পুবের কলম ওয়েব ডেস্ক: প্রয়াত হলেন নন্দলাল বসু-র নাতি সুপ্রবুদ্ধ সেন। মৃত্যুকালে তাঁর বয়স হয়েছিল ৮৮ বছর। সোমবার সকাল ৭ টা ১৫ মিনিট নাগাদ দুর্গাপুরের একটি বেসরকারি হাসপাতালে হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন তিনি।

পরিবারের সদস্যদের সূত্রে জানা গিয়েছে, শ্বাসকষ্টজনিত সমস্যার কারণে রবিবার তাঁকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। চিকিৎসকদের পর্যবেক্ষণে থাকলেও সোমবার সকালে হঠাৎ তাঁর শারীরিক অবস্থার অবনতি ঘটে। পরে চিকিৎসকেরা জানান, হৃদরোগে আক্রান্ত হয়েই তাঁর মৃত্যু হয়েছে।

সুপ্রবুদ্ধ সেনের প্রয়াণের খবরে শান্তিনিকেতনজুড়ে নেমে এসেছে শোকের আবহ। তাঁর মৃত্যুতে এলাকার বহু বিশিষ্ট ব্যক্তি, পরিচিত এবং বাসিন্দারা গভীর শোকপ্রকাশ করেছেন। সুপ্রবুদ্ধ সেন ছিলেন নন্দলাল বসুর কনিষ্ঠ কন্যা যমুনা সেনের পুত্র। ছোটবেলা থেকেই শান্তিনিকেতনের সাংস্কৃতিক পরিমণ্ডলে তাঁর বেড়ে ওঠা। ১৯৫৪ সালে পাঠভবন থেকে মাধ্যমিক উত্তীর্ণ হন তিনি। পরে বিশ্বভারতীতে উচ্চশিক্ষা সম্পন্ন করেন।
কর্মজীবনে তিনি দামোদর উপত্যকা সংস্থায় যোগ দেন এবং দীর্ঘ ৩২ বছর সেখানে দায়িত্ব পালন করেন।

চাকরি থেকে অবসর নেওয়ার পর ১৯৯৬ সাল থেকে শান্তিনিকেতনের পৈতৃক বাড়িতেই স্থায়ীভাবে বসবাস শুরু করেন সুপ্রবুদ্ধ সেন। এরপর থেকে নিয়মিতভাবে প্রতিটি নির্বাচনে ভোটাধিকার প্রয়োগ করে এসেছেন তিনি। তবে সম্প্রতি বিধানসভা নির্বাচনের আগে ভোটার তালিকায় তাঁর নাম নিয়ে জটিলতা তৈরি হয়। সুপ্রবুদ্ধ সেন, তাঁর স্ত্রী দীপা সেন এবং তাঁদের পরিচর্যাকারীর নাম নিয়ে সংশয় দেখা দেয়। শুনানির জন্য তাঁদের ডাকা হলে বয়সজনিত কারণে নির্বাচনী আধিকারিকেরা বাড়িতে গিয়েই প্রয়োজনীয় নথিপত্র যাচাই করেন।

সে সময় তিনি নিজের মাধ্যমিকের শংসাপত্র, পাসপোর্ট এবং চাকরির নথিও দেখিয়েছিলেন।

তা সত্ত্বেও পরে প্রকাশিত তালিকায় নাম না থাকায় তিনি গভীরভাবে মর্মাহত হয়েছিলেন। বিষয়টি আদালত পর্যন্ত গড়ায়। শেষপর্যন্ত নির্বাচন কমিশনের হস্তক্ষেপে তিনি এবং তাঁর স্ত্রী ভোটাধিকার প্রয়োগের সুযোগ পান।সুপ্রবুদ্ধ সেনের প্রয়াণে শান্তিনিকেতনের এক পরিচিত অধ্যায়ের অবসান হল বলে মনে করছেন অনেকেই। তাঁর মৃত্যুতে শিল্প ও সংস্কৃতিমহলেও শোকের ছায়া নেমে এসেছে।