা গেছে যে, ৩,৮৭৫ জন ভোটারের নাম তালিকা থেকে বাদ দেওয়া হয়েছে। তাদের মধ্যে ১,৫৫৪ জন মুসলিম এবং ২,৩২১ জন হিন্দু, জৈন ও শিখসহ অন্যান্য সম্প্রদায়ের, যারা সম্মিলিতভাবে নির্বাচনী এলাকাটির জনসংখ্যার প্রায় ৮০ শতাংশ।
তথ্য বিশ্লেষণকারী সাবার ইনস্টিটিউটের গবেষণা প্রধান অসীম চক্রবর্তী বলেন,“আমরা দেখতে পাচ্ছি যে ভবানীপুরে [বিচার প্রক্রিয়ায়] বাদ পড়া মুসলিম ভোটারের সংখ্যা ওই নির্বাচনী এলাকার জনসংখ্যার অনুপাতে অসামঞ্জস্যপূর্ন।অন্যান্য জায়গাতেও আমরা একই জিনিস দেখতে পাচ্ছি।”আরও পড়ুন:
১৬ ডিসেম্বর প্রকাশিত খসড়া ভোটার তালিকা থেকে প্রায় ৪৪,০০০ ভোটারের নাম বাদ দেওয়া হয়েছে।২৮শে ফেব্রুয়ারি প্রকাশিত চূড়ান্ত ভোটার তালিকা অনুযায়ী ভবানীপুরে ভোটারের সংখ্যা ছিল ১,৫৯,২০১ জন। খসড়া তালিকায় থাকা ১,৬১,৫২৫ জন ভোটারের মধ্য থেকে ২,৩৪২ জনকে বাদ দেওয়া হয়েছে, ১৮ জনের নাম যোগ করা হয়েছে এবং ১৪,১৫৪ জনকে বিচারাধীন হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। সোমবার সাবার ইনস্টিটিউট পূর্ব মেদিনীপুরের নন্দীগ্রামে একই ধরনের কিন্তু আরও বিস্ময়কর একটি অসামঞ্জস্যের কথা তুলে ধরেছিল, যেখানে বিচার প্রক্রিয়ায় বাদ পড়া ২,৮২৬ জন ভোটারের মধ্যে ২,৭০০ জনই মুসলিম ভোটার ছিলেন, যা মোট ভোটারের প্রায় ৯৫.৫ শতাংশ।