পুবের কলম ওয়েবডেস্কঃ দীর্ঘ রাজনৈতিক জীবনে স্বচ্ছ ভাবমূর্তি এবং দলের প্রতি অটুট আনুগত্যের জন্য পরিচিত তিনি। ২০২১ সালের বিধানসভা নির্বাচনে ভবানীপুর কেন্দ্র থেকে জিতে আসার পরও দলনেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের জন্য নিজের জেতা আসন ছেড়ে দিয়েছিলেন হাসিমুখে। পরে খড়দহ উপনির্বাচনে তৃণমূলের প্রার্থী হয়ে বিপুল ভোটে জয়ী হন। এবার ২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনে সেই প্রবীণ তৃণমূল নেতা এবং রাজ্যের মন্ত্রী শোভনদেব চট্টোপাধ্যায়ের সামনে নতুন রাজনৈতিক দায়িত্ব—প্রয়াত পঞ্চায়েতমন্ত্রী সুব্রত মুখোপাধ্যায়ের স্মৃতিবিজড়িত বালিগঞ্জ কেন্দ্রে দলের পতাকা উড়িয়ে রাখা।

সোমবার তৃণমূল কংগ্রেসের প্রার্থী হিসেবে আলিপুরের সার্ভে বিল্ডিংয়ে গিয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে মনোনয়নপত্র জমা দিলেন তিনি।

দিনের শুরুটা ছিল ধর্মীয় আচার মেনেই। গুরুত্বপূর্ণ রাজনৈতিক দিনে প্রথা অনুযায়ী সকালেই কালীঘাট মন্দিরে যান শোভনদেব। সেখানে দেবী কালীর পুজো দিয়ে আশীর্বাদ নেন।

পুজো সেরে তিনি সরাসরি মনোনয়ন জমা দেওয়ার উদ্দেশে রওনা হন। দিনের এই বিশেষ মুহূর্তে তাঁর পাশে ছিলেন পরিবারের সদস্যরাও। বিশেষ করে ছেলে সায়নদেব চট্টোপাধ্যায় বাবার সঙ্গে সর্বক্ষণ ছিলেন। দুপুর গড়াতেই দক্ষিণ কলকাতার রাজপথে দেখা যায় তৃণমূল কর্মী-সমর্থকদের উচ্ছ্বাস।
দুপুর ১২টার কিছু পরে হাজরা মোড় থেকে শুরু হয় বিশাল মিছিল। কয়েক হাজার কর্মী-সমর্থক এবং সাধারণ মানুষ সেই শোভাযাত্রায় অংশ নেন। হাতে দলীয় পতাকা, মুখে স্লোগান—সব মিলিয়ে নির্বাচনের আগে শাসকদলের শক্তিপ্রদর্শন স্পষ্ট হয়ে ওঠে। হাজরা থেকে শুরু হওয়া সেই মিছিল ধীরে ধীরে এগিয়ে যায় আলিপুরের সার্ভে বিল্ডিংয়ের দিকে। প্রচণ্ড রোদ উপেক্ষা করেই দুপুর ১টার কিছু পরে বিশাল মিছিল নিয়ে সেখানে পৌঁছন শোভনদেব এবং নির্বাচন কমিশনের নিয়ম মেনে রিটার্নিং অফিসারের কাছে নিজের মনোনয়নপত্র জমা দেন।

মনোনয়ন জমা দেওয়ার পর সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে শোভনদেব জানান, গত কয়েকদিন ধরে বালিগঞ্জের বিভিন্ন এলাকায় ঘুরে মানুষের সাড়া তিনি লক্ষ্য করেছেন। তাঁর কথায়, “এলাকার মানুষের সঙ্গে কথা বলে যতটা বুঝেছি, তাতে আশা করছি বালিগঞ্জ থেকেও মানুষের বিপুল সমর্থন পাব।”