পুবের কলম, কলকাতা: রাজ্য প্রশাসনে বড়সড় রদবদল। একযোগে একাধিক শীর্ষ আমলার দায়িত্ব বদল করল নবান্ন। বৃহস্পতিবার রাজ্যের কর্মীবর্গ ও প্রশাসনিক সংস্কার দপ্তরের পক্ষ থেকে এই মর্মে একগুচ্ছ নির্দেশিকা জারি করা হয়েছে। নির্দেশিকায় বেশ কয়েকজন বর্ষীয়ান আইএএস অফিসারকে নতুন দপ্তরের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি বেশ কয়েকজনকে তাঁদের বর্তমান পদের সঙ্গে অতিরিক্ত দায়িত্বভার অর্পণ করা হয়েছে। নবান্ন সূত্রে জানানো হয়েছে, সম্পূর্ণ প্রশাসনিক স্বার্থেই এই রদবদল করা হয়েছে।

২ এপ্রিল, ২০২৬ তারিখের এই বিজ্ঞপ্তিতে রাজ্যপালের নির্দেশানুসারে সই করেছেন রাজ্যের অতিরিক্ত মুখ্যসচিব রাজেশ পাণ্ডে। রাজ্যের তিনটি গুরুত্বপূর্ণ বিভাগের কমিশনার পদে নতুন মুখ আনা হয়েছে।

জারি করা বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী, ২০০২ ব্যাচের আইএএস অফিসার অবনীন্দ্র সিং-কে বর্ধমান বিভাগের নয়া ডিভিশনাল কমিশনার হিসেবে নিযুক্ত করা হয়েছে। এর আগে তিনি শ্রম দপ্তরের সচিব পদের দায়িত্বে ছিলেন। অন্যদিকে, ১৯৯৩ ব্যাচের বর্ষীয়ান আইএএস অনুপ কুমার আগরওয়ালকে জলপাইগুড়ি বিভাগের ডিভিশনাল কমিশনারের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। তিনি এর আগে কারিগরি শিক্ষা দপ্তরের অতিরিক্ত মুখ্যসচিব পদে ছিলেন। পাশাপাশি, ১৯৯৭ ব্যাচের আইএএস অফিসার সুরেন্দ্র গুপ্তকে প্রেসিডেন্সি বিভাগের ডিভিশনাল কমিশনার হিসেবে নিযুক্ত করা হয়েছে। এর আগে তিনি জনস্বাস্থ্য কারিগরি এবং খাদ্য প্রক্রিয়াকরণ ও উদ্যানপালন দপ্তরের প্রধান সচিবের দায়িত্বে ছিলেন। মূলত জেলাস্তরের প্রশাসনিক কাজে আরও গতি আনতেই এই তিন অভিজ্ঞ আমলাকে ডিভিশনাল স্তরে পাঠানো হলো বলে মনে করা হচ্ছে।
 
 আমলা স্তরের এই পরিবর্তনে জনস্বাস্থ্য কারিগরি দপ্তরের মতো অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ দপ্তরের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে রাজ্যের বর্তমান স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ দপ্তরের প্রধান সচিব নারায়ণ স্বরূপ নিগমকে।
১৯৯৮ ব্যাচের এই দুঁদে আইএএস অফিসার এখন থেকে নিজের বর্তমান দায়িত্বের পাশাপাশি জনস্বাস্থ্য কারিগরি দপ্তরের প্রধান সচিবের অতিরিক্ত দায়িত্ব সামলাবেন। উল্লেখ্য, সুরেন্দ্র গুপ্ত প্রেসিডেন্সি বিভাগের কমিশনার পদে বদলি হওয়ায় তাঁর জায়গায় নারায়ণ স্বরূপ নিগমকে এই বাড়তি দায়িত্ব দেওয়া হল। স্বাস্থ্য ব্যবস্থা এবং জনস্বাস্থ্যের মতো একে অপরের সঙ্গে ওতপ্রোতভাবে যুক্ত দুটি দপ্তরের ভার একই আধিকারিকের হাতে থাকায় প্রশাসনিক কাজে আরও সমন্বয় আসবে বলে মনে করছে ওয়াকিবহাল মহল।
 
 শিক্ষা ক্ষেত্রেও আমলা স্তরে বড় রদবদল চোখে পড়েছে। স্কুল শিক্ষা, উচ্চশিক্ষা এবং জনশিক্ষা সম্প্রসারণ ও গ্রন্থাগার দপ্তরের অতিরিক্ত মুখ্যসচিব বিনোদ কুমারকে (১৯৯৬ ব্যাচের আইএএস) এবার কারিগরি শিক্ষা, প্রশিক্ষণ এবং দক্ষতা উন্নয়ন দপ্তরের অতিরিক্ত দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। অনুপ কুমার আগরওয়াল বদলি হওয়ায় এই পদটি ফাঁকা হয়েছিল। বিনোদ কুমারকে এই দায়িত্ব দেওয়ায় সামগ্রিক শিক্ষা দপ্তরের বড় অংশের রাশ রইল তাঁরই হাতে। অন্যদিকে, ১৯৯৫ ব্যাচের আইএএস আধিকারিক খলিল আহমেদ, যিনি বর্তমানে দমকল ও জরুরি পরিষেবা দপ্তরের অতিরিক্ত মুখ্যসচিবের দায়িত্বে রয়েছেন, তাঁকে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ পুর ও নগরোন্নয়ন দপ্তরের অতিরিক্ত মুখ্যসচিবের বাড়তি দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।

 
 কৃষিক্ষেত্র এবং পরিবহণ দপ্তরের ক্ষেত্রেও রদবদলের নির্দেশিকা জারি হয়েছে। কৃষি এবং কৃষি বিপণন দপ্তরের প্রধান সচিব ওঙ্কার সিং মিনাকে (১৯৯৭ ব্যাচের আইএএস) খাদ্য প্রক্রিয়াকরণ এবং উদ্যান পালন দপ্তরের প্রধান সচিবের অতিরিক্ত দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। কৃষি ও খাদ্য প্রক্রিয়াকরণ; এই দুই সম্পর্কিত দপ্তরের কাজ এক ছাতার তলায় আসায় কৃষকদের সুবিধা হবে বলেই মত বিশেষজ্ঞদের। পাশাপাশি, রাজ্যের পরিবহণ দপ্তরের সচিব ডঃ সৌমিত্র মোহন (২০০২ ব্যাচের আইএএস) এখন থেকে তাঁর স্বাভাবিক দায়িত্বের পাশাপাশি শ্রম দপ্তরের সচিবের অতিরিক্ত দায়িত্বও সামলাবেন। অবনীন্দ্র সিং বর্ধমানের ডিভিশনাল কমিশনার পদে নিযুক্ত হওয়ায় শ্রম দপ্তরের এই ফাঁকা পদটি ডঃ সৌমিত্র মোহনকে দেওয়া হল।
 
 রাজ্য সরকারের এই নির্দেশিকায় স্পষ্ট জানানো হয়েছে যে, জনস্বার্থে এবং প্রশাসনিক কাজকর্ম আরও সুচারুভাবে পরিচালনার জন্যই রাজ্যপালের নির্দেশে এই রদবদল করা হয়েছে। নবান্নের শীর্ষ আধিকারিকদের মতে, এটি একটি রুটিন প্রশাসনিক রদবদল। একাধিক দপ্তরে অতিরিক্ত দায়িত্বভার অর্পণের ফলে দপ্তরগুলির মধ্যে কাজের গতি এবং আন্তঃদপ্তর সমন্বয় আগামী দিনে আরও বৃদ্ধি পাবে বলেই আশা করছে প্রশাসন। অবিলম্বে নির্দেশিকা কার্যকর করতে সংশ্লিষ্ট আমলাদের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।