SSC দুর্নীতি মামলায় বড় ধাক্কা, নতুন নিয়োগপ্রক্রিয়া থেকে বাদ ‘দাগি’ চাকরিপ্রার্থীরা

- আপডেট : ১০ জুলাই ২০২৫, বৃহস্পতিবার
- / 260
পুবের কলম ওয়েবডেস্ক: স্কুল সার্ভিস কমিশনের (SSC) নতুন নিয়োগ প্রক্রিয়ায় অংশগ্রহণ করতে পারবেন না ‘দাগি’ বা চিহ্নিত অযোগ্য চাকরিপ্রার্থীরা— স্পষ্ট জানিয়ে দিল কলকাতা হাই কোর্টের ডিভিশন বেঞ্চ। বৃহস্পতিবার (১০ জুলাই) বিচারপতি সৌমেন সেন ও বিচারপতি স্মিতা দাসের ডিভিশন বেঞ্চ জানিয়ে দেয়, বিচারপতি সৌগত ভট্টাচার্যের সিঙ্গল বেঞ্চের রায়ে হস্তক্ষেপের প্রয়োজন নেই। সেই রায় অনুযায়ী, ‘দাগি’ প্রার্থীরা নতুন নিয়োগ প্রক্রিয়ায় বসার কোনও সুযোগ পাবেন না।
ডিভিশন বেঞ্চের নির্দেশে আরও বলা হয়েছে, ইতিমধ্যে যাঁরা আবেদন করেছেন অথচ ‘দাগি’ তালিকায় রয়েছেন, তাঁদের আবেদনপত্রও বাতিল করতে হবে। নিয়োগ প্রক্রিয়া চালু থাকবে ৩০ মে স্কুল সার্ভিস কমিশন যে বিজ্ঞপ্তি জারি করেছিল, সেটিকে ভিত্তি করে। সেই নির্দেশের পিছনে রয়েছে সুপ্রিম কোর্টের আগের নির্দেশনামা— যেখানে নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে নিয়োগ শেষ করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল।
SSC এবং রাজ্য সরকার এই রায়ের বিরুদ্ধে ডিভিশন বেঞ্চে আপিল করেছিল। তাঁদের যুক্তি ছিল, যাঁদের চাকরি বাতিল হয়েছে ও যাঁরা বেতন ফেরত দিচ্ছেন, তাঁদের আবার নিয়োগের সুযোগ না দিলে ‘দ্বৈত শাস্তি’ দেওয়া হচ্ছে। রাজ্যের অ্যাডভোকেট জেনারেল কিশোর দত্ত আদালতে দাবি করেন, সংবিধানের ১৬ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী সরকারি চাকরিতে অংশগ্রহণের অধিকার মৌলিক। তাই ‘দাগি’ প্রার্থীদের বাদ দিলে তা হবে মৌলিক অধিকারে হস্তক্ষেপ।
SSC-র আইনজীবী কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়ও যুক্তি দেন, প্যানেল-বহির্ভূত, মেয়াদ উত্তীর্ণ প্যানেল বা সাদা খাতা জমা দিয়ে যাঁরা চাকরি পেয়েছিলেন, কেবল তাঁদেরই ‘দাগি’ বলা হয়েছে। তার বাইরে কাউকে চিহ্নিত করা হয়নি। নতুন নিয়োগ প্রক্রিয়ায় তাঁদের বসতে না দেওয়া হলে তা হবে বেআইনি।
এই যুক্তি মানতে নারাজ ডিভিশন বেঞ্চ। তারা স্পষ্টভাবে প্রশ্ন তোলে, SSC কেন এমন প্রার্থীদের পক্ষ নিচ্ছে, যাঁরা হাই কোর্টের রায়ে ‘অযোগ্য’ বলে চিহ্নিত? আদালতের মতে, ন্যায়বিচারের দিক থেকে ভাবলে, সিঙ্গল বেঞ্চের সিদ্ধান্ত যুক্তিযুক্ত এবং তা পালটানোর কোনও কারণ নেই।
উল্লেখ্য, SSC নিয়োগ দুর্নীতি মামলায় হাই কোর্ট আগেই কয়েকশো চাকরি বাতিল করে দেয় এবং একাধিক প্রার্থীকেই ‘দাগি’ বলে চিহ্নিত করে। সেই রায়কে সুপ্রিম কোর্টও মান্যতা দেয়। কিন্তু নতুন নিয়োগে সেই প্রার্থীরা বসতে পারবেন কি না— তা নিয়ে বিভ্রান্তি তৈরি হওয়ায় আদালতের দ্বারস্থ হয়েছিল কমিশন। তবে ডিভিশন বেঞ্চের এ দিনের রায়ের পর সেই বিতর্কের আপাতত অবসান ঘটল।
এই রায়ের ফলে যাঁরা আগেই চিহ্নিত অযোগ্য হয়েছেন, তাঁদের ভবিষ্যৎ কার্যত অনিশ্চিত হয়ে পড়ল। এ ধরনের প্রার্থীদের পক্ষে কোনও আইনি সুযোগ থাকছে না নতুন নিয়োগে বসার। আদালতের মতে, সরকারি চাকরিতে যোগ দেওয়ার আগে প্রার্থীর যোগ্যতা, নৈতিকতা এবং স্বচ্ছতা নিশ্চিত করাই প্রশাসনের কর্তব্য।