পুবের কলম ওয়েব ডেস্ক: মালদহের মোথাবাড়িতে এসআইআর সংক্রান্ত কাজে নিযুক্ত বিচারকদের ঘেরাও ও হেনস্থার অভিযোগে গ্রেফতার হওয়া ৪৯ জনের মধ্যে ১২ জনকে নিজেদের হেফাজতে নেওয়ার আবেদন জানাল জাতীয় তদন্তকারী সংস্থা। বাকি ৩৭ জনকে বিচারবিভাগীয় হেফাজতে রাখার আবেদন করা হয়েছে। অন্যদিকে, গ্রেফতার হওয়া মোফাক্কেরুল ইসলামের পক্ষে তাঁর আইনজীবী আদালতে জামিনের আবেদন জানিয়েছেন। রাজ্য পুলিশের তরফে আগে মোফাক্কেরুলকে এই ঘটনার মূলচক্রী হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছিল।
বৃহস্পতিবার কলকাতার নগরদায়রা আদালতে এই মামলার শুনানি হয়। এই ঘটনায় এখনও পর্যন্ত মোট ৫২ জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে।
মোফাক্কেরুলের আইনজীবীর বক্তব্য, সুপ্রিম কোর্ট স্বচ্ছ তদন্তের স্বার্থে জাতীয় তদন্তকারী সংস্থাকে তদন্তভার দিয়েছে। তাঁর দাবি, ঘটনাস্থলে মোফাক্কেরুল উল্টে ভিড় সরানোর চেষ্টা করেছিলেন এবং প্রশাসনকে সহযোগিতাও করেছিলেন। তিনি আরও বলেন, সমাজমাধ্যমে পরিচিত মুখ হওয়ায় স্থানীয় লোকজন তাঁকে চিনতে পেরে পরিস্থিতি সামাল দেওয়ার অনুরোধ করেছিলেন। এমনকি পুলিশও তাঁর সহযোগিতা চেয়েছিল বলে দাবি করেন তিনি। সেই কারণেই আদালতের কাছে তাঁর জামিন মঞ্জুর করার আবেদন জানানো হয়েছে।
উল্লেখ্য, এসআইআর সংক্রান্ত প্রক্রিয়া ঘিরে মালদহের মোথাবাড়িতে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়েছিল। অভিযোগ, বিবেচনাধীন তালিকা থেকে নাম বাদ পড়া কিছু মানুষ ওই এলাকায় উপস্থিত বিচারকদের ঘিরে বিক্ষোভ দেখান। এমনকি গভীর রাত পর্যন্ত তাঁদের আটকে রাখা হয়েছিল বলেও অভিযোগ ওঠে। এই ঘটনার পর সুপ্রিম কোর্ট স্বতঃপ্রণোদিত ভাবে বিষয়টি নিয়ে শুনানি শুরু করে। পরে আদালতের নির্দেশেই নির্বাচন কমিশন এই ঘটনার তদন্তভার জাতীয় তদন্তকারী সংস্থার হাতে তুলে দেয়। এর আগে রাজ্য পুলিশের গোয়েন্দা বিভাগ সিআইডি মোফাক্কেরুল ইসলামকে গ্রেফতার করেছিল। পরে এই ঘটনায় আরও একাধিক গ্রেফতার করেছে জাতীয় তদন্তকারী সংস্থা।
আদালতে সংস্থার আইনজীবী জানান, গ্রেফতার হওয়া ব্যক্তিরা প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষ ভাবে এই ঘটনার সঙ্গে যুক্ত থাকতে পারেন বলে তদন্তে উঠে এসেছে। তবে তদন্ত এখনও প্রাথমিক স্তরে রয়েছে। তাই এই পর্যায়ে সমস্ত তথ্য প্রকাশ্যে আনতে তারা আগ্রহী নয় বলেই আদালতে জানানো হয়েছে।