দক্ষিণ ২৪ পরগনার ফলতা বিধানসভা কেন্দ্রে নজিরবিহীন পুনর্নির্বাচনের সিদ্ধান্ত ঘিরে তীব্র রাজনৈতিক উত্তাপ তৈরি হয়েছে। নির্বাচন কমিশনের এই সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে সরব হয়ে কড়া ভাষায় আক্রমণ শানালেন অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। তাঁর দাবি, এই সিদ্ধান্ত সম্পূর্ণ রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত।
আরও পড়ুন:
শনিবার রাতে কমিশন ঘোষণা করে, ফলতা বিধানসভা কেন্দ্রের সবকটি—মোট ২৮৫টি বুথেই পুনরায় ভোটগ্রহণ হবে আগামী ২১ মে। ২৪ মে ওই কেন্দ্রের ভোটগণনা ও ফলপ্রকাশ করা হবে।
ভোটের দিন অর্থাৎ ২৯ এপ্রিল কিছু বুথে অশান্তি ও অনিয়মের অভিযোগ ওঠার পরই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।আরও পড়ুন:
এই ঘোষণার পরেই এক্স (সাবেক টুইটার)-এ তীব্র প্রতিক্রিয়া দেন অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। তিনি লেখেন, “১০ জন্ম চেষ্টা করেও ডায়মন্ড হারবার মডেলে দাঁত ফোটাতে পারবে না এই বাংলা বিরোধী গুজরাটি ও তাদের দালাল জ্ঞানেশ কুমার।” একইসঙ্গে কমিশনকে সরাসরি চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দিয়ে বলেন, “যা খুশি সঙ্গে নিয়ে ফলতায় আসুন, এমনকি দিল্লি থেকে গডফাদারদেরও নিয়ে আসুন সাহস থাকলে লড়াই করুন।”
আরও পড়ুন:
অভিষেকের বক্তব্যে স্পষ্ট, তিনি এই পুনর্নির্বাচনের নেপথ্যে রাজনৈতিক উদ্দেশ্য দেখছেন।
তাঁর মতে, ফলতায় যতটা ভোটের লড়াই হবে, তার চেয়েও বেশি হবে ‘স্নায়ুর লড়াই’।আরও পড়ুন:
একই সুরে কমিশনের সিদ্ধান্তের সমালোচনা করেছেন তৃণমূলের আরেক নেতা কুণাল ঘোষ। ভিডিও বার্তায় তিনি প্রশ্ন তোলেন, ভোটের দিন এত বড় অনিয়ম হলে তা তাৎক্ষণিকভাবে ধরা পড়ল না কেন। তাঁর কটাক্ষ, “গোটা ফলতায় রিগিং হলো, আর কমিশন তিন দিন পর বুঝতে পারল?”
কুণাল ঘোষ আরও দাবি করেন, ভোটের দিন দায়িত্বে থাকা পুলিশ পর্যবেক্ষক অজয় পাল শর্মার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া উচিত।
তৃণমূল কংগ্রেসের অভিযোগ, কমিশনের এই সিদ্ধান্ত রাজনৈতিকভাবে প্রভাবিত। দলের দাবি, ভোটের ফল ইতিমধ্যেই পরিষ্কার হয়ে যাওয়ার পর এই পুনর্নির্বাচনের ঘোষণা দেওয়া হয়েছে।
আরও পড়ুন:
অন্যদিকে, নির্বাচন কমিশন জানিয়েছে, একাধিক বুথে গুরুতর অনিয়মের অভিযোগ এবং পর্যবেক্ষকদের রিপোর্টের ভিত্তিতেই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। আইন অনুযায়ী, প্রয়োজন হলে পুরো একটি বিধানসভা কেন্দ্রেই পুনর্নির্বাচন করা যেতে পারে।