পুবের কলম ওয়েব ডেস্কঃ দিল্লি বিশ্ববিদ্যালয়ের সহকারী অধ্যাপিকা দেবস্মিতা পালের খুনের রহস্যের জট খুলেছে পুলিশ। এই ঘটনায় এক দম্পতিকে গ্রেফতার করা হয়েছে। অভিযুক্তরা পশ্চিমবঙ্গের পূর্ব বর্ধমান জেলার বাসিন্দা বলে জানিয়েছে পুলিশ। পুলিশের দাবি, প্রথমে ঘটনাটি ‘ব্লাইন্ড মার্ডার’ হিসেবে দেখা হলেও দীর্ঘ তদন্তের পর জানা যায়, খুনের নেপথ্যে ছিল কোটি টাকার সম্পত্তি নিয়ে বিরোধ।
আরও পড়ুন:
তদন্তে উঠে এসেছে, দেবস্মিতা পালের দাদুর পশ্চিমবঙ্গে একটি সম্পত্তি ছিল। সেখানে অভিযুক্ত দম্পতি ভাড়াটে হিসেবে থাকতেন।
পুলিশ সূত্রে খবর, ওই সম্পত্তির দখল নিতে চেয়েছিলেন তারা। অন্যদিকে দেবস্মিতা তাদের সম্পত্তি ছেড়ে দেওয়ার জন্য চাপ দিচ্ছিলেন। এই বিরোধ থেকেই খুনের পরিকল্পনা করা হয় বলে অভিযোগ।আরও পড়ুন:
এই বহুচর্চিত মামলার তদন্তে দিল্লি পুলিশের পূর্ব জেলা সাতটি বিশেষ দল গঠন করে। দিল্লি, উত্তরপ্রদেশ, হরিয়ানা এবং পশ্চিমবঙ্গে একাধিক জায়গায় তল্লাশি চালানো হয়। প্রায় ২০০ জনকে তদন্তের আওতায় আনা হয়েছিল, যাদের ঘটনার দিন আবাসনে উপস্থিতি বা গতিবিধি সন্দেহজনক বলে মনে হয়েছিল।
সিসিটিভি ফুটেজ, মোবাইল ফোনের তথ্য এবং প্রযুক্তিগত নজরদারির সাহায্যে ধীরে ধীরে অভিযুক্তদের চিহ্নিত করা সম্ভব হয়।আরও পড়ুন:
পুলিশ জানিয়েছে, অভিযুক্ত দম্পতি প্রায় ১,৪০০ কিলোমিটার দূর থেকে পশ্চিমবঙ্গ থেকে দিল্লিতে এসেছিলেন। অভিযোগ, আগে থেকেই পরিকল্পনা করে তারা নিউ অশোক নগরের আবাসনে পৌঁছন। যাতে কারও সন্দেহ না হয়, সে জন্য স্বাভাবিক আচরণ করার চেষ্টা করেন। তদন্তে আরও জানা গিয়েছে, অভিযুক্তরা তাদের ছোট সন্তানকেও সঙ্গে নিয়ে এসেছিলেন। পুলিশের মতে, নিজেদের একটি সাধারণ পরিবার হিসেবে তুলে ধরতে এবং নিরাপত্তার নজর এড়াতেই এই কৌশল নেওয়া হয়েছিল।
আরও পড়ুন:
পুলিশের দাবি, অভিযুক্তরা আগে থেকেই দেবস্মিতা পালের পরিচিত ছিলেন। সেই পরিচয়ের সূত্রেই তারা আবাসনে প্রবেশের সুযোগ পান। প্রথমে স্বাভাবিকভাবে কথা বলার পর হঠাৎই হামলা চালানো হয়। ঘটনার পর তারা পশ্চিমবঙ্গে ফিরে যান এবং গ্রেফতার এড়াতে বারবার অবস্থান বদল করছিলেন।
আরও পড়ুন:
দিল্লি পুলিশের বক্তব্য, সিসিটিভি ফুটেজ, মোবাইল লোকেশন এবং অন্যান্য ডিজিটাল প্রমাণ এই মামলার তদন্তে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নিয়েছে। সেই সূত্র ধরেই অভিযুক্তদের খোঁজ মেলে এবং শেষ পর্যন্ত তাদের গ্রেফতার করা সম্ভব হয়। পুলিশ জানিয়েছে, অভিযুক্তরা রাজ্যের বাইরে পালিয়ে যাওয়ায় তদন্ত যথেষ্ট চ্যালেঞ্জের ছিল। তবে একাধিক রাজ্যে তল্লাশি ও লাগাতার নজরদারির ফলে মামলার সমাধান হয়েছে।