পুবের কলম ওয়েবডেস্কঃ সোশ্যাল মিডিয়ায় আম জনতা উন্নয়ন পার্টির প্রধান হুমায়ুন কবিরের একটি ভিডিও ভাইরাল হয়েছে। সেই ভিডিও ঘিরে এই মুহূর্তে তোলপাড় রাজ্য রাজনীতি। ভাইরাল ভিডিও অনুযায়ী মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্যদোপাধায়কে হারাতে বিজেপির সঙ্গে হাজার কোটি টাকার ডিল করেছেন হুমায়ুন। অভিযোগ, বিজেপির শীর্ষ নেতৃত্বের নির্দেশেই ‘বি-টিম’ হিসেবে কাজ করছেন আম জনতা উন্নয়ন পার্টির চেয়ারম্যান হুমায়ুন কবীর। ওই ভাইরাল ভিডিওতে তাঁকে নিজের মুখেই স্বীকার করতে শোনা গিয়েছে যে, 'মুসলিমদের বোকা বানিয়ে' তিনি ভোট নিজেদের দিকে টানতে চান, যাতে মেরুকরণের মাধ্যমে পরোক্ষে বিজেপিরই সুবিধা হয়। ভোটের মুখে এই ভিডিও প্রকাশ্যে আসতেই রাজ্য রাজনীতিতে ব্যাপক চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে।
আরও পড়ুন:
ভিডিওটিতে হুমায়ুন ও এক অজ্ঞাতপরিচয় ব্যক্তির কথোপকথন শোনা গিয়েছে। সেখানে হুমায়ুনকে বলতে শোনা যাচ্ছে, যে কোনও মূল্যে তিনি মমতাকে সরাতে চান। এই কাজের জন্য রাজ্যের বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারীর সঙ্গে তাঁর নিয়মিত কথা হচ্ছে। শুভেন্দু তাঁকে দিল্লিতে নিয়ে গিয়ে বিজেপির কেন্দ্রীয় নেতৃত্বের সঙ্গে আলাপ করিয়ে দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন বলেও দাবি করা হয়েছে। শুধু তাই নয়, প্রধানমন্ত্রীর দপ্তর (পিএমও), অসমের মুখ্যমন্ত্রী হিমন্ত বিশ্বশর্মা এবং মধ্যপ্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী মোহন যাদবের সঙ্গেও তাঁর নিয়মিত যোগাযোগের কথা ভিডিওতে শোনা গিয়েছে। যদিও স্পষ্ট করে দেওয়া হচ্ছে যে, 'পুবের কলম' এই ভিডিওর সত্যতা যাচাই করেনি। কী রয়েছে হুমায়ুনের কথোপকথন ফাঁস হওয়া সেই ভিডিওতে? তা বিস্তারিত তুলে ধরা হল-
আরও পড়ুন:
হুমায়ুন কবির: আজকের দিনে যে মূল বিষয়টা উঠেছে বাবরি মসজিদের, সেটা হবে কি হবে না তা পরে ভাবুন। আজকের দিনে এই সারা ভারতের মুসলমানরা আমাকে সমর্থন করছে, এর মানে কি শুধু মুর্শিদাবাদের মুসলিমদের সমর্থন পাচ্ছি, নাকি পুরো রাজ্য থেকে? পুরো রাজ্যের, পুরো রাজ্যের। মুসলমানদের সমর্থন পাচ্ছি। দেখুন না, ৬ ডিসেম্বর শুক্রবার ছিল, আমরা সেই শুক্রবারে ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেছিলাম। ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপনের পর যে শুক্র-শনিবার ছিল, তার ৬ দিন পর প্রথম যে জুম্মা, আজ জুম্মা হলো, তো যে জুম্মা এলো, কাউকে অ্যালার্ম দিইনি, কাউকে ডাকিনি, নিজে থেকে ১ লাখ লোক সারা রাজ্য থেকে মুসলমানরা চলে এসেছে সেখানে জুম্মার নামাজ পড়ার জন্য। তাদের ঘরে ঘরে ভালো মার্বেল দেওয়া মসজিদ আছে। সেই মসজিদ ছেড়ে তারা এখানে চলে আসছে। তাদের মনে এর প্রতি এত আবেগ তৈরি হয়েছে। সেই তারিখেও তো আসছিল আশপাশ থেকে, ঝাড়খণ্ড, বিহার, আসাম, ত্রিপুরা—সব জায়গা থেকে লোক কিছু না কিছু আসবেই। আজ দুই লাখ লোক নামাজ পড়ার জন্য এসেছে, অথচ ওই মসজিদে কোনো নির্মাণ কাজ শুরু হয়নি। সেটা পাঁচ মাসের মধ্যে শুরু হবে। কিন্তু এত আবেগ যে, প্রথম জুম্মা আসবে। গত শুক্রবার, সেটাও শুক্রবারে পড়েছিল, ১ লাখ এসেছিল, আর আজকেরটা তার ডবল হয়ে গেল, দুই লাখ ধরে নিন। এখানে আপনাদের যদি এই তৃণমূলকে হটাতে হয়, এটা যদি আপনাদের উদ্দেশ্য হয়, তাহলে এখানে দুটো বিভাজন করতে হবে। একদিকে বিজেপির কাছে হিন্দুদের ভোট আছে, সেটা তো হয়েই যাবে। আর আমি যত মুসলমানদের আমাকে ভোট দেওয়ার জন্য আওয়াজ তুলছি তো স্বয়ংক্রিয়ভাবেই আপনাদের হিন্দু ভোট আপনাদের কাছে যাবে, বিজেপির কাছে যাবে। সেই নেতা কীভাবে যাবে? কীভাবে যাবে? বিষয়টা এরকম যে, যে হিন্দুরা মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ওপর ভরসা করছে, তারা খুব ভালোভাবে জানে যে মুসলমানদের ১০০ জনের মধ্যে ৯০ জন নির্বাচনে মমতার পক্ষে থাকে। তো সেই ভোট যখন নির্বাচন থেকে সরে যাচ্ছে, মুসলমান ভোট ওখান থেকে সরে যাচ্ছে। তখন সেই হিন্দুরা আরও দেখবে যে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় তো ক্ষমতায় আসবেন না। তখন তাদের একটাই বিকল্প থাকবে, যে বিজেপিকে... আমি সোজাসুজি বলি, যারা আমাকে ভোট না দিক, সেখানে যে মুখ্যমন্ত্রী হবেন, আমার যেন নির্ণায়ক ভূমিকা থাকে। ক্ষমতা আমার হাতে থাকবে। তো পরের দিন যে মুখ্যমন্ত্রী হবেন, তিনি হিন্দুদের থেকেই হবেন। মুখ্যমন্ত্রী হওয়ার কোনো লক্ষ্য আমার নেই। কিন্তু যিনি হবেন, তাঁর কাছে আমার ৮০-৯০, ২৯৪ টার মধ্যে ৮০-৯০ টা সিট আমার কাছে থাকবে। তো আমি পরের দিন সেই মুখ্যমন্ত্রীকে সমর্থন দেওয়ার জন্য এই এজেন্ডা রাখব।
আরও পড়ুন:
অজ্ঞাত পরিচয় প্রশ্ন কর্তা: মানে বিজেপি থেকে যদি মুখ্যমন্ত্রী হয়, তাহলে কি আপনি সমর্থন দেবেন?
আরও পড়ুন:
হুমায়ুন কবীর: পুরোপুরি সমর্থন দেব, কোনো অসুবিধা নেই। মমতাকে কোনো মূল্যে আসতে দেব না। ধরুন এমন কোনো পরিস্থিতি হলো যে, আপনার কাছে ধরুন ৫০টা আসন এলো, আর বিজেপির হলো, এবং টিএমসির কাছে সমান সমান হলো। তো সেই সময় যদি আপনি... টিএমসি তো তার পুরো শক্তি লাগাবে আমার সমর্থন নেওয়ার জন্য, কিন্তু আমি দেব না। বিজেপিকে দেব।
কিন্তু আপনি আন্ডারগ্রাউন্ডে আপনাদের যা যা চুক্তি করার আছে, করে নিন। কোনো অসুবিধা নেই। কিন্তু প্রথমে আমি আপনাদের বিরুদ্ধেও বলব। আপনাদেরও বিজেপির বিরুদ্ধে বলা উচিত, নাহলে এই ভোট একত্রিত হয়ে আমার কাছে আসবে না, তারা সেই মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কেই ভোট দিয়ে দেবে। আমি যতটা মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিরুদ্ধে বলব, ততটাই বিজেপির বিরুদ্ধেও বলব। সেই লিডার অফ দ্য অপোজিশনের সাথে আমার কথা হয়েছে। হ্যাঁ, শুভেন্দু অধিকারী বলেছেন যে, আপনি ২২ তারিখের পর দিল্লি যাবেন, আমিও যাব বলে আপনাদের কেন্দ্রীয় নেতৃত্বের কাছে নিয়ে যাব। তারপর ডাইরেক্ট... আর যে মোহন যাদবজি আছেন না, মধ্যপ্রদেশের মোহন, তিনি আমার সাথে যোগাযোগ রাখেন। তাঁরা বলেছেন যে প্রধানমন্ত্রীর সাথে আমার কথা হয়েছে, আপনার সাথে যোগাযোগ রাখার জন্য। তাঁরা, ওই রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রীও আপনার সাথে যোগাযোগ রাখছেন। মুখ্যমন্ত্রী সরাসরি আমার সাথে... আমরা আসামের মুখ্যমন্ত্রীকে আসামের দায়িত্ব দিয়েছিলাম, কিন্তু পরে পিএমও আসামকে যুক্ত করে রেখেছে। কিন্তু সরাসরি মোহন যাদবকে আমার সাথে কথাবার্তা বলার জন্য দিয়েছে। তো দুজনেই আমার যোগাযোগের মধ্যে আছেন। আপনাদের ১০০ থেকে ১১০-১২০ পর্যন্ত যেতে পারে, কিন্তু আপনারা ১৪৮ পাবেন না। শুভেন্দু অধিকারী মশাই যা বলেছেন, তাঁকে আমি বলেছি, তো তিনি বলেছেন ঠিক আছে। আর মোহনজি আমাকে বলেছেন যে, আপনাকে যে ৭০-৮০ টা আসন আপনি পাবেন, তো সরাসরি আপনাকে ডেপুটি করে দেব। আমি সিএম, আপনি ডেপুটি সিএম। সেটা তো দারুণ ব্যাপার!আরও পড়ুন:
প্রশ্ন কর্তা: না, এটা তো ঠিক আছে। আমাদের চিন্তাভাবনা এটাই, এটা বলার উদ্দেশ্য হলো যে, এই যে মুসলিমরা আছে, এদেরকে তো আপনাকে বিভ্রান্ত করতে হবে, তাই না? এদেরকে তো একটা পর্যায় পর্যন্ত বোকাও বানাতে হবে তাই না? যদি আপনি বোকা না বানান, তাহলে তো তারা ওদের কাছে চলে যাবে। তো এতে আপনার পলিসি কী? মানে, পলিসি কি এরকমই?
আরও পড়ুন:
হুমায়ুন কবীর: দেখুন, আমি তাঁদেরকেও বলেছি, শুভেন্দুজিকেও বলেছি, আমার কাছে টাকা চাই। আমি মুসলমানদের একত্রিত করার জন্য, তাদেরকে নির্বাচনে আমার দিকে ভোট টানার জন্য, একটা একটা আসনে তিন কোটি চার কোটি খরচ হবে। ওই যারা টিএমসির লোক আছে, ক্ষমতায় আছে, তারা টাকা বেশি দেয় না। কিন্তু আজকের দিনে আমার যে নতুন নতুন মুসলিম প্রার্থী দাঁড় করানো হবে, তারা সবাই শিক্ষিত, স্বচ্ছ ভাবমূর্তির হবে। মুসলমানদের কাছে তাদের গ্রহণযোগ্যতাও বেশি আছে, কিন্তু আমার টাকার প্রয়োজন আছে।
আরও পড়ুন:
প্রশ্ন কর্তা: আপনার মোট কত টাকার প্রয়োজন আছে, যাতে আপনি এই লক্ষ্যটা পূরণ করতে পারেন?
আরও পড়ুন:
হুমায়ুন কবীর: না, পুরো লক্ষ্য পূরণ হতে ১০০০ পেলে তবে...
আরও পড়ুন:
প্রশ্ন কর্তা: মানে ১০০০ কোটি?
আরও পড়ুন:
হুমায়ুন কবীর: হ্যাঁ।
আরও পড়ুন:
প্রশ্ন কর্তা: তো এই যে বিষয়টা আছে, এটাকে মানে কীভাবে আপনি... মানে আপনার পরিকল্পনাগুলো কী কী? মানে এই যে আপনি কীভাবে এদেরকে ভাঙবেন? মানে মুসলিম সমাজকে কীভাবে ভাঙবেন?
আরও পড়ুন:
হুমায়ুন কবীর: কিছু কিছু জায়গায় আমার যে গ্রামগুলো আছে, যেগুলোতে বেশি টার্নটেবল আছে, এতদিন ধরে আমার বিরুদ্ধে যতবার আমি নির্বাচনে লড়েছি, তো আপনার পার্টির কোনো প্রার্থী ছিল, তো প্রার্থীর কাছে অনেক টাকাও আসছিল। কিন্তু সেই টাকা তৃণমূল স্তরে, মানুষের কাছে পৌঁছায়নি। কিন্তু আমার তৃণমূল স্তরে এত লোক আছে, তাদের ঘরে ঘরে যদি কোনো টাকা পৌঁছায় না, তো এরা কোনো বেইমানি করবে না। এটা আমার... যদি টাকা মাইনরিটি ব্যাঙ্কে এসে যায়, আর আপনার বা এখানকার মুসলিমদের প্রথম থেকেই আমার যে অপশন থাকবে, আমি ১০০০ কোটি আপনার কাছে চাইছি না না, তো আমি ৫০০ কোটিতে প্রথম থেকেই ওই যে আপনাদের বিহারের নির্বাচনে নীতীশ কুমারজি যে ফর্মুলাতে কাজ করেছিলেন, হ্যাঁ, ওই যে এক-এক হাজার করে ১২ মাসে, এক বছরে ১২০০০ টাকা করে দিয়ে দিলেন, ১০০০০ করে দিয়ে। তো পুরো ভোটটাই তো আপনাদের কাছে চলে গেল।
আরও পড়ুন:
প্রশ্ন কর্তা: মানে আপনার বক্তব্য হলো, এভাবেই আপনি ওদেরকে বোকা বানাবেন। কিন্তু ওরা কি এতটা বোকা বনবে?
আরও পড়ুন:
হুমায়ুন কবীর: নিশ্চয়ই বনবে। আপনার কাছে আমার... আপনাকে বেশি কিছু বলব না, আমি আপনাকে আজকের দিনে এই ভরসা দিচ্ছি যে, আমাকে যদি ১০০০ টাকা দেন, তবে আপনি পুরো ফায়দা পাবেন। আর আমি এটাও আপনাদের সাথে চুক্তি করে নেব যে, আমার আসন তো ৭০-৮০টা হবে, আর আপনারা ১০০ থেকে ১২০ পর্যন্ত পৌঁছে যাবেন। আর মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ১০০-র নিচে থাকবে। তো আমি পরিষ্কারভাবে নির্বাচনের পর মানুষকে বোঝাব যে, সেন্ট্রালে বিজেপি আছে, এরা তিন টার্ম ধরে, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ছিলেন, মুসলমানদের জন্য কোনো উন্নয়ন হয়নি, বাংলায় কোনো উন্নয়ন হয়নি।
১০০ দিনের কাজের গ্যারান্টি দিয়েছিল, সেই লেবারদের কাজের টাকা এখনো পর্যন্ত পায়নি। এর ফলে সমস্ত মুসলমানরা আমার ওপর পুরো ভরসা করবে।আরও পড়ুন:
প্রশ্ন কর্তা: আচ্ছা, এটা আপনার মনে আছে, যদি আপনার তৃণমূল স্তরের যে মুসলিমরা আছে, তারা যদি সেই সময় আপনাকে বলে যে, আপনি এখানে বাবরি মসজিদ বানাচ্ছিলেন, তো ওদিকে তো বিজেপি আমাদের বাবরি মসজিদ ভেঙেছিল, তাহলে আমরা ওদেরকে কেন সমর্থন দেব? তখন আপনি ওদেরকে কীভাবে বোঝাবেন?
আরও পড়ুন:
হুমায়ুন কবীর: এটাই তো প্রথম থেকেই বলছি। আমি নির্বাচনে একটা ইস্যু তুলেছি যে, আজকের দিনে সরাসরি কেউ টিএমসিকে ১৫০-তে পৌঁছে দিলে, তারাও তো বলছে যে বাবরি মসজিদ হতে দেবে না। আর বিজেপি ১৫০-তে পৌঁছে গেলে, সরাসরি মেজরিটি পেলে, তারাও আমার বাবরি মসজিদ হতে দেবে না। এই জন্যই আমি বলছি, ২৯৪-এর মধ্যে আমাকে ১০০ দিন, আর বিজেপি ১০০ পাক, আর বাকি ২৯৪ এর মধ্যে টিএমসি পাক। তাহলে আমার সিএম যেই হোক না কেন, আমি নির্ণায়ক ভূমিকায় থাকব।
আরও পড়ুন:
প্রশ্ন কর্তা: তো এখন বলছেন যে, যদি আপনি ৭০-৮০টা আসন পেয়ে যান, তবে বিজেপি থেকে যে-ই মুখ্যমন্ত্রী হোক, আমার সমর্থন... আপনার সমর্থন চাই।
আরও পড়ুন:
হুমায়ুন কবীর: সেটাই...
আরও পড়ুন:
প্রশ্ন কর্তা: সেটাই আমরা বলছি যে, ধরুন টিএমসিও ১৫০-এর কাছাকাছি পেয়ে গেল, ওরাও পেয়ে গেল, তো আপনি সেই সময় কাকে সমর্থন দেবেন?
আরও পড়ুন:
হুমায়ুন কবীর: যদি টিএমসির দিকে যায়, তবে আমি কোথাও যাব না। আমি তো আপনাদেরকে এই জন্যই... দেখুন, আপনাদের সমর্থন দেওয়ার যদি কোনো সমস্যা থাকত, তবে আমি আজকের দিনে আপনাদের পরিষ্কারভাবে বলতাম। আপনাদের সাথে কেউ বসতেও চায় না, আপনাদের থেকে কেউ টাকাও নিতে চায় না। আমি এত সৎ লোক, আমার বয়স ৬২... আমি কারও থেকে টাকা নিয়ে কারও সাথে কোনো দুর্নীতিতে জড়াইনি।
আরও পড়ুন:
প্রশ্ন কর্তা: তো দাদা, আমরা উপসংহারে আসছি যে, এখানে আমরা আত্মবিশ্বাসের সাথে উচ্চপদস্থদের জানিয়ে দিচ্ছি যে, আপনার এই পরিমাণ অর্থ চাই।
আরও পড়ুন:
হুমায়ুন কবীর: জি।
আরও পড়ুন:
প্রশ্ন কর্তা: এটা যদি আপনি পেয়ে যান, তাহলে ভবিষ্যতে আপনি অন্ততপক্ষে ৫০ থেকে ৬০টা ভোট আপনি...
আরও পড়ুন:
হুমায়ুন কবীর: না, আপনাকে যা দিতে হবে, আমার একসাথে চাই না। পার্টলি পার্টলি (আংশিকভাবে) দিতে হবে। ওই যে ২২ তারিখের জন্য আমি যে বাবরি মসজিদের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেছিলাম, সেদিনই আমার ৮২ লাখ টাকা খরচ হয়েছে। তো ওই সময় ট্রাস্টে টাকাও ছিল বিদ্যা, মাত্র ৫ লাখ ছিল। আমি আমার ব্যবসার টাকা দিয়ে সেটা করেছি। তো আজকের দিনে সেটা ৬ থেকে ৭ কোটিতে এসে দাঁড়িয়েছে, মেটেরিয়ালসও ২-৩ কোটির এসে গেছে। ইট, পাথর...
আরও পড়ুন:
প্রশ্ন কর্তা: হ্যাঁ, সেটা তো আমরা ভিডিওতে দেখেছি। আপনার একদম... হ্যাঁ, এরকমই চলছে।
আরও পড়ুন:
হুমায়ুন কবীর: তো আমি আপনাদের এটাই বলছি, যত তাড়াতাড়ি সম্ভব দুই কোটি, ২০০ কোটি দিয়ে দিন আমার সাথে দিল্লি হোক, কোনো এমন কনফিডেন্স... কোনো আধিকারিক তো নেই, টাইমের সাথে কথা হচ্ছে, টাইম আছে তো আপনাকে জিজ্ঞেস করে নেবে তখন। মানে...
আরও পড়ুন:
প্রশ্ন কর্তা: না, আমরা বলছি যে এই ফান্ডটা মানে আপনার কাছে যেটা আসবে, এই ফান্ডটা কি আপনাকে ওই অধিকারীর মাধ্যমেই নিতে হবে নাকি আপনি সরাসরি এটা হ্যান্ডেল করবেন?
আরও পড়ুন:
হুমায়ুন কবীর: সরাসরি করতে হবে। তো ওই কনফিডেন্স... অধিকারী আমাকে বলেছেন যে আপনাকে দিল্লিতে নিয়ে যাব, দিল্লির যারা বাংলার নির্বাচনের দায়িত্বে আছে... মোহন যাদবজি আমাকে বলেছেন যে পিএমও-র সাথে তাঁর সরাসরি যোগাযোগ আছে। আর হেমন্ত বিশ্বশর্মা জি, আসামের মুখ্যমন্ত্রী, তিনিও তাঁদের সাথে আছেন। তাঁরা পিএম মোদিজির সাথে আমার সরাসরি সম্পর্ক রাখার জন্য... তো তিনিও বলেছেন যে না, দিল্লিতে মধ্যপ্রদেশ ভবনে, তিনি বলেছেন আমরা কথা বলব। কিন্তু তাঁদের সাথে আমার টাকার বিষয়ে কোনো কথাবার্তা হয়নি। তিনি এই কথাই বলেছিলেন যে আপনাকে... আমার...
আরও পড়ুন:
প্রশ্ন কর্তা: তো আপনি এক কাজ করুন, যেখানেই আপনাকে টাকার জন্য জিজ্ঞেস করা হবে, আপনি এই অ্যামাউন্টটাই বলে দেবেন। নাহলে কী হয় না, ধরুন আমরা তো আপনার, মানে আমরা তো আপনাকে জানিই, তো আপনি প্রতিটি জায়গায় না এই অ্যামাউন্টটাই... তো আমরা এটাকেই প্রস্তাব হিসেবে রাখব, ঠিক আছে? আর দাদা, এখানে যে সিটগুলো আছে, দেখুন প্রতিটি সিটে তো মুসলিম ভোটার সমান নয়, কোথাও ১০% আছে, কোথাও ৫০% আছে, কোথাও ৮০%। সেটাও...
আরও পড়ুন:
হুমায়ুন কবীর: আপনার কাজ করিয়ে দেবে। যেখানে ২০% আছে, সেখানে তো আমি প্রার্থী দাঁড় করাব না, সেটা তো ৮০% হিন্দু মেজরিটির সিট, সেটাতে তো আপনাদেরই ফায়দা হবে। যে ১৩৫-১৪৫ টা সিটে যখন আমি নির্বাচন লড়ব না, তো হাওয়ায় আমার কাছে যে ভোট হচ্ছে, যে আওয়াজ উঠবে, ইস্যু তৈরি হবে, সেই সময় যেখানে ২০% আছে, তারাও তাদের কাছে ভোট দেবে না। তারা কংগ্রেসের কাছে, সিপিএমের কাছে যে ভোটটা দিত, সেটার ফায়দা তো বিজেপিই পাবে।
আরও পড়ুন:
প্রশ্ন কর্তা: সমর্থন করবেন তো?
আরও পড়ুন:
হুমায়ুন কবীর: হ্যাঁ করব, আমি তো বললামই, আপনারা রাজি হলে, আমাকে এই সাহায্য করলে, আপনারা বিজেপিকে যেখানে বসিয়ে যত নেতাদের সাথে সব বসান। কিন্তু এটা কনফিডেনশিয়াল, নির্বাচনের সময় এটা কারও কাছে খোলা উচিত নয়।
আরও পড়ুন:
প্রশ্ন কর্তা: বলার মানে হলো যে আপনার সাথে বিজেপির কেউ আছে, এটা জানা গেলে তো আমার ক্ষতি। না, এটা হলে তো আপনার থেকে মুসলিমরা সরে যাবে।
আরও পড়ুন:
হুমায়ুন কবীর: সরে যাবে।
আরও পড়ুন:
প্রশ্ন কর্তা: ওরা বলবে যে, নিজের ব্যক্তিগত স্বার্থে আপনি এসব করেছেন।
আরও পড়ুন:
হুমায়ুন কবীর: না, তো এটা খোলা যাবে না।
আমি চ্যালেঞ্জ করে বলব, কিন্তু আমার সাথে আপনাদের এগ্রিমেন্ট হবে, সাইন হবে। আমি নির্বাচনের পর আপনাদের মুখ্যমন্ত্রী হবেন, সিটগুলো নিয়েও আপনারা সিদ্ধান্ত নেবেন, সমর্থন দেব। কিন্তু আমার কিছু একটা তো হতেই হবে, মুসলমান সম্প্রদায়ের জন্য তো কিছু হতে হবে। তবে আমার কী সমস্যা আছে? কোনো সমস্যা নেই। আমি ওপেনলি বলছি যে, মমতা বা বিজেপি, যেই মুখ্যমন্ত্রী হোক না কেন, আমার কোনো অসুবিধা নেই, কোনো প্রবলেম নেই।আরও পড়ুন:
প্রশ্ন কর্তা: তো এখন আপনাকে ভোট পর্যন্ত এখানে আপনার আন্দাজমতো আপনাকে শুভেন্দু অধিকারীর সাথে সম্পর্ক রাখতে হবে। কিন্তু প্রকাশ্যে আপনাকে তাঁকে গালিও দিতে হবে।
আরও পড়ুন:
হুমায়ুন কবীর: গালি তো দিই। সেটা তো কথা হয়েই আছে। তিনিও আমার বিরুদ্ধে বলছেন। তিনিও কাল বলেছেন, পরশু তিনি বলেছেন যে, যে বাবরি মসজিদের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেছে, তো সেটা আমি... আমাকে ১৫০ পর্যন্ত পৌঁছতে দিন, আমাকে মুখ্যমন্ত্রী হতে দিন, আমি এদেরকে আটকে দেব, এদের বাবরি মসজিদ বানাতে দেব না। সেটা তো বলা উচিতই। তাতে আমার কোনো সমস্যা নেই।
আরও পড়ুন:
প্রশ্ন কর্তা: মুসলিমরা মূলত না, খুব ইনোসেন্ট (নিরীহ) হয়।
আরও পড়ুন:
হুমায়ুন কবীর: হ্যাঁ... অনেক।
আরও পড়ুন:
প্রশ্ন কর্তা: তো এদেরকে বোকা বানানো খুব সহজ।
আরও পড়ুন:
হুমায়ুন কবীর: খুব সহজ। সেটাই তো সবাইকে বলছি। আজকের দিনে ১০০ জন মুসলমানের মধ্যে ৮০ জন মুসলমান আমার বিরুদ্ধে কেউ কিছু বললে আপনাকে ছিঁড়ে খেতে আসবে। দেখে নিন আপনি নিজে করে এমনই অবস্থা।
আরও পড়ুন:
প্রশ্ন কর্তা: আপনি তাদের আবেগটাকে ধরে ফেলেছেন।
আরও পড়ুন:
হুমায়ুন কবীর: ধরে ফেলেছি।
আরও পড়ুন:
প্রশ্ন কর্তা: এই যে বাবরি মসজিদওয়ালা আবেগটা, এটাকে কেন ধরে ফেললেন?
আরও পড়ুন:
হুমায়ুন কবীর: এই জন্যই তো আমি ইচ্ছে করে এটাই... সেটাও... কিছু লোক আমাকে হুমকি দিচ্ছে। বলছে, বাবরি মসজিদ ছেড়ে দিন। আপনি হুমায়ুনের নামে করুন, আপনি অন্যের নামে করুন। কিন্তু অন্যের নামে ছাড়লে তো আবেগ ভেঙে যাবে। আজকের দিনে যে আবেগটা আছে, সেটা বাবরির নামেই আছে। কিন্তু বাবর কী... আমার বাবরের সাথে কোনো লেনাদেনা নেই। ওটা মসজিদ ছিল, এই জন্যই আমার কাছে আবেগটা আছে, যে ওটা মসজিদ তো ছিল, আল্লাহর ঘর।
আরও পড়ুন:
প্রশ্ন কর্তা: বাবরের সাথে আপনার কোনো লেনাদেনা নেই।
আরও পড়ুন:
হুমায়ুন কবীর: না।
আরও পড়ুন:
প্রশ্ন কর্তা: আচ্ছা, আর এখানে দাদা, ধরুন এই বাবরি মন্দির (মসজিদ) পুরোপুরি তৈরি হতে পারল না, তো ভবিষ্যতে কী হতে পারে?
আরও পড়ুন:
হুমায়ুন কবীর: দেখুন একটা সত্যি কথা হলো, আজকের দিনে যেটা আসেনি তো ফেব্রুয়ারিতে আমি এটা শুরু করে দেব। সমস্ত প্রকল্প। তো আমি এখনই শুরু করব না, শুধু ওই বাবরি মসজিদের কাজ ফেব্রুয়ারি থেকে শুরু করব। স্টার্ট হবে, স্টার্ট হওয়ার পর ৫% কাজ চলবে। আর সেটা নির্বাচনের সময় পর্যন্ত... নির্বাচন তো শেষ হয়ে যাবে। তো চলবে, এমন কোনো অবস্থা আসবে যে সরকার আমার ওপর নির্ভরশীল হবে, তো তাদেরকে বুঝিয়ে বানিয়ে নেব, কোনো অসুবিধা নেই। কেউ আটকে দিলে কেউ কোর্টে গিয়ে আটকে দিলে, কারও জন্য আটকে গেলে, তো আমার ওপর কারও রাগ হবে না। তারা বলবে যে এ তো সবরকম চেষ্টা করেছিল।
আরও পড়ুন:
প্রশ্ন কর্তা: হ্যাঁ হতে পারে, বা ধরুন ৫% করে আপনার তো ভোট পাওয়া হয়ে গেল। এরপর যদি অন্য কাউকে দিয়ে কেস করিয়ে দেন... কেউ কেস করে আটকে দিলে তো আমার কী...
আরও পড়ুন:
হুমায়ুন কবীর: কোনো... এটা তো আমার নির্বাচনের ফায়দা পুরো পলিটিক্যাল। সেটা তো আপনাকে বললামই না, আমার মাথা এমনই। আমি ৬২ প্লাস বয়সের মানুষ। শুধু তাই নয়, আমি ৪৩ বছর ধরে রাজনীতিতে আছি।