পুবের কলম ওয়েবডেস্কঃ নির্বাচনের আবহে আবারও আইনি জটিলতায় জড়ালেন আম জনতা উন্নয়ন পার্টির চেয়ারম্যান হুমায়ুন কবীর। শুক্রবার রাতে বীরভূমের সিউড়ি থানায় তাঁর বিরুদ্ধে লিখিত অভিযোগ জমা দিয়েছেন ‘রাষ্ট্রীয় অল্পসংখ্যক আরক্ষণ মোর্চা’-র সর্বভারতীয় সভাপতি হাজী মুহাম্মদ পারভেজ সিদ্দিকি। অভিযোগে বলা হয়েছে, নির্বাচনের আগে সাম্প্রদায়িক বিভাজন উস্কে দেওয়ার চেষ্টা করছেন হুমায়ুন।

অভিযোগকারী সিদ্দিকির দাবি, আর্থিক লেনদেনের মাধ্যমে রাজ্যে বিধানসভা ভোটে ধর্মীয় মেরুকরণ ঘটানোর পরিকল্পনা করছেন হুমায়ুন।

এই অভিযোগের ভিত্তিতে সিউড়ি থানায় একটি ‘জিরো এফআইআর’ দায়ের করা হয়েছে এবং দ্রুত তাঁর গ্রেফতারের দাবিও তোলা হয়েছে। সিদ্দিকির বক্তব্য অনুযায়ী, মুসলিম সমাজের কাছে বাবরি মসজিদ অত্যন্ত আবেগঘন ও বিশ্বাসের প্রতীক। সম্প্রতি সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া একটি ভিডিওর প্রসঙ্গ তুলে তিনি অভিযোগ করেন, সেখানে হুমায়ুন কবীর নাকি বলেছেন বাবরি মসজিদ নির্মাণ তাঁর প্রধান উদ্দেশ্য নয়। বরং হাজার কোটি টাকার একটি সমঝোতার মাধ্যমে তিনি কোনও শক্তির হয়ে ভোটে লড়াই করতে চান এবং পরোক্ষভাবে এক ‘ফ্যাসিস্ট শক্তি’র সুবিধা করে দিতে চাইছেন।
এই ধরনের মন্তব্যে মুসলিম সম্প্রদায়ের মধ্যে অসন্তোষ তৈরি হয়েছে বলেও দাবি করেন তিনি।

অন্যদিকে, অভিযোগকে সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন বলে উড়িয়ে দিয়েছেন হুমায়ুন কবীর। তাঁর দাবি, এর পিছনে তৃণমূলের রাজনৈতিক পরিকল্পনা রয়েছে। তাঁর কথায়, ভোটের আগে মুসলিম সমাজের মধ্যে বিভ্রান্তি ছড়ানোর উদ্দেশ্যে তৃণমূলের কৌশলবিদরা বাইরে থেকে কিছু লোক এনে এই ধরনের প্রচার চালাচ্ছেন।

তিনি আরও বলেন, ওই অভিযোগকারী এর আগেও মুর্শিদাবাদের রেজিনগর থানায় তাঁর বিরুদ্ধে অভিযোগ করেছিলেন।

তবে এই অভিযোগকে খুব একটা গুরুত্ব দিতে চান না বলেও জানান হুমায়ুন। তিনি স্পষ্ট করে বলেন, তিনি আগাম জামিন নেওয়ার পথে হাঁটবেন না এবং বিষয়টি আইন অনুযায়ীই এগোতে দেবেন। প্রসঙ্গত, এই ঘটনাকে ঘিরে এখন পর্যন্ত তিনটি থানায় তাঁর বিরুদ্ধে অভিযোগ দায়ের হয়েছে। কলকাতার ময়দান থানায় প্রথম অভিযোগের পর মুর্শিদাবাদের রেজিনগর থানায় মামলা হয়। এবার বীরভূমের সিউড়ি থানাতেও তাঁর বিরুদ্ধে এফআইআর নথিভুক্ত হল। ইতিমধ্যেই রেজিনগর থানার পুলিশ আগের অভিযোগের তদন্ত শুরু করেছে।