পুবের কলম ওয়েবডেস্কঃ হুমায়ুন কবীরকে ঘিরে দীর্ঘদিন ধরেই তৃণমূল কংগ্রেসের তরফে অভিযোগ উঠছিল—তিনি নাকি আড়ালে বিজেপির স্বার্থেই কাজ করছেন এবং অর্থের বিনিময়ে রাজ্যের সংখ্যালঘু ভোটারদের প্রভাবিত করার চেষ্টা করছেন। সম্প্রতি সোশ্যাল মিডিয়ায় প্রকাশ্যে আসা একটি ভিডিওকে ঘিরে সেই অভিযোগই নতুন করে আলোচনায় উঠে এসেছে। ভিডিওটিতে হুমায়ুন কবীরকে একাধিক বিস্ফোরক দাবি করতে শোনা যাচ্ছে। যদিও এই ভিডিওর সত্যতা যাচাই করেনি পুবের কলম ডিজিটাল।
আরও পড়ুন:
সোশ্যাল মিডিয়ায় ছড়িয়ে পড়া ওই ভিডিওতে দেখা যাচ্ছে, কোনও এক বিজেপি নেতার সঙ্গে কথোপকথনে লিপ্ত হুমায়ুন কবীর। সেখানে তাঁকে বলতে শোনা যায়, তাঁর প্রধান লক্ষ্য মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে ক্ষমতা থেকে সরানো। সেই উদ্দেশ্যেই বিজেপির শীর্ষ নেতৃত্বের সঙ্গে তাঁর যোগাযোগ হয়েছে বলেও দাবি করেন তিনি।
কথোপকথনের এক পর্যায়ে হুমায়ুন বলেন, রাজ্যের বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারীর সঙ্গে তাঁর কথা হয়েছে এবং শুভেন্দু নাকি তাঁকে দিল্লিতে নিয়ে গিয়ে কেন্দ্রীয় নেতৃত্বের সঙ্গে পরিচয় করিয়ে দেওয়ার আশ্বাস দিয়েছেন। এমনকি প্রধানমন্ত্রীর দফতরের সঙ্গেও তাঁর যোগাযোগ হয়েছে বলেও দাবি করেন তিনি।আরও পড়ুন:
ভিডিওতে আরও শোনা যায়, প্রধানমন্ত্রীর দফতর থেকেই তাঁকে মধ্যপ্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী মোহন যাদবের সঙ্গে যোগাযোগ করতে বলা হয়েছে। সেই নির্দেশ মেনেই তাঁর সঙ্গে নিয়মিত আলোচনা চলছে বলে জানান হুমায়ুন। পাশাপাশি অসমের মুখ্যমন্ত্রী হিমন্ত বিশ্বশর্মার সঙ্গেও তাঁর কথা হয়েছে বলে ইঙ্গিত দিতে শোনা যায় তাঁকে।
আরও পড়ুন:
ভিডিওর কথোপকথনে পশ্চিমবঙ্গের সম্ভাব্য নির্বাচনী সমীকরণ নিয়েও মন্তব্য করতে শোনা যায় হুমায়ুন কবীরকে। তিনি দাবি করেন, শুভেন্দু অধিকারীর সঙ্গে তাঁর আলোচনায় উঠে এসেছে যে বিজেপির পক্ষে এককভাবে ১০০ থেকে ১২০টির বেশি আসন পাওয়া কঠিন।
তবে যদি মুসলিম ভোট তৃণমূলের কাছ থেকে সরে আসে, তাহলে রাজনৈতিক সমীকরণ বদলে যেতে পারে। সেই প্রসঙ্গে হুমায়ুনকে বলতে শোনা যায়, রাজ্যে অনেক হিন্দু ভোটার এখনও মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে সমর্থন করেন কারণ অধিকাংশ মুসলিম ভোট তাঁর পাশেই রয়েছে। কিন্তু সেই সমর্থন যদি ভেঙে যায়, তাহলে হিন্দু ভোটারদের একটি বড় অংশ বিজেপির দিকে ঝুঁকতে পারেন। তাঁর দাবি, তিনি যদি মুসলিম ভোট টানতে পারেন, তাহলে সেই প্রভাব সরাসরি নির্বাচনের ফলাফলেও পড়বে।আরও পড়ুন:
একই ভিডিওতে হুমায়ুন কবীর দাবি করেন, তিনি অন্তত ৭০ থেকে ৮০টি মুসলিম অধ্যুষিত আসনে প্রভাব বিস্তার করতে পারবেন। তাঁর কথায়, যদি তিনি সেই লক্ষ্য পূরণ করতে পারেন, তাহলে বিজেপি নেতৃত্ব তাঁকে উপমুখ্যমন্ত্রী করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে। কথোপকথনে থাকা অন্য ব্যক্তি তাঁর কাছে প্রশ্ন তোলেন—বাস্তবে কি এতগুলি আসনে জেতা সম্ভব?
জবাবে হুমায়ুন আত্মবিশ্বাসী সুরে বলেন, পরিকল্পনা অনুযায়ী কাজ হলে তা সম্ভব। এমনকি মুসলিম ভোটারদের প্রভাবিত করার জন্য বিশেষ পরিকল্পনা তৈরি করেছেন বলেও দাবি করতে শোনা যায় তাঁকে। সেই পরিকল্পনা বাস্তবায়নের জন্য বিপুল অর্থের প্রয়োজন রয়েছে বলেও মন্তব্য করেন তিনি। তাঁর কথায়, প্রতিটি আসনে কয়েক কোটি টাকা করে ব্যয় করতে হতে পারে এবং মোট খরচ হাজার কোটির কাছাকাছি পৌঁছাতে পারে। ভিডিওতে বাবরি মসজিদ ইস্যুর প্রসঙ্গও তোলেন হুমায়ুন কবীর। তাঁর দাবি, ওই ইস্যু সামনে আনার পর বহু মানুষের আবেগ তাঁর দিকে ঝুঁকেছে এবং সেই কারণেই তিনি ৮০ থেকে ৯০টি আসনে ভালো ফলের আশা করছেন। পুরো ভিডিওটি ঘিরে ইতিমধ্যেই রাজনৈতিক মহলে জোর চর্চা শুরু হয়েছে।