পুবের কলম ওয়েবডেস্কঃ মালদার মোথাবাড়ি কাণ্ডের তদন্তে গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি হল। সুপ্রিম কোর্ট আগেই এই ঘটনায় কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা এনআইকে রিপোর্ট জমা দিতে বলেছিল। সেই মতোই সোমবার শীর্ষ আদালতে রিপোর্ট জমা দিল কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা। এদিন রিপোর্ট জমা দেওয়ার আগে দিল্লির সদর দফতরে সংস্থার আধিকারিকরা বৈঠক করেন। এদিকে, শুনানিতে কমিশন নিযুক্ত রাজ্য পুলিশের ডিজি সিদ্ধিনাথ গুপ্তা ও মুখ্যসচিব দুষ্মন্ত নারিয়াল তীব্র ‘ভর্ৎসনা’  করে সুপ্রিম কোর্ট।

সোমবার সুপ্রিম কোর্টে মামলার শুনানিতে ভারচুয়ালি উপস্থিত ছিলেন রাজ্যের মুখ্যসচিব দুষ্মন্ত নারিয়ালা এবং রাজ্য পুলিশের ডিজি সিদ্ধিনাথ গুপ্তা। এছাড়াও হাজিরা দেন মালদার জেলা শাসক থেকে শুরু করে জেলার পুলিশ সুপার নিজে। এই মামলা ঘিরে শীর্ষ আদালতে জোর সওয়াল জবাব চলে।

এদিকে, এই মামলার শুনানি শুরু হওয়ার কিছুক্ষণ আগে নদিয়ার নাকাশিপাড়ার সভা থেকে সিআরপিএফকে নিশানা করেছিলেন মুখ্যমন্ত্রী। তিনি আশঙ্কা করেন, ষড়যন্ত্রের জন্য সিআরপিএফকী কাজে লাগানো হচ্ছে। মুখ্যমন্ত্রীর সেই বক্তব্যও এদিন শীর্ষ আদালতে উঠে আসে। তার প্রসঙ্গ টেনে কেন্দ্রের সলিসিটর জেনারেল তুষার মেহতা সুপ্রিম কোর্টে অভিযোগ করেন। তিনি দাবি করেন, বাংলার পরিস্থিতি খুব খারাপ। বিচারকদের কান্নাকাটি করতে হয়েছে, বাঁচাও বাঁচাও চিৎকার করতে হয়েছে। উল্লেখ্য, সুপ্রিম কোর্টের এজলাসে এই প্রথমবার মোবাইল হাতে নিয়ে প্রবেশ করেন প্রধান বিচারপতি। ট্রাইবুনালের প্রধান তথা কলকাতা হাইকোর্টের প্রাক্তন প্রধান বিচারপতি টি এস শিবজ্ঞানমের চিঠি দেখার জন্য এদিন ভারতের প্রধান বিচারপতি মোবাইল নিয়ে আসেন।
 

এদিকে, এনআইএ যে রিপোর্ট জমা দিয়েছে তাতে মোট ১২টি এফআইআর দায়ের করা হয়েছে। আধিকারিকদের মতে, যেহেতু স্থানীয় থানা তদন্ত করছে তাই তদন্ত প্রভাবিত হতে পারে। ফলে তাদের হাতে তথ্য প্রমাণ তুলে দিতে হবে। এই আর্জির পরিপ্রেক্ষিতে সুপ্রিম কোর্ট জানায়, এনআইএ চাইলে নতুন করে এফআইআর দায়েরের পর তদন্ত করতে পারে। সেই অনুযায়ী শীর্ষ আদালতে রিপোর্ট জমা দিতে হবে।  এর পাশাপাশি মুখ্যসচিব ও ডিজিও হলফনামা জমা দেন এদিন আদালতে। 

সুপ্রিম পুলিশকে নির্দেশ দিয়েছে এনআইএ'র হাতে রিপোর্ট তুলে দিতে হবে। পাশাপাশি, কেন মুখ্যসচিবের সঙ্গে ফোনে যোগাযোগ করা গেল না তানিয়ে সুপ্রিম কোর্টের প্রশ্নের মুখে পড়তে হয়।

ডিজি কী করছিলেন, সেই প্রশ্নও ওঠে। মুখ্যসচিব ও ডিজির উদ্দেশে আদালতের প্রশ্ন,  “আপনারা কাজ করছিলেন? আপনারা কি দাঁড়িয়ে দাঁড়িয়ে দেখছিলেন? কেন রাত ২টো হল? রাত এগারোটার সময় কেন জানতে পারলেন না প্রধান বিচারপতি?” 


প্রসঙ্গত, এসআইআর থেকে নাম বাদ পড়ায় গত ১ এপ্রিল মালদহের কালিয়াচক এলাকায় জনরোষ আছড়ে পড়ে। অভিযোগ ওঠে, বিক্ষোভকারীরা দীর্ঘক্ষণ ধরে কালিয়াচক ২ বিডিও অফিসে সাতজন জুডিশিয়াল অফিসারকে আটকে রাখেন। শেষে গভীর রাতে বিশাল পুলিশ বাহিনী পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। সেই ঘটনায় মামলা গড়ায় সুপ্রিম কোর্টে।