পুবের কলম, ওয়েবডেস্ক: ওড়িশার ময়ূরভঞ্জ জেলার একটি সরকারি আদিবাসী আবাসিক স্কুলে বিষক্রিয়ায় মৃত্যু হলো এক ছাত্রীর। এই ঘটনায় অসুস্থ হয়ে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন আরও ১০৭ জন পড়ুয়া। পরিস্থিতি খতিয়ে দেখে মুখ্যমন্ত্রী মোহন চরণ মাঝি উচ্চপর্যায়ের তদন্তের নির্দেশ দিয়েছেন। কর্তব্যে গাফিলতির অভিযোগে ইতিমধ্যেই স্কুলের প্রধান শিক্ষককে বরখাস্ত করা হয়েছে।
ঘটনাটি ঘটেছে ময়ূরভঞ্জ জেলার রাসগোবিন্দপুর ব্লকের কাকাবান্ধা আশ্রম স্কুলে। অভিভাবকদের অভিযোগ, গত রবিবার সকালে পড়ুয়াদের সরকারি তালিকার বাইরে থাকা ‘পাখালা’ (পান্তা ভাত), আলু মাখা এবং আমের চাটনি খেতে দেওয়া হয়েছিল। সেই খাবার খাওয়ার পর থেকেই পড়ুয়ারা বমি ও পেটের সমস্যায় ভুগতে শুরু করে। সোমবার অবস্থার অবনতি হওয়ায় শতাধিক পড়ুয়াকে স্থানীয় স্বাস্থ্যকেন্দ্রে ভর্তি করা হয়। সেখান থেকে গুরুতর অবস্থায় ৬৭ জনকে বারিপদার পিএমআর মেডিক্যাল কলেজ ও হাসপাতালে স্থানান্তরিত করা হয়।
হাসপাতাল সূত্রে জানা গিয়েছে, রুপালি বেসরা নামে পঞ্চম শ্রেণীর এক ছাত্রীর অবস্থা অত্যন্ত আশঙ্কাজনক ছিল। সোমবার তাকে আইসিইউ-তে (ICU) রাখা হলেও মঙ্গলবার সকালে তার মৃত্যু হয়। জেলাশাসক হেমা কান্ত সায়ে জানান, বর্তমানে ৬৬ জন পড়ুয়া মেডিক্যাল কলেজে এবং ৪১ জন স্থানীয় স্বাস্থ্যকেন্দ্রে চিকিৎসাধীন। একদল বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের দল স্কুলেই ক্যাম্প করে বাকিদের স্বাস্থ্য পরীক্ষা করছেন। রূপালির মায়ের অভিযোগের ভিত্তিতে পুলিশ মামলা রুজু করেছে।
এই মর্মান্তিক ঘটনার পর মঙ্গলবার বিক্ষুব্ধ গ্রামবাসীরা রাসগোবিন্দপুর-জলেশ্বর রাস্তা অবরোধ করেন। তাঁদের দাবি ছিল, দোষীদের কঠোর শাস্তি দিতে হবে। অন্যদিকে, ওড়িশা প্রদেশ কংগ্রেস সভাপতি ভক্ত চরণ দাস এই ঘটনাকে ‘ব্যবস্থার চরম ব্যর্থতা’ বলে অভিহিত করেছেন। তিনি বলেন, স্কুলগুলোতে পড়ুয়াদের নিরাপত্তা ও খাবারের মান নিয়ে অবিলম্বে কড়া ব্যবস্থা নেওয়া প্রয়োজন।