পুবের কলম ওয়েব ডেস্ক: পশ্চিম এশিয়ায় ক্রমবর্ধমান উত্তেজনার মাঝেই লেবানন ও ইসরায়েলের মধ্যে দশ দিনের জন্য সংঘর্ষবিরতির ঘোষণা করলেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। এই অঞ্চলটিতে দীর্ঘদিনের সংঘাতের অন্যতম কেন্দ্রবিন্দু লেবানন–ইসরায়েল দ্বন্দ্ব। ট্রাম্পের উদ্যোগে ঘোষিত এই সাময়িক যুদ্ধবিরতিকে শান্তির পথে প্রথম পদক্ষেপ হিসেবে দেখা হচ্ছে।
এর আগে আমেরিকা ও ইজরায়েলের যৌথ বাহিনী ইরানে হামলা চালানোর পর পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে ওঠে। সেই ঘটনার পর লেবাননের ইরানপন্থী সশস্ত্র সংগঠন হিজবুল্লা ইসরায়েলের বিরুদ্ধে হামলা শুরু করে।
এই উত্তেজনাপূর্ণ পরিস্থিতির মধ্যেই সংঘর্ষে সাময়িক বিরতির কথা ঘোষণা করেন ট্রাম্প। সমাজমাধ্যমে তিনি জানান, লেবাননের প্রেসিডেন্ট জোসেফ আওউন এবং ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী নেতানিয়াহুর সঙ্গে তাঁর কথা হয়েছে। দুই দেশই দশ দিনের জন্য যুদ্ধবিরতিতে সম্মত হয়েছে বলে তিনি জানিয়েছেন। ট্রাম্প আরও জানান, ভারতীয় সময় অনুযায়ী রাত আড়াইটে থেকে এই যুদ্ধবিরতি কার্যকর হবে। তাঁর বক্তব্য, সম্প্রতি ওয়াশিংটনে লেবানন ও ইসরায়েলের প্রতিনিধিদের মধ্যে বৈঠক হয়েছিল, যা গত প্রায় চৌত্রিশ বছরের মধ্যে প্রথম। সেই বৈঠকে মার্কিন বিদেশসচিব মার্কো রুবিয়ো–এর সঙ্গেও তাঁদের আলোচনা হয়। ট্রাম্প জানিয়েছেন, তিনি মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভান্স এবং রুবিয়োকে এই অঞ্চলে স্থায়ী শান্তি প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে দুই দেশের সঙ্গে আলোচনার পথ চালিয়ে যেতে বলেছেন।
এই ঘোষণার সময় ট্রাম্প দাবি করেন, বিশ্বজুড়ে ইতিমধ্যেই তিনি নয়টি যুদ্ধ থামাতে সক্ষম হয়েছেন এবং লেবানন–ইসরায়েলের সংঘাত থামলে সেটি হবে দশম। তাঁর বক্তব্য, গত বছর মে মাসে ‘অপারেশন সিঁদুর’-এর পরে ভারত ও পাকিস্তানের মধ্যে যে সংঘাত তৈরি হয়েছিল, তা বন্ধ করতেও তাঁর ভূমিকা ছিল। যদিও পাকিস্তান সেই দাবি সমর্থন করলেও ভারত সরকার বরাবরই জানিয়েছে, দুই দেশের সামরিক কর্তৃপক্ষের পারস্পরিক আলোচনার ফলেই সংঘর্ষবিরতি হয়েছিল এবং তৃতীয় কোনও পক্ষের ভূমিকা ছিল না।
কিছু দিন আগে ট্রাম্প ইরানের সঙ্গেও দুই সপ্তাহের জন্য সংঘর্ষবিরতির ঘোষণা করেছিলেন। পরে পাকিস্তানের মধ্যস্থতায় দুই পক্ষের প্রতিনিধিরা আলোচনায় বসেন। ইসলামাবাদে দীর্ঘ বৈঠক হলেও তাতে চূড়ান্ত সমাধান বেরোয়নি। সেই পরিস্থিতির মধ্যেই পশ্চিম এশিয়ার আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ সংঘাতে আপাতত সাময়িক বিরতি আনতে উদ্যোগী হলেন ট্রাম্প।