পুবের কলম ওয়েব ডেস্কঃ টানা তৃতীয়বার নন্দীগ্রাম থেকে বিধায়ক হওয়ার পাশাপাশি, দু’বার তৃণমূল নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে পরাজিত করার পর এবার হাইভোল্টেজ ভবানীপুর কেন্দ্রেও জয়ী হয়েছেন বিজেপি নেতা শুভেন্দু অধিকারী । ভবানীপুরে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে পরাজিত করে এবং নন্দীগ্রাম আসন ধরে রেখে শুভেন্দু বুধবার তৃণমূল কংগ্রেসকে কড়া বার্তা দিলেন। 

ভোটের ফল ঘোষণার পর আজ মঙ্গলবার সিইও দপ্তরে গিয়ে শুভেন্দু বলেন, বিজেপি সরকার এলে “তৃণমূলের প্রতিটি দুষ্কৃতীকে অত্যাচারের জন্য জবাবদিহি করতে হবে”। মুখ্যমন্ত্রীর পদত্যাগ প্রসঙ্গে তিনি জানান, এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেবেন রাজ্যপাল এবং তাঁর দাবি, বাংলার রাজনীতিতে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের প্রাসঙ্গিকতা শেষ হয়ে গিয়েছে।

ভোট-পরবর্তী হিংসা নিয়ে তৃণমূলের অভিযোগ খারিজ করে শুভেন্দু বলেন, রাজ্যে মাত্র ৫০–৬০টি ছোটখাটো অভিযোগ এসেছে এবং ১০০টিরও কম এফআইআর দায়ের হয়েছে। তাঁর দাবি, ২০২১ সালের পরিস্থিতির সঙ্গে এর কোনও তুলনাই হয় না—তখন ১২ হাজার এফআইআর দায়ের হয়েছিল, ৫৭ জনের মৃত্যু হয় এবং এক লক্ষেরও বেশি মানুষ বাড়ি ছাড়তে বাধ্য হয়েছিলেন, পাশাপাশি শতাধিক ‘সেফ হাউস’ তৈরি করতে হয়েছিল।

তিনি স্পষ্ট করে বলেন, “আমি কোনও হিংসার সমর্থন করি না, করবও না। আইন হাতে তুলে নেওয়ার প্রয়োজন নেই।

” একইসঙ্গে জানান, বিজেপির ইতিমধ্যেই উল্লেখযোগ্য ভোটব্যাঙ্ক তৈরি হয়েছে এবং ভবিষ্যতে তা আরও বাড়বে। নন্দীগ্রামকে নিজের রাজনৈতিক ‘ভদ্রাসন’ বলে উল্লেখ করে শুভেন্দু জানান, ১০ দিনের মধ্যে তিনি একটি আসন ছেড়ে দেবেন, তবে কোনটি রাখবেন তা দলই সিদ্ধান্ত নেবে। দুটি কেন্দ্রের জয় তাঁর রাজনৈতিক জীবনে ভিন্ন তাৎপর্য বহন করছে। নন্দীগ্রাম একসময় জমি আন্দোলনের কেন্দ্র ছিল, যেখানে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ঘনিষ্ঠ সহযোদ্ধা হিসেবে উঠে এসেছিলেন শুভেন্দু।
পরে বিজেপিতে যোগ দিয়ে ২০২১ সালে তাঁকে পরাজিত করেন তিনি, আর এবারের ভবানীপুর জয় তাঁর রাজনৈতিক অবস্থানকে আরও শক্তিশালী করল বলে মনে করছে রাজনৈতিক মহল।

শুভেন্দুর আরও দাবি, এবারের নির্বাচন অবাধ ও শান্তিপূর্ণ হয়েছে এবং বহু ভোটার ১০–১৫ বছর পর নিজেদের ভোট নিজেরাই দিতে পেরেছেন। নির্বাচন কমিশন, কেন্দ্রীয় বাহিনী, কলকাতা পুলিশ ও রাজ্য পুলিশের ভূমিকাকেও তিনি ধন্যবাদ জানান। ভোট-পরবর্তী পরিস্থিতি নিয়ে তিনি বলেন, “এবার বড়সড় কিছু ঘটেনি। আগের সব ফাইল খোলা হবে এবং আইনের আওতায় অপরাধীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।” তাঁর বক্তব্য, সরকার গঠন হলে আইন অনুযায়ী ‘গুন্ডা দমন’ হবে এবং রাজ্যে শৃঙ্খলা প্রতিষ্ঠিত হবে।