দক্ষিণ ২৪ পরগনার ফলতা বিধানসভা কেন্দ্রে ভোটকে ঘিরে একাধিক অনিয়ম ও অশান্তির অভিযোগের জেরে নজিরবিহীন সিদ্ধান্ত নিল নির্বাচন কমিশন। গোটা কেন্দ্রের ২৮৫টি বুথেই পুনর্নির্বাচনের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। শনিবার রাতে এই ঘোষণা করেন রাজ্যের মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিক মনোজ আগরওয়াল।
আরও পড়ুন:
কমিশনের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, আগামী ২১ মে ফলতা বিধানসভা কেন্দ্রে পুনরায় ভোটগ্রহণ হবে। ভোট নেওয়া হবে সকাল ৭টা থেকে সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত।
এরপর ২৪ মে ওই কেন্দ্রের ভোট গণনা ও ফলপ্রকাশ করা হবে।আরও পড়ুন:
উল্লেখযোগ্য বিষয় হল, রাজ্যের বাকি ২৯৩টি আসনের ভোটগণনা ও ফলপ্রকাশ হবে আগামী ৪ মে। তবে ফলতার ফলাফল সেই দিন প্রকাশ করা হবে না; পুনর্নির্বাচনের পর আলাদা করে গণনা করা হবে।
আরও পড়ুন:
গত ২৯ মে দ্বিতীয় দফার ভোটে ফলতা বিধানসভা এলাকায় একাধিক বুথ থেকে গুরুতর অনিয়মের অভিযোগ উঠে আসে। কোথাও ইভিএমে প্রতীক আটকে দেওয়া, কোথাও বুথের ভেতরে অস্বাভাবিক ভিড়, আবার কোথাও বুথের বাইরে রাজনৈতিক সংঘর্ষ এবং ভোটারদের ভয় দেখানোর অভিযোগ জমা পড়ে কমিশনের কাছে।
এমনকি শাসকদলের প্রার্থী জাহাঙ্গির খানের বিরুদ্ধেও অভিযোগ ওঠে।আরও পড়ুন:
এই পরিস্থিতিতে রাজ্যের বিশেষ নির্বাচনী পর্যবেক্ষক সুব্রত গুপ্ত পুরো বিষয়টি খতিয়ে দেখে কমিশনের কাছে গোটা কেন্দ্রে পুনর্নির্বাচনের সুপারিশ করেন। সেই রিপোর্টের ভিত্তিতেই শেষ পর্যন্ত এই কঠোর সিদ্ধান্ত নেয় নির্বাচন কমিশন।
আরও পড়ুন:
আইন অনুযায়ী, ১৯৫০ সালের জনপ্রতিনিধিত্ব আইনের ৫৮এ ধারায় বলা আছে—যদি কোনও বিধানসভা কেন্দ্রে একাধিক বুথে গুরুতর অনিয়ম বা বিশৃঙ্খলার প্রমাণ পাওয়া যায়, তবে কমিশন পুরো কেন্দ্রেই পুনর্নির্বাচনের নির্দেশ দিতে পারে। সেই ক্ষেত্রেই আলাদা দিনে নতুন করে ভোট ও গণনা করা হয়।
আরও পড়ুন:
বাস্তবে গোটা একটি বিধানসভা কেন্দ্রে পুনর্নির্বাচনের ঘটনা খুবই বিরল। ফলে ফলতার ক্ষেত্রে কমিশনের এই সিদ্ধান্তকে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ ও নজিরবিহীন বলেই মনে করা হচ্ছে।