পুবের কলম, ওয়েবডেস্ক: ২০২২ সালের সেই বিধায়ক বিদ্রোহের কালো স্মৃতি কি আবার ফিরে আসতে চলেছে উদ্ধব ঠাকরের শিবিরে? শিবসেনা (UBT)-র ৯ জন লোকসভা সাংসদের মধ্যে "ছয় থেকে সাতজন" সাংসদ একনাথ শিন্দের নেতৃত্বাধীন শাসক শিবসেনায় যোগ দিতে পারেন—এমনই এক তীব্র জল্পনার মাঝে বুধবার দলের সমস্ত সাংসদদের জন্য জরুরি 'হুইপ' জারি করল উদ্ধব শিবির। নয়াদিল্লিতে আয়োজিত একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকে সমস্ত সাংসদকে উপস্থিত থাকার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। দলীয় সূত্রে খবর, এই বৈঠক যারা এড়িয়ে যাবেন, তাঁদের বিরুদ্ধে দলত্যাগ বিরোধী আইনে পদ খারিজের প্রক্রিয়া শুরু করা হতে পারে।

উদ্ধব শিবিরের এই হুইপ জারির সিদ্ধান্ত রাজনৈতিক মহলে তীব্র চাঞ্চল্য তৈরি করেছে।

এর আগে ২০২২ সালে যখন বর্তমান উপ-মুখ্যমন্ত্রী একনাথ শিন্দের নেতৃত্বে ৩৯ জন শিবসেনা বিধায়ক তৎকালীন মহাবিকাশ আঘাড়ি সরকারের বিরুদ্ধে বিদ্রোহ ঘোষণা করেছিলেন, ঠিক একইভাবে দলের পক্ষ থেকে হুইপ জারি করা হয়েছিল। পরবর্তীতে নির্দেশ অমান্য করায় সেই বিক্ষুব্ধ বিধায়কদের পদ খারিজের আবেদন জানানো হয়েছিল। এবার লোকসভা সাংসদদের ক্ষেত্রেও একই রণকৌশল অবলম্বন করছে শিবসেনা।

দিল্লিতে ডেরা গেড়ে থাকা শিবসেনা নেতা সঞ্জয় রাউত ‘এক্স’-এ আক্রমণ করে লিখেছেন, "সব হিসাব চুকানো হবে।" দলবদলু সাংসদদের তীব্র কটাক্ষ করে রাজ্যসভার এই সদস্য লেখেন, "একটি চার্টার্ড বিমান নান্দেদে অবতরণ করে এবং ‘অপারেশন টাইগার’-এর নামে দু'জন সাংসদকে তুলে নিয়ে উড়ে যায়।

একসময় যাদের অটো রিকশায় চড়ারও সামর্থ্য ছিল না, আজ ঠাকরে পরিবারের সৌজন্যেই তাদের যোগ্যতা চার্টার্ড প্লেনে ওড়ার মতো হয়েছে। এই সব কিছুর হিসাব রাখা হচ্ছে। কিন্তু ভীতু নেকড়েদের এই পলায়নকে আপনারা কেন ‘অপারেশন টাইগার’ বলছেন?" 

উল্লেখ্য, অবিভক্ত শিবসেনার মূল প্রতীক বা ম্যাসকট ছিল একটি বাঘের ছবি, যা এঁকেছিলেন দলের প্রতিষ্ঠাতা বাল ঠাকরে। ফলে এই দলবদলের প্রক্রিয়াকে রাজনৈতিক মহলে ‘অপারেশন টাইগার’ নাম দেওয়া হলেও, উদ্ধব শিবির একে গুরুত্ব দিতে নারাজ। এর আগে গত মঙ্গলবার রাতে রাউত দাবি করেছিলেন, মহারাষ্ট্রের সাংসদদের কিনতে "১৫ কোটি টাকার অগ্রিম" দেওয়া হচ্ছে।