পুবের কলম ওয়েব ডেস্ক: উত্তরপ্রদেশে ফের বুলডোজার অভিযানের ঘটনা সামনে এল। বৃহস্পতিবার সম্ভল জেলায় একটি ইদগাহ ও ইমামবাড়া ভেঙে দেয় প্রশাসন। অভিযানের সময় যাতে কোনও অশান্তি না ছড়ায়, সে জন্য ব্যাপক নিরাপত্তা ব্যবস্থা করা হয়েছিল। পাঁচটি থানার পুলিশ বাহিনীর পাশাপাশি বিশেষ নিরাপত্তা বাহিনীর একটি দলও সেখানে মোতায়েন ছিল।
সকাল প্রায় আটটা থেকে শুরু হয়ে দুপুর আড়াইটে পর্যন্ত চারটি বুলডোজার দিয়ে অভিযান চালানো হয়।প্রশাসনের দাবি, প্রায় সাত বিঘা সরকারি জমি দখল করে ওই ইদগাহ ও ইমামবাড়া নির্মাণ করা হয়েছিল। ওই জমি আসলে গোচারণভূমি হিসেবে নথিভুক্ত ছিল। জমি দখলমুক্ত করার দাবিতে এলাকার কয়েকজন বাসিন্দা আদালতের দ্বারস্থ হয়েছিলেন। চলতি বছরের ৩১ জানুয়ারি মামলার শুনানির সময় আদালত সংবাদপত্রসহ বিভিন্ন মাধ্যমে বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করে জানায়, জমির দাবিদার কেউ থাকলে যেন আদালতে হাজির হন। কিন্তু নির্ধারিত সময়ে কেউ আদালতে হাজির হননি বলে প্রশাসনের দাবি।
এর পর আদালতের অনুমতি নিয়ে ওই জায়গায় অভিযান চালায় প্রশাসন। প্রায় সাড়ে ছয় ঘণ্টা ধরে চলা অভিযানে পুরো নির্মাণ ভেঙে ফেলা হয়। স্থানীয়দের একটি অংশ আপত্তি জানালেও নিরাপত্তা বাহিনী দ্রুত পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে এবং ভিড় সরিয়ে দেয়। স্থানীয় বাসিন্দা জুবেদা নামে এক মহিলার দাবি, বহু বছর ধরে ওই ইদগাহ ও ইমামবাড়ায় এলাকার মানুষ প্রার্থনা করে আসছিলেন। তাঁর প্রশ্ন, যদি সরকারি জমিতে নির্মাণই ভাঙার কারণ হয়, তবে অন্য ধর্মের বহু মন্দিরও সরকারি জমিতে রয়েছে—সেগুলির বিরুদ্ধে কেন ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে না।
এদিকে জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, প্রায় বারো বছর আগে পরিকল্পিতভাবে ওই সরকারি জমি দখল করে নির্মাণ করা হয়েছিল। জেলাশাসক রাজেন্দ্র পানসিয়া বলেন, জমিটির বর্তমান বাজারমূল্য আনুমানিক ছয় কোটি টাকা। অভিযান চালিয়ে জমি দখলমুক্ত করা হয়েছে। পাশাপাশি ওই ইদগাহ ও ইমামবাড়ার দেখভালের দায়িত্বে যারা ছিলেন, তাদের কাছ থেকেই বুলডোজার অভিযানের খরচ আদায় করা হবে বলেও জানিয়েছেন তিনি।