পুবের কলম ওয়েবডেস্কঃ মহিলা সংরক্ষণ কার্যকর করার প্রশ্নে আবারও বিশেষ অধিবেশন ডাকার সিদ্ধান্ত নিয়েছে কেন্দ্রীয় সরকার। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি-র নেতৃত্বাধীন সরকার বৃহস্পতিবার থেকে সংসদের বিশেষ অধিবেশন শুরু করতে চলেছে। এই অধিবেশনেই লোকসভা আসনের পুনর্বিন্যাস নিয়ে প্রাথমিক আলোচনা হতে পারে বলে সরকারি সূত্রে খবর মিলেছে। বর্তমানে লোকসভায় মোট ৫৪৩টি আসন রয়েছে। সেই সংখ্যা বাড়িয়ে প্রায় ৮৫০ করার প্রস্তাব প্রস্তুত করেছে কেন্দ্র। সূত্রের দাবি, এই বিষয়ে একটি খসড়া বিল ইতিমধ্যেই তৈরি করা হয়েছে এবং তা সংসদ সদস্যদের কাছেও পাঠানো হয়েছে। তবে সরকারের এই পদক্ষেপ ঘিরে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে বিরোধী শিবির।
আরও পড়ুন:
উল্লেখযোগ্য যে, ২০২৩ সালে সংসদে পাশ হয়েছিল "নারী শক্তি বন্দন আইন"। সেই আইনে বলা হয়েছিল, লোকসভা ও বিধানসভায় মোট আসনের ৩৩ শতাংশ মহিলাদের জন্য সংরক্ষিত থাকবে। তবে সেই সংরক্ষণ কার্যকর করার আগে জনগণনা সম্পন্ন হওয়ার পর আসন পুনর্বিন্যাস করার কথা উল্লেখ ছিল। তারপর নতুন আসনসংখ্যার ভিত্তিতে মহিলাদের জন্য সংরক্ষণ কার্যকর হওয়ার কথা বলা হয়েছিল।
আরও পড়ুন:
কিন্তু এখন কেন্দ্রীয় সরকার আর নতুন জনগণনার অপেক্ষা করতে চাইছে না বলেই সূত্রের দাবি। সরকারের পরিকল্পনা, ২০১১ সালের জনগণনার তথ্যের ভিত্তিতেই আসন পুনর্বিন্যাস করা হবে। সেই পুনর্বিন্যাসের উপর ভিত্তি করেই মহিলাদের জন্য সংরক্ষিত আসন নির্ধারণের পরিকল্পনা করা হচ্ছে।
এই প্রস্তাব ঘিরেই বিরোধী মহলে নতুন করে রাজনৈতিক বিতর্ক তৈরি হয়েছে। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, ২০১১ সালের জনসংখ্যার তথ্য ধরে নতুন আসন বণ্টন হলে উত্তর ও মধ্য ভারতের বহু রাজ্যে লোকসভা আসনের সংখ্যা উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়ে যেতে পারে। এর ফলে দক্ষিণ ভারতের কয়েকটি রাজ্য বা পশ্চিমবঙ্গের মতো রাজ্যের তুলনায় তথাকথিত গোবলয় অঞ্চলের রাজ্যগুলি বেশি আসন পেতে পারে।আরও পড়ুন:
কেন্দ্রের লক্ষ্য, ২০২৯ সালের লোকসভা নির্বাচনের আগেই এই আসন পুনর্বিন্যাসের প্রক্রিয়া শেষ করা, যাতে সেই নির্বাচনের সময় থেকেই মহিলা সংরক্ষণ কার্যকর করা যায়। সেই কারণেই চারটি রাজ্যে বিধানসভা নির্বাচন চলার মধ্যেই সংসদের বিশেষ অধিবেশন ডাকার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে মনে করছে রাজনৈতিক মহল। এ প্রসঙ্গে আগেই আশঙ্কা প্রকাশ করেছিলেন কংগ্রেসের প্রাক্তন সভানেত্রী সোনিয়া গান্ধী। তাঁর অভিযোগ ছিল, মহিলা সংরক্ষণ আইনের আড়ালে আসলে আসন পুনর্বিন্যাসের পরিকল্পনা করছে কেন্দ্রীয় সরকার।
সাম্প্রতিক এই খসড়া বিলের খবর সামনে আসার পর সেই আশঙ্কাই সত্যি হতে চলেছে বলে মনে করছে বিরোধী শিবির। সূত্রের খবর, নতুন প্রস্তাব অনুযায়ী লোকসভায় মোট আসন সংখ্যা বাড়িয়ে ৮৫০ করার কথা ভাবা হচ্ছে। এর মধ্যে ৩৫টি আসন কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলগুলির জন্য এবং বাকি ৮১৫টি আসন রাজ্যগুলির জন্য নির্ধারিত থাকতে পারে।আরও পড়ুন:
কেন্দ্রের এই পরিকল্পনায় আপত্তি তুলেছে বিরোধী দলগুলি। তাদের আশঙ্কা, ক্ষমতার জোরে নিজেদের রাজনৈতিক সুবিধা মাথায় রেখেই আসন পুনর্বিন্যাস করা হতে পারে। বিশেষ করে ২০১১ সালের জনসংখ্যার ভিত্তিতে যদি নতুন করে আসন বণ্টন করা হয়, তাহলে দক্ষিণ ভারতের রাজ্য এবং পশ্চিমবঙ্গের তুলনায় উত্তর ও মধ্য ভারতের রাজ্যগুলির আসন সংখ্যা অনেকটাই বেড়ে যেতে পারে। এই পরিস্থিতিতে খসড়া বিল হাতে পাওয়ার পর বিরোধী দলগুলিও নিজেদের মধ্যে আলোচনা শুরু করতে চলেছে। জানা গিয়েছে, কংগ্রেস সভাপতি মল্লিকার্জুন খাড়গে-র বাসভবনে শীঘ্রই বিরোধী নেতাদের একটি বৈঠক হতে পারে। সেখানে বিভিন্ন রাজ্যের বিরোধী নেতাদের উপস্থিত থাকার সম্ভাবনা রয়েছে, বিশেষ করে তামিলনাড়ু ও পশ্চিমবঙ্গের প্রতিনিধিরাও থাকতে পারেন। বিরোধীদের আশঙ্কা, বৃহস্পতিবার শুরু হওয়া বিশেষ অধিবেশনেই আসন পুনর্বিন্যাস সংক্রান্ত কোনও প্রস্তাব সংসদে আনা হতে পারে এবং সংখ্যাগরিষ্ঠতার জোরে তা পাশ করিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করবে কেন্দ্রীয় সরকার।