সোনারপুরে তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের উপর হামলা ও হেনস্তার ঘটনায় বড় পদক্ষেপ করল পুলিশ। রাতভর তল্লাশি অভিযান চালিয়ে ছয়জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। ঘটনার ভিডিও ফুটেজ খতিয়ে দেখে অভিযুক্তদের শনাক্ত করা হয়েছে বলে পুলিশ সূত্রে খবর।
শনিবার মৃত এক তৃণমূল কর্মীর পরিবারের সঙ্গে দেখা করতে সোনারপুরে গিয়েছিলেন অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। সেই সময় তিনি বিক্ষুব্ধ জনতার রোষের মুখে পড়েন।

 

অভিযোগ, তাঁর কনভয় লক্ষ্য করে ডিম ও ইটের টুকরো ছোড়া হয়, পাশাপাশি ‘চোর’ স্লোগানও দেওয়া হয়। পরিস্থিতি দ্রুত উত্তপ্ত হয়ে উঠলে পুলিশি নিরাপত্তার মধ্যেই তাঁকে ঘটনাস্থল থেকে সরিয়ে নিয়ে যাওয়া হয়।
ঘটনার পরই তদন্তে নামে সোনারপুর থানার পুলিশ। রাতভর এলাকায় অভিযান চালিয়ে হামলার সঙ্গে জড়িত সন্দেহে ছয়জনকে গ্রেপ্তার করা হয়। ধৃতরা সকলেই স্থানীয় বাসিন্দা বলে প্রাথমিকভাবে জানা গিয়েছে।

তদন্তকারীরা মনে করছেন, ধৃতদের জিজ্ঞাসাবাদ থেকে হামলার নেপথ্যে থাকা আরও ব্যক্তিদের সম্পর্কে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য মিলতে পারে।

পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, হামলার সময় উপস্থিত ব্যক্তিদের শনাক্ত করতে একাধিক ভিডিও ফুটেজ ও স্থানীয় সূত্রের সাহায্য নেওয়া হয়েছে। ঘটনায় আর কারা জড়িত, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে এবং খুব শিগগিরই আরও গ্রেপ্তার হতে পারে বলে ইঙ্গিত মিলেছে।
অন্যদিকে, হেনস্তার ঘটনার পর অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়কে প্রথমে ইএম বাইপাসের ধারের একটি বেসরকারি হাসপাতালে এবং পরে শহরের আরও একটি হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়েছিল। তবে চিকিৎসকদের মতে, তাঁর হাসপাতালে ভর্তি হওয়ার প্রয়োজন ছিল না।

প্রাথমিক চিকিৎসার পর তাঁকে বাড়িতে পাঠিয়ে দেওয়া হয়।

এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক তরজা তীব্র হয়েছে। প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় অভিযোগ করেছেন, রাজনৈতিক প্রতিহিংসার কারণেই অভিষেককে প্রয়োজনীয় চিকিৎসা পরিষেবা থেকে বঞ্চিত করা হয়েছে। তিনি জানিয়েছেন, আপাতত বাড়িতেই অভিষেকের চিকিৎসা চলবে এবং প্রয়োজন হলে তাঁকে হায়দরাবাদে নিয়ে গিয়ে চিকিৎসার ব্যবস্থা করা হবে।
সোনারপুরে এই ঘটনাকে ঘিরে এখনও উত্তেজনা অব্যাহত রয়েছে। এলাকায় মোতায়েন রয়েছে অতিরিক্ত পুলিশ বাহিনী এবং পরিস্থিতির উপর কড়া নজর রাখছে প্রশাসন।