পুবের কলম ওয়েব ডেস্ক: গরুকে জাতীয় পশুর স্বীকৃতি দেওয়া কিংবা গোটা দেশে গো-হত্যা সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ করার বিষয়ে এই মুহূর্তে কেন্দ্রীয় সরকারের সামনে কোনও প্রস্তাব নেই বলে স্পষ্ট জানিয়ে দিলেন কেন্দ্রীয় আইনমন্ত্রী অর্জুন রাম মেঘওয়াল। তিনি জানিয়েছেন, বিষয়টি নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে নানা মহল থেকে দাবি উঠলেও বর্তমানে সরকারিভাবে এমন কোনও সিদ্ধান্ত গ্রহণের প্রক্রিয়া শুরু হয়নি।
আরও পড়ুন:
এক সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে নানা সংগঠন, সামাজিক গোষ্ঠী এবং সাধারণ মানুষের পক্ষ থেকে এই বিষয়ে নিয়মিত আবেদন জানানো হয়। সাংসদদের কাছেও বহু স্মারকলিপি জমা পড়ে। তবে এখনও পর্যন্ত এমন কোনও প্রস্তাব কেন্দ্রীয় মন্ত্রিসভার আলোচনায় ওঠেনি।
আইনমন্ত্রীর বক্তব্য, ভবিষ্যতে যদি কোনও প্রস্তাব এমন স্তরে পৌঁছয় যেখানে সরকারি সিদ্ধান্ত বা মন্ত্রিসভার অনুমোদনের প্রয়োজন হবে, তখন সে বিষয়ে সরকার আনুষ্ঠানিকভাবে জানাবে। কিন্তু বর্তমানে বিষয়টি সেই পর্যায়ে পৌঁছয়নি।আরও পড়ুন:
তিনি আরও বলেন, গো-হত্যা সংক্রান্ত আইন দেশে একরকম নয়। বিভিন্ন রাজ্য নিজেদের সামাজিক পরিবেশ, স্থানীয় প্রয়োজন এবং আইন অনুযায়ী আলাদা সিদ্ধান্ত নেয়। সেই কারণেই রাজ্যভেদে এই বিষয়ে বিধিনিষেধের পার্থক্য দেখা যায়।
সম্প্রতি পশ্চিমবঙ্গে গবাদি পশু জবাই সংক্রান্ত আইন কার্যকর করা নিয়ে রাজ্য সরকারের কিছু পদক্ষেপের প্রসঙ্গও উঠে আসে। সেই বিষয়ে কেন্দ্রীয় মন্ত্রী বলেন, এ ধরনের বিষয়ে রাজ্য সরকার তাদের নিজস্ব পরিস্থিতি বিচার করেই সিদ্ধান্ত নেয়।আরও পড়ুন:
মন্ত্রী স্বীকার করেছেন, গো-হত্যা নিষিদ্ধ করার দাবি বারবার উঠছে এবং তা নিয়ে সমাজের বিভিন্ন স্তরে আলোচনা চলছে। সামাজিক মাধ্যমেও বিষয়টি নিয়ে মতবিনিময় চলছে জোরকদমে। তবে আলোচনা চললেও কেন্দ্রীয় স্তরে এখনও কোনও নীতিগত সিদ্ধান্তের পথে সরকার এগোয়নি বলেই তিনি জানিয়েছেন।
উল্লেখ্য, শুধু হিন্দু সংগঠন নয়, কয়েকটি মুসলিম সংগঠন ও ধর্মীয় নেতার পক্ষ থেকেও গরুকে জাতীয় পশুর মর্যাদা দেওয়ার দাবি উঠেছে। তাঁদের মতে, এই পদক্ষেপ সামাজিক সম্প্রীতি বজায় রাখতে সহায়ক হতে পারে এবং এই ইস্যুকে ঘিরে বারবার তৈরি হওয়া উত্তেজনা কমাতে সাহায্য করবে।আরও পড়ুন:
জমিয়তে উলামায়ে হিন্দের প্রধান মাওলানা আরশাদ মাদানীও এই দাবির সমর্থনে মত প্রকাশ করেছেন। তাঁর বক্তব্য, পারস্পরিক সম্মান ও শান্তিপূর্ণ সহাবস্থানের স্বার্থে বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে দেখা যেতে পারে।প্রাক্তন উপরাষ্ট্রপতি হামিদ আনসারিও অতীতে একই ধরনের মতামত জানিয়েছিলেন। তিনি বলেছিলেন, গরুকে জাতীয় পশুর মর্যাদা দিলে যদি দীর্ঘদিনের বিতর্কের সমাধান সম্ভব হয়, তবে তা বিবেচনা করা যেতে পারে। একই সঙ্গে তিনি মুসলিম সমাজের উদ্দেশে গরু কুরবানি এড়িয়ে চলার আবেদনও জানিয়েছিলেন।অল ইন্ডিয়া মুসলিম পার্সোনাল ল বোর্ডের একাধিক সদস্যও মনে করেন, গরুকে জাতীয় পশুর স্বীকৃতি দেওয়া হলে বহু মানুষের ধর্মীয় বিশ্বাস ও সাংস্কৃতিক অনুভূতির প্রতি সম্মান জানানো হবে।