প্রকৃতির অপার সৌন্দর্যের জন্য ‘ভূস্বর্গ’ নামে পরিচিত জম্মু কাশ্মীরের দুর্গম পাহাড়ি অঞ্চলে ফের সামনে এল স্বাস্থ্য পরিকাঠামোর করুণ চিত্র। সময়মতো চিকিৎসা না পাওয়ায় কিস্তওয়ার জেলার মারওয়া উপত্যকার এক গর্ভবতী মহিলার গর্ভেই মৃত্যু হল নবজাতকের।

মারওয়া তহসিলের দেহারনা গ্রামের বাসিন্দা শাইস্তা বেগমের শনিবার প্রসববেদনা শুরু হলে পরিবার দ্রুত তাঁকে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করে। কিন্তু গ্রামে পাকা রাস্তা বা অ্যাম্বুল্যান্স পরিষেবা না থাকায় পরিবারের সদস্যরা তাঁকে কাঁধে করে কয়েক কিলোমিটার দুর্গম পাহাড়ি পথ অতিক্রম করে প্রধান সড়কে নিয়ে আসেন।

সেখান থেকে একটি গাড়িতে করে তাঁকে নওয়াপাচির প্রাথমিক স্বাস্থ্যকেন্দ্রে পৌঁছে দেওয়া হয়।

কিন্তু সেখানে গিয়ে পরিবার জানতে পারে, কোনো স্ত্রীরোগ বিশেষজ্ঞ উপস্থিত নেই। ফলে সময় নষ্ট না করে তাঁকে প্রায় ১২০ কিলোমিটার দূরের অনন্তনাগ সরকারি মেডিক্যাল কলেজে নিয়ে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।

তবে অনন্তনাগের পথে অবস্থিত দুর্গম মার্গান পাসের তুষারাবৃত ও বিপজ্জনক রাস্তা যাত্রাকে আরও কঠিন করে তোলে।

দীর্ঘ ও ঝুঁকিপূর্ণ সেই পথেই শাইস্তা বেগমের গর্ভে থাকা শিশুটির মৃত্যু হয়।

ঘটনার পর শাইস্তার স্বামী ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, “এখানে প্রতিটি গর্ভধারণই মৃত্যুর সঙ্গে লড়াই। স্বাস্থ্যকেন্দ্র থাকলেও সেখানে চিকিৎসক নেই। প্রসববেদনা শুরু হলে আমরা আমাদের নারীদের কাঁধে তুলে নিই এবং প্রার্থনা করি, যেন পাহাড় তাদের কেড়ে না নেয়।

স্থানীয়দের অভিযোগ, প্রায় ৩০ হাজার মানুষের বসবাস থাকা সত্ত্বেও মারওয়া উপত্যকায় পর্যাপ্ত স্বাস্থ্যসেবা নেই।

নওয়াপাচির প্রাথমিক স্বাস্থ্যকেন্দ্রই বহু গ্রামের একমাত্র ভরসা, কিন্তু অধিকাংশ সময় সেখানে প্রয়োজনীয় চিকিৎসক পাওয়া যায় না। ফলে গর্ভবতী মহিলাদের ১০০ কিলোমিটারেরও বেশি দূরে কিস্তওয়ার বা অনন্তনাগে পাঠাতে হয়।

শীতকালে ভারী তুষারপাতের কারণে মার্গান পাস কয়েক মাসের জন্য বন্ধ হয়ে গেলে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হয়ে ওঠে। তখন জরুরি চিকিৎসা পরিষেবা কার্যত নাগালের বাইরে চলে যায়।

এই মর্মান্তিক ঘটনার পর স্থানীয় বাসিন্দারা মারওয়া স্বাস্থ্যকেন্দ্রে স্থায়ীভাবে একজন স্ত্রীরোগ বিশেষজ্ঞ নিয়োগ এবং ২৪ ঘণ্টার অ্যাম্বুল্যান্স পরিষেবা চালুর জোর দাবি তুলেছেন।