ইরানের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের সাম্প্রতিক সমঝোতা স্মারকের পূর্ণাঙ্গ পাঠ দেখতে চেয়েও তা হাতে পেল না ইসরায়েল। তেল আবিবের বিশেষ অনুরোধ সত্ত্বেও চুক্তির মূল লিখিত নথি ভাগ করে নিতে অস্বীকার করেছে ওয়াশিংটন। ফলে মধ্যপ্রাচ্যে দুই ঘনিষ্ঠ মিত্রের মধ্যে কূটনৈতিক দূরত্ব আরও স্পষ্ট হয়ে উঠেছে।
মার্কিন ও ইসরায়েলি সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনের উদ্ধৃতি দিয়ে আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম মিডল ইস্ট আই জানিয়েছে, ইসরায়েলি কর্মকর্তাদের চুক্তির সামগ্রিক বিষয়বস্তু সম্পর্কে মৌখিকভাবে অবহিত করা হলেও মূল দাপ্তরিক নথির অনুলিপি তাদের হাতে দেওয়া হয়নি।

গত ১৪ জুন যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে ডিজিটাল পদ্ধতিতে স্বাক্ষরিত এই সমঝোতার মাধ্যমে চলমান যুদ্ধবিরতির মেয়াদ আরও ৬০ দিন বাড়ানো হয়েছে এবং গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালিতে নৌ চলাচল পুনরায় চালুর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

তবে চুক্তির বিস্তারিত শর্তাবলি এখনও প্রকাশ্যে আসেনি।

এদিকে মার্কিন প্রশাসনের শীর্ষ কর্মকর্তারা এই সমঝোতার পক্ষে সরব হয়েছেন। ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্সের দাবি, নতুন এই কূটনৈতিক প্রক্রিয়ার সবচেয়ে বড় সাফল্য হল, যুক্তরাষ্ট্র এখন সরাসরি ইরানের সঙ্গে আলোচনা করতে পারছে।

ফ্রান্সে অনুষ্ঠিত জি-৭ শীর্ষ সম্মেলনের ফাঁকে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প জানিয়েছেন, চুক্তিটি অনুমোদনের জন্য কংগ্রেসে পাঠানো হবে এবং পরবর্তীতে তা জনসমক্ষে প্রকাশ করা হবে। এমনকি খুব শীঘ্রই সংবাদ সম্মেলন করে চুক্তির প্রতিটি ধারা প্রকাশ্যে পড়ে শোনানোর কথাও জানিয়েছেন তিনি।


আগামী ১৯ জুন সুইজারল্যান্ডে এই চুক্তির আনুষ্ঠানিক স্বাক্ষর সম্পন্ন হওয়ার কথা রয়েছে।

তবে ইসরায়েলকে চুক্তির মূল নথি না দেখানোর ঘটনায় দেশটির রাজনৈতিক মহলে অসন্তোষ বাড়ছে। প্রভাবশালী সংবাদপত্র ‘ইয়েদিওথ আহরোনথ’ এই সমঝোতাকে ‘অত্যন্ত খারাপ চুক্তি’ বলে অভিহিত করেছে। সাবেক প্রতিরক্ষামন্ত্রী আভিগডোর লিবারম্যানও আশঙ্কা প্রকাশ করে বলেছেন, এই সমঝোতা ভবিষ্যতে ইরানকে পারমাণবিক শক্তিধর রাষ্ট্রে পরিণত করার পথ সুগম করতে পারে।

চুক্তি নিয়ে ইসরায়েলের সমালোচনার আবহের মধ্যেই প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প ফের কঠোর বার্তা দিয়েছেন তেল আবিবকে। জি-৭ সম্মেলনে কাতারের আমির শেখ তামিম বিন হামাদ আল থানির সঙ্গে বৈঠকের সময় তিনি বলেন, “মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র না থাকলে বর্তমান পৃথিবীতে ইসরায়েলের অস্তিত্ব থাকত না। আমি হস্তক্ষেপ না করলে বহু আগেই ইসরায়েল ধ্বংস হয়ে যেত”।