পুবের কলম ওয়েবডেস্ক: জুন মাস থেকেই এসএসকেএম-এ শুরু হবে রোবোটিক সার্জারি। এ জন্য চিকিৎসকদের একটি টিমকে বিশেষ প্রশিক্ষণের জন্য পাঠানো হচ্ছে। রাজ্যের সরকারি হাসপাতালগুলির মধ্যে প্রথম এসএসকেএমে চালু হতে চলেছে রোবোটিক সার্জারি।
আরও পড়ুন:
বছর দুয়েক আগে থেকেই এ নিয়ে তোড়জোড় শুরু করেছিল সরকার। এর আগে রোবট কেনার জন্য দরপত্র ডেকেছিল স্বাস্থ্য দফতর। শেষে কেমব্রিজের একটি সংস্থা ৬ কোটি ৪৪ লক্ষ টাকা দামে এসএসকেএম হাসপাতালে রোবট সরবরাহের বরাত পায় বলে 'বর।
আরও পড়ুন:
আসলে রোবোটিক সার্জারি হল রোবোটিক হাতের সঙ্গে সংযুক্ত খুব ছোট সরঞ্জাম ব্যবহার করে অস্ত্রোপচার করার একটি পদ্ধতি।
সার্জন একটি কম্পিউটার দিয়ে রোবোটিক হাত নিয়ন্ত্রণ করেন। কম্পিউটার স্টেশনে বসে রোবটের গতিবিধি নির্দেশ করেন।আরও পড়ুন:
চিকিৎসকরা জানাচ্ছেন, রোগীর বেড থেকে কিছুটা দূরে থেকে এই অস্ত্রোপচার নিয়ন্ত্রণ করা হবে। চিকিৎসকের সামনে থাকবে একটি থ্রিডি স্ক্রিন। তার সাহায্যে তিনি রোবটকে নির্দেশ দেবেন কীভাবে অস্ত্রোপচার হবে। সেক্ষেত্রে কোনও রোগীর পেটের ভিতরে টিউমার থাকলে চিকিৎসকের নির্দেশমতো এই রোবট ছোট ছিদ্র করে ক্যামেরা ঢোকাবে। তার ফলে সার্জন দেখতে পাবেন কোথায় টিউমার রয়েছে।
সেই মতোই তিনি রোবটকে অস্ত্রোপচারের নির্দেশ দেবেন।আরও পড়ুন:
একজন চিকিৎসকের মস্তিষ্কের নির্দেশমতোই কাজ করবে সেই রোবট। চিকিৎসকদের কথায়, অনেক প্রবীণ সার্জন রয়েছেন যাদের অভিজ্ঞতা থাকা সত্ত্বেও বয়সের ভারে অস্ত্রোপচারের সময় হাত কাঁপে। তাদের সেই অভিজ্ঞতাকে কাজে লাগিয়ে রোবোটিক সার্জারি করা সম্ভব।
আরও পড়ুন:
ইদানীং ইউরোলজি, শল্য, হৃদ্রোগ, গ্যাস্ট্রোএন্টেরোলজি, স্ত্রী রোগ, বক্ষ রোগ, কিডনি এবং হেড অ্যান্ড নেক, স্তন, কোলন-ক্যানসারের জটিল অস্ত্রোপচারে রোবোটিক সার্জারির প্রয়োজনীয়তা বেড়েই চলেছে। একাধিক বেসরকারি হাসপাতালে রোবোটিক সার্জারি করা হয়। সেক্ষেত্রে খরচ অনেক বেশি।
আরও পড়ুন:
তবে সরকারি হাসপাতালে রোবোটিক সার্জারি হবে বিনামূল্যে। চিকিৎসকদের বক্তব্য, রোবোটিক সার্জারির খরচ কমাতে গেলে দেশীয় প্রযুক্তিতে তৈরি রোবট ব্যবহার করা প্রয়োজন। কারণ বিদেশি সংস্থার রোবটের ক্ষেত্রে দাম বেশি। তাছাড়া রক্ষণাবেক্ষণের খরচও বেশি। ফলে দরিদ্র, মধ্যবিত্তরা এই খরচ বহন করতে পারেন না।
আরও পড়ুন:
জানা যাচ্ছে,দেশে কিছু হাসপাতালে রোবট ব্যবহার করা হলেও পূর্বভারতে রোবোটের মাধ্যমে অপারেশনের উদ্যোগ সরকারি হাসপাতাল এসএসকেএম-এ এই প্রথম। এর মাধ্যমে জটিল অস্ত্রোপচার সম্ভব। পরবর্তীতে রাজ্যের আরও কিছু হাসপাতালে রোবটিক সার্জারি চালু হতে পারে বলেও জানা যাচ্ছে।