পুবের কলম ওয়েব ডেস্কঃ বিধানসভা নির্বাচন যত এগিয়ে আসছে, ততই উত্তপ্ত হয়ে উঠছে পশ্চিমবঙ্গের রাজনৈতিক পরিবেশ। ভোটের কাউন্টডাউন শুরু হতেই প্রার্থীদের মনোনয়ন জমা দেওয়ার প্রক্রিয়া ঘিরে রাজ্যজুড়ে তৎপরতা তুঙ্গে। সোমবার সেই আবহেই দিনভর একাধিক রাজনৈতিক দলের হেভিওয়েট প্রার্থীরা নির্বাচন কমিশনের দফতরে গিয়ে মনোনয়ন জমা দেন। কর্মী-সমর্থকদের উচ্ছ্বাস, মিছিল, স্লোগান, সব মিলিয়ে যেন উৎসবের আবহেই প্রার্থীরা আনুষ্ঠানিকভাবে নির্বাচনী লড়াইয়ে নাম লেখালেন। দিনের শুরুতেই ঢাকের বাদ্যি ও ব্যান্ড পার্টির তালে বিশাল শোভাযাত্রা করে নিজের মনোনয়ন জমা দেন তৃণমূল কংগ্রেসের প্রার্থী কুণাল ঘোষ।

সেই রঙিন মিছিলের রেশ কাটতে না কাটতেই দুপুরে প্রায় একই আবহে মনোনয়ন জমা দিতে পৌঁছন শ্যামপুকুর বিধানসভা কেন্দ্রের বিদায়ী মন্ত্রী এবং তৃণমূলের প্রার্থী শশী পাঁজা।

মনোনয়ন জমা দিতে যাওয়ার আগে শশী পাঁজার শোভাযাত্রা ছিল চোখে পড়ার মতো। হুড খোলা একটি সাজানো গাড়িতে দাঁড়িয়ে তিনি কর্মী-সমর্থকদের সঙ্গে মিছিল করে এগিয়ে যান। চারপাশে দলীয় পতাকা, স্লোগান, ফুলের পাপড়ির বর্ষণ—সব মিলিয়ে তৈরি হয় এক উচ্ছ্বসিত পরিবেশ। কিন্তু সেই আনন্দঘন মুহূর্তেই আচমকা আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন তিনি।

গাড়িতে দাঁড়িয়ে থাকা অবস্থায় তাঁর চোখে জল দেখা যায়। এই আবেগের কারণ জানতে চাইলে সাংবাদিকদের তিনি জানান, সেই মুহূর্তে তাঁর প্রয়াত বাবার কথা মনে পড়ে যাচ্ছিল। পাশাপাশি, দলের সাধারণ কর্মী এবং এলাকার তরুণদের যে আন্তরিক সমর্থন ও ভালোবাসা তিনি পাচ্ছেন, তা তাঁকে গভীরভাবে স্পর্শ করেছে। এই অকৃত্রিম সমর্থনই তাঁর রাজনৈতিক পথচলার শক্তি বলে মন্তব্য করেন তিনি।

তবে মনোনয়ন জমা দেওয়ার পথটা তাঁর জন্য একেবারে নির্বিঘ্ন ছিল না।

এর আগে ভোটার তালিকা ঘিরে একটি বিতর্ককে কেন্দ্র করে তাঁকে নিয়ে তৈরি হয়েছিল অনিশ্চয়তার পরিস্থিতি। নির্বাচন কমিশনের দ্বিতীয় দফার অতিরিক্ত ভোটার তালিকা প্রকাশের আগে পর্যন্ত তাঁর নাম ছিল ‘আন্ডার অ্যাডজুডিকেশন’ তালিকায়। একজন বিদায়ী মন্ত্রী এবং বর্তমান বিধায়কের নাম ভোটার তালিকায় অনিশ্চিত অবস্থায় থাকায় রাজনৈতিক মহলে জোর আলোচনা শুরু হয়েছিল। পরবর্তীতে দ্বিতীয় সাপ্লিমেন্টারি তালিকায় তাঁর নাম অন্তর্ভুক্ত হওয়ায় সেই জল্পনার অবসান ঘটে। যদিও এতে স্বস্তি পেলেও ক্ষোভ চাপা রাখেননি শশী পাঁজা। তাঁর অভিযোগ, শ্যামপুকুর বিধানসভা কেন্দ্রের প্রায় ২৭০০-রও বেশি সাধারণ ভোটারের নাম এখনও ‘আন্ডার অ্যাডজুডিকেশন’ তালিকাতেই রয়ে গেছে।

এই পরিস্থিতির জন্য নির্বাচন কমিশন এবং বিরোধী দল বিজেপিকে একযোগে নিশানা করেন তিনি। শশী পাঁজা বলেন, বিধানসভা নির্বাচনে প্রার্থী হওয়া এবং মানুষের প্রতিনিধি হিসেবে দাঁড়ানো তাঁর গণতান্ত্রিক অধিকার।